শনিবার, আগস্ট ১৫, ২০২৬
প্রচ্ছদজাতীয়সাগর-রুনি হত্যার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ আবারো পেছালো

সাগর-রুনি হত্যার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ আবারো পেছালো

মাছরাঙ্গা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক গোলাম মোস্তফা সরোয়ার ওরফে সাগর সরোয়ার ও এটিএন বাংলার সিনিয়র রিপোর্টার মেহেরুন নাহার রুনা ওরফে মেহেরুন রুনি হত্যাকাণ্ডের তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য আগামী ১৩ আগস্ট দিন ধার্য করেছেন আদালত। রোববার মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার দিন ধার্য ছিল। কিন্তু মামলার তদন্ত কর্মকর্তা র‌্যাবের সহকারী পুলিশ সুপার ওয়ারেছ আলী কোনো প্রতিবেদন জমা না দেওয়ায় সিএমএম আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এরফান উল্লাহ আগামী ১৩ আগস্ট প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ধার্য করেছেন।

সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের পর গত ২৯ মাসের মাসেও মামলার কোনো অগ্রগতি হয়নি। মামলার বিভিন্ন আলামতের সঙ্গে গ্রেফতার আট আসামি ও সন্দেহভাজন ২১ আত্মীয়-স্বজনের ডিএনএ টেস্ট রিপোর্টের ওপরেই এখন ভরসা র‌্যাবের। সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্তের অগ্রগতি জানতে চেয়ে গত ১৬ মার্চ ঢাকার সিএমএম আদালত মামলার তদন্ত কর্মকর্তার কাছে প্রতিবেদন তলব করেছিলেন।

আদালতের নির্দেশে গত ২০ মার্চ তদন্ত কর্মকর্তা ওয়ারেছ আলী আদালতে একটি প্রতিবেদন দাখিল করেন। তাতে তিনি উল্লেখ করেন, মামলায় জব্দ আলামতের সঙ্গে ম্যাচিং করার জন্য গ্রেফতার আট আসামি ও সন্দেহভাজন ২১ আত্মীয়-স্বজনের নমুনা যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হয়েছে। আংশিক প্রতিবেদন পাওয়া গেছে। তবে বিস্তারিত প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি।

যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রাপ্ত ডিএনএ প্রতিবেদন ও তদন্ত ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে যথা শিগগির সম্ভব আদালতে চার্জশিট দেওয়া হবে। ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাতে রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারে নিজেদের ভাড়া বাসায় খুন হন সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি।

এরপর তিন তদন্ত কর্মকর্তা শেরেবাংলা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জহুরুল ইসলাম, ডিবি পুলিশের পরিদর্শক রবিউল আলম ও র‌্যাবের জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার জাফর উল্লাহর হাত ঘুরে বর্তমানে র‌্যাবের সহকারী পুলিশ সুপার ওয়ারেছ আলী মিয়া মামলাটি তদন্ত করছেন। মামলার বাদী নিহত মেহেরুন রুনির ভাই নওশের আলম রোমান বলেন, সাগর-রুনি হত্যার তদন্তে বর্তমানে কোনো অগ্রগতি নেই। র‌্যাব তদন্ত অগ্রগতির কোনো খবরও আমাদের জানায় না। মামলাটি দীর্ঘ সময় তদন্ত করেছেন র‌্যাবের জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার জাফর উল্লাহ। সম্প্রতি, তিনি মিশনে গেছেন।

এদিকে, ঘটনার আট মাস পর ২০১২ সালের ১০ অক্টোবর বনানী থানার একটি হত্যা ও ডাকাতি মামলায় গ্রেফতার থাকা পাঁচ আসামি মিন্টু ওরফে বারগিরা মিন্টু, বকুল মিয়া, কামরুল হাসান অরুণ, রফিকুল ইসলাম ও আবু সাঈদকে গ্রেফতার দেখিয়ে এ মামলায় রিমান্ড চাওয়া হয়।

এ ছাড়া ওইদিনই আরো দুই আসামি রুনির কথিত বন্ধু তানভীর রহমান ও বাড়ির দারোয়ান পলাশ রুদ্র পালকে গ্রেফতার এবং পরবর্তীতে অপর দারোয়ান আসামি এনাম আহমেদ ওরফে হুমায়ুন কবিরকে গ্রেফতার করা ছাড়া গত দুই বছরে মামলার তদন্তে আর কোনো অগ্রগতি নেই। মামলার তদন্তে কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় এবং সময় ক্ষেপণ করায় সংবাদমাধ্যম কর্মীদের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। মামলার নথি পর্যালোচনায় দেখা যায়, সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের পর হাইকোর্টের নির্দেশে ২০১২ সালের ১৮ এপ্রিল মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পায় র‌্যাব। এরপর র‌্যাবের জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার জাফর উল্লাহকে মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়।

এর পর পরই সাগর-রুনির লাশ কবরস্থান থেকে তোলার আবেদন করে র‌্যাব। ২০১২ সালের ২৬ এপ্রিল নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. শাহিদুজ্জামানের উপস্থিতিতে সাগর-রুনির লাশ তোলা হয়। তাতে পরীক্ষা করে দেখা যায়, নিহত সাগর-রুনিকে হত্যার আগে কোনো নেশাজাতীয় খাবার পানীয় দেওয়া হয়নি এবং কোনো বিষও পাওয়া যায়নি।

এরপর ২০১২ সালের ৭ জুন থেকে ১১ অক্টোবর পর্যন্ত জব্দ আলামতের সঙ্গে ম্যাচিং করার জন্য আট আসামি ও সন্দেহভাজন ২১ আত্মীয়ের নমুনা যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হয়। মূলত এরপরই মামলার তদন্তে স্থবিরতা নেমে আসে। গত দেড় বছরেও যুক্তরাষ্ট্র থেকে ডিএনএ টেস্টের ফলাফল র‌্যাবের কাছে আসেনি। মামলার নথি ও র‌্যাবের প্রতিবেদন পর্যালোচনায় মামলার তদন্তের অগ্রগতির আর কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

রোববার মামলাটি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ধার্য ছিল। কিন্তু কোনো তদন্ত প্রতিবেদন না আসায় আগামী ১৩ আগস্ট ফের তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ধার্য করেছেন আদালত। এ নিয়ে গত ২৯ মাসে ২৫ বার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ পেছালো।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ