প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের কোনো গণভিত্তি নেই বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সোমবার বিকালে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী। আমরা যাকে অবৈধ ও স্বঘোষিত প্রধানমন্ত্রী বলি, তিনি সম্প্রতি চীন সফর নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রেখেছেন। সেখানে শেখ হাসিনা অপ্রাসঙ্গিকভাবে দেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউরন রহমান, দেশনেত্রী খালেদা জিয়া ও আমাদের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান সম্পর্কে তার স্বভাবসূলভ কূটক্তি করেছেন। তিনি বলেছেন, মা চায় সংলাপ, ছেলে চায় রিমান্ড।
জিয়া হত্যার জন্য শেখ হাসিনাকে রিমান্ডে নেয়ার তারেক রহমানের দাবিকে সমর্থন জানিয়ে ফখরুল বলেন, এটা প্রাসঙ্গিক। তিনি অভিযোগ করেন, অবৈধ ও অনির্বাচিত হওয়ার কারণে এ সরকারের কোনো ধরনের নৈতিক ভিত্তি না থাকায় গলার জোরে নিজেদের দুর্বলতা ঢাকতেই শেখ হাসিনা এসব করছেন। জনগণের দৃষ্টি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতেই আওয়ামী লীগ ও তার নেত্রী এসব অপচেষ্টা চালাচ্ছে।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, জার্মান ও ইউরোপীয়ান ইউনিয়নের একটি প্রতিনিধিদল বিএনপি চেয়ারপারসনের সঙ্গে বৈঠককালে জানতে চান, রাজনৈতিক সংকট নিরসনে সংলাপের আয়োজন করা হলে তিনি তাতে রাজী কী না? তার জবাবে তিনি জানিয়েছেন, রাজনৈতিক অচলাবস্থা দূর করতে তিনি যেকোনো গ্রহণযোগ্য সংলাপে রাজী আছেন।
ফখরুল বলেন, ৫ জানুয়ারির অবৈধ নির্বাচন শুধু বিএনপি বা ১৯ দলীয় জোট বর্জন করেনি। দেশের সকল বিরোধী দল বিশেষ করে সিপিবি, গণফোরাম, বিকল্পধারাসহ সকল বিরোধী দল এ নির্বাচন বর্জন করেছে।
তিনি বলেন, সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেছেন তিনি দেশে ফেরার পর তাকে ৩২ নম্বরের বাড়ি নাকি বুঝিয়ে দেয়া হয়নি। অথচ ইতিহাস সাক্ষী হাসিনা দেশে ফেরার মাত্র ৫দিনের মধ্যেই তাকে ওই বাড়ি বুঝিয়ে দেয়া হয়। শুধু তাই নয়, একই সঙ্গে তাকে ওই বাড়ি থেকে উদ্ধার হওয়া বিপুল পরিমান সোনাদানাসহ বিভিন্ন মূল্যবান সম্পদও দিয়ে দেয়া হয়। শুধুমাত্র বিপুল সংখ্যক আগ্নেয়াস্ত্র ছাড়া। আমরা বুঝতে পারি না দেশের একজন প্রধানমন্ত্রীর বাড়িতে কেন এত বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র পাওয়া যাবে। এটা আমাদের বোধগম্যও নয়।
মির্জা ফখরুল বলেন, স্বঘোষিত প্রধানমন্ত্রী সংবাদ সম্মেলনে ভাঙা সুটকেস, শহীদ জিয়ার মৃত্যুর পর স্বৈরাচার এরশাদের কাছ থেকে তার পরিবারের সহযোগীতার বিষয়েও মিথ্যা প্রচারণা করেছেন। আমি শুধু বলব- দেশ থেকে সকল রাজনৈতিক শিষ্টাচার উঠে যাচ্ছে। সেদিন জিয়াউর রহমান শহীদ হওয়ার পর সংসদে সকলে ঐক্যমত হয়ে তার নাবালক পুত্রদের পড়ালেখার জন্য সরকার ১০ লাখ টাকা ফিক্সড ডিপোজিট করে দিয়েছিল। কারণ শহীদ জিয়ার অবিসংবাদিত সততার কথা সারা জাতি জানে। অথচ শেখ হাসিনা তার স্বভাবসূলভভঙ্গিতে এ বিষয়টি নিয়েও কটাক্ষ করেছেন।
আমরা বলতে চাই না ৮৬ সালে একনায়ক স্বৈরাচারের সঙ্গে লং ড্রাইভে গিয়ে বিপুল পরিমান টাকা পেয়েই তিনি এরশাদের অধীনে নির্বাচনে গিয়েছিলেন। অথচ তার দুদিন আগে তিনিই (শেখ হাসিনা) চট্টগ্রামে জনসভায় বলেছিলেন, ‘এরশাদের অধীনে যারা নির্বাচনে যাবে, তারা জাতীয় বেঈমান।’
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব সম্প্রতি লন্ডনে কমনওয়েথ বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দেয়া একটি বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। তিনি বলেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, গত ৫ জানুয়ারি নির্বাচনের সময় নাকি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া সেনাবাহিনীকে ক্ষমতা দখলের অনুরোধ জানিয়েছিলেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এ বক্তব্য সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও অবিচকসূলভ। আমরা সরকারের মন্ত্রীদের অনুরোধ করবো এ ধরণের মিথ্যচারের মাধ্যমে নির্দলীয় সরকারের জনদাবি থেকে জনগণের দৃষ্টি অন্যদিকে ফেরাতে তারা ঘৃণ্যপথ বেছে নেবেন না।
এক প্রশ্নের জবাবে ফখরুল বলেন, তাদের উদ্দেশ্য একদলীয় শাসন ফিরিয়ে আনা। ইতোমধ্যেই তারা তা করেছে। তা ভিন্ন আঙ্গিকে। অপর প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে এরশাদের কোনদিনই মিল ছিল না। এরশাদ তো সব সময়ই আওয়ামী লীগের সঙ্গেই রাজনীতি করেছে।




