মঙ্গলবার, অক্টোবর ২৭, ২০২৬
প্রচ্ছদজাতীয়উত্তরাঞ্চলে পরিবহন ধর্মঘটে জনদুর্ভোগ

উত্তরাঞ্চলে পরিবহন ধর্মঘটে জনদুর্ভোগ

ষ্টাফ  রিপোর্টার  (বিডিসময়২৪ডটকম)

চোখের সামনে ট্রেন ছেড়ে চলে গেল। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্য আতিকুর রহমান, তাঁর বোন ও দুই ভাগনি অসহায়ের মতো প্লাটফরমে দাঁড়িয়ে রইলেন। শেষ পর্যন্ত দুই ভাগনি আর কান্না চেপে রাখতে পারল না। আতিকুর রহমানকে আগামীকাল মঙ্গলবারই চট্টগ্রামে তাঁর কর্মস্থলে যোগদান করতে হবে। উত্তরাঞ্চলের ১৬ জেলায় পরিবহন ধর্মঘট চলাকালে ট্রেনের টিকিট না পেয়ে এই পরিবারটির মতো অনেকেই ঢাকায় যেতে পারেননি। কেউ কেউ উঠে পড়েছেন ইঞ্জিনের সামনে।

এদিকে আজ বেলা সাড়ে তিনটা থেকে রাজশাহী জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে রাজশাহী বিভাগের পরিবহন সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে প্রশাসনের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু কোনো সমঝোতা ছাড়াই বৈঠক শেষ হয়। বৈঠক শেষে পরিবহন সংগঠনের নেতারা জানিয়েছেন, ধর্মঘট চলবে। সড়কে অবৈধ যান চলাচল ও চাঁদাবাজি বন্ধসহ ছয় দাবিতে ‘বাস-ট্রাক মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের’ ডাকে গত রোববার থেকে উত্তরাঞ্চলের রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের ১৬ জেলায় পরিবহন ধর্মঘট শুরু হয়েছে। এ সময় কোথাও দূরপাল্লা বা আন্তজেলায় বাস, ট্রাক, ট্যাঙ্কলরি ও কাভার্ড ভ্যান চলাচল করেনি। ধর্মঘট চলাকালে গাড়ি বের করায় আজ শ্রমিকেরা একটি ভটভটি ও একটি পাওয়ার ট্রলিতে অগ্নিসংযোগ করেছেন। আরও অন্তত ১০টি ভটভটি ও একটি ট্রাকে ভাঙচুর চালিয়েছেন।

দূরপাল্লার যাত্রীদের একমাত্র ভরসা ছিল ট্রেন। বিকেলে ঢাকাগামী পদ্মা এক্সপ্রেস ট্রেন ছাড়ার সময় স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, প্লাটফরমে গিজগিজ করছে মানুষ। টিকিট না পেয়ে অনেক যাত্রী যেতে পারেননি। চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ১০ কার্টন পিউলি মাছ নিয়ে ঢাকায় যাওয়ার জন্য এসেছিলেন ব্যবসায়ী আবদুল লতিফ। কিন্তু ট্রেনে তাঁর জায়গা হয়নি। তিনি বলেন, এই মাছগুলো স্থানীয় বাজারে বিক্রি করলে তাঁর লোকসান হবে। এ জন্য মাছগুলো ঢাকায় নিয়ে যাওয়া জরুরি ছিল। তাঁর বিরাট ক্ষতি হয়ে গেল। চাঁপাইনবাবগঞ্জের স্কুলশিক্ষক মেজবাউল ইসলাম জরুরি কাজে ঢাকায় যাওয়ার জন্য এসেছিলেন। টিকিট না পেলেও যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন।  কিন্তু শেষ পর্যন্ত ট্রেনেই উঠতে পারেননি।  স্থানীয় যাত্রীরাও চরম বিপাকে পড়েছেন। বাঘা থেকে ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম জরুরি কাজে রাজশাহী আসছিলেন। তিনি বলেন, পা-চালিত ভ্যান, অটোরিকশায় করে ছয়বার গাড়ি বদল করে তাঁকে রাজশাহী আসতে হয়েছে। তিনি বলেন, সাধারণত রাজশাহীতে আসতে তার ৬০ টাকা খরচ হয়। আজ তার ১১০ টাকা খরচ হলো। সময় লাগলো দ্বিগুণ।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল ১০টায় রাজশাহী নগরের এএইচএম কামরুজ্জামান বাস টার্মিনালের সামনে দিয়ে যাচ্ছিল সিএনজিচালিত একটি অটোরিকশা। কোনো যাত্রী ছিল না। তার পরও শ্রমিকেরা গাড়িটি ভাঙচুর করে। চালককে পেটাতে পেটাতে শ্রমিকেরা নিয়ে যান। ভাঙা গাড়িটি পুলিশ থানায় নিয়ে যায়।

গত রোববার দিবাগত রাত ১১টার দিকে এএইচএম কামরুজ্জামান বাস টার্মিনালের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় মোটর শ্রমিকেরা একটি ভটভটিতে আগুন লাগিয়ে দেন। এ সময় নগরের বোয়ালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গিয়ে তাঁদের বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে তাঁরা তার সঙ্গে তর্ক জুড়ে দেন। এরপর তাঁরা টার্মিনালের একটু পূর্বদিকে একটি পাওয়ার ট্রলিতে একইভাবে আগুন লাগিয়ে দেন ও আরও একটি ট্রলি ভাঙচুরের চেষ্টা করেন। বোয়ালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুস সোবহান বলেন, ফোন করার পরে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি গিয়ে আগুন নেভায়।

ঐক্য পরিষদ ছয় দফা দাবিতে পরিবহন ধর্মঘট ডেকেছে। দাবিগুলো হলো—নছিমন, করিমন, ভটভটি, পাওয়ার টিলার, ট্রাক্টরসহ অবৈধ যান চলাচল বন্ধ, সিএনজি, মাহেন্দ্র, থ্রি হুইলার, হিউম্যান হলারের রুট পারমিট-বহির্ভূত এলাকায় চলাচল বন্ধ ও রুট পারমিট প্রদান বন্ধ, ইজারাকৃত বিআরটিসি ও দ্বিতল বাস উপজেলাভিত্তিক চলাচল বন্ধ, স্কেলের নামে অবৈধ চাঁদাবাজি বন্ধ, বিআরটিএর ট্যাক্স টোকেন ও ফিটনেসের বর্ধিত ফি প্রত্যাহার এবং সকল প্রকার পুলিশি হয়রানি বন্ধ করা।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ