সরকার মাধ্যমিক পর্যায়ে বিনা বেতনে শিক্ষা চালুর পরিকল্পনা নিয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।শনিবার বিকেলে স্বতন্ত্র প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের (পিজিআর) ৩৯তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে পিজিআর সদস্যদের উদ্দেশে বক্তব্যদানকালে প্রধানমন্ত্রী এ কথা জানান।
মাধ্যমিকে অবৈতনিক শিক্ষা বাস্তবায়নে সবার কাছে দোয়া চেয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা চাই, ছেলে-মেয়েদের পড়াশুনা করাতে বাবা-মায়েদের যেন টাকা-পয়সা খরচ করতে না হয়! এ সময় তিনি প্রাথমিক পর্যায়ে অবৈতনিক শিক্ষা চালুর সুযোগ-সুবিধার কথাও তুলে ধরেন। বর্তমান সরকারের মেয়াদেই দেশের প্রতিটি ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়া হবে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।
বিদ্যুতের উন্নয়নে সরকারের সফলতা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, মানুষের প্রয়োজন মতো বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে। আমরা এ টার্মেই (মেয়াদ) প্রত্যেকের ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দিতে সক্ষম হবো। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের লক্ষ্য দরিদ্র মানুষের মুখে হাসি ফোটানো। সে লক্ষ্যেই কাজ করছে সরকার। বাংলাদেশের মানুষের দুঃখ-দুর্দশা দূর করতে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে বলেও জানান তিনি।
সশস্ত্র বাহিনীর প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে আমার আত্মার সর্ম্পক। দেশ ও জাতির সার্বিক উন্নয়নে সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকীকরণে সরকার বদ্ধপরিকর। এ সময় তিনি ১৯৭৫-এর ১৫ আগস্টে বঙ্গবন্ধু সপরিবারে নিহত হওয়ার ঘটনা স্মরণ করে বলেন, ১৫ আগস্ট শাহাদাৎবরণকারী আমার দুইভাই শেখ কামাল ও শেখ জামাল বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্য ছিল। জাতিসংঘ মিশনসহ দেশে-বিদেশে সশস্ত্র বাহিনী তাদের পেশাদারিত্বের মাধ্যমে দেশের সম্মান নিয়ে আসছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
স্বতন্ত্র পিজিআর সদস্যদের প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পিজিআর সদস্যদের একাগ্রতা, নিষ্ঠা, পেশাদারিত্বে আমি মুগ্ধ ও গর্বিত। রোদ-বৃষ্টি, ঝড় উপেক্ষা করে আপনারা অত্যন্ত বিশ্বস্ততা, শৃঙ্খলা, আনুগত্যের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।তিনি বলেন, আমাদের সেনাবাহিনী শান্তি রক্ষায় বিভিন্ন দেশে নিয়োজিত। আর্ন্তজাতিক অঙ্গনে শান্তি প্রতিষ্ঠায় দক্ষতা ও নিরলস পরিশ্রমের মাধ্যমে সেনাবাহিনী তাদের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ দিয়েছে। এ জন্য দেশ গর্বিত ও আশান্বিত। স্বতন্ত্র পিজিআর সদস্যরা সেই গর্বিত ও দক্ষ সেনাবাহিনী থেকে বিশেষভাবে নির্বাচিত। আপনাদের (পিজিআর সদস্য) পদচারণায় এবং কর্তব্য পালনে, একনিষ্ঠতায় আমি সুশৃঙ্খল ও পেশাদার বাহিনীর প্রতিবিম্ব দেখতে পাই। বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী পিজিআর ও সশস্ত্র বাহিনীর উন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন।
তিনি সামরিক জীবনে প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা অর্জনের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। সরকার সুশাসন নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়েছে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বর্তমান সরকার নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম, দুর্নীতি ও জঙ্গি দমন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট নিরসনের মতো চ্যালেঞ্জ নিয়ে কাজ করছে। সরকার এ দেশের সাধারণ মানুষের মুখে হাসি ফোটানো ও দেশের অগ্রগতির জন্য সবকিছু করবে।
১৬ মিনিটের বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের কথা তুলে ধরে আবারও ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশ ও ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। প্রধানমন্ত্রী শনিবার বিকেলে পিজিআর সদর দফতরে পৌঁছালে পিজিআরের একটি চৌকস দল তাকে গার্ড অব অনার প্রদর্শন করেন। প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন সময় কর্মরত অবস্থায় শহীদ স্বজনদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ও তাদের উপহার সামগ্রী প্রদান করেন।পরে প্রধানমন্ত্রী বিশেষ ইফতার ও প্রীতিভোজে অংশ নেন।




