ষ্টাফ রিপোর্টার (বিডিসময়২৪ডটকম)
সারাদেশে একের পর এক বন্ধ হয়ে যাওয়া প্রেক্ষাগৃহগুলো সরকারি সহযোগিতায় সচল হতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শনিবার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ২০১২ সালের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্তদের পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এ আশা ব্যক্ত করেন। এ সময় একই অনুষ্ঠানে উপস্থিত তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ারও নির্দেশ দেন তিনি।
চলচ্চিত্র নির্মাণে ডিজিটাল পদ্ধতির ব্যবহার জরুরি বলে মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, চলচ্চিত্র সমাজের কথা বলে, মানুষের কথা বলে। তাই চলচ্চিত্রের গুরুত্ব বুঝেই এর উন্নয়নে আওয়ামী লীগ অনেক উদ্যোগ নিয়েছে। চলচ্চিত্রকে শিল্পের সকল শাখার সম্মিলন বলে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, চলচ্চিত্র মানুষের জীবনযাত্রায় প্রভাব ফেলে, পরিবর্তন এনে দেয়। একটি জাতি গঠন, শিক্ষার বিস্তার এসব কিছুতেই চলচ্চিত্রের প্রভাব থাকে।
চিত্ত বিনোদনের অন্যতম উৎস হিসেবে চলচ্চিত্রের ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, পরিবারের সকল সদস্যকে নিয়ে দেখা যাবে এমন সিনেমা বেশি বেশি তৈরি হলে পারিবারিকভাবে চিত্ত বিনোদনের জন্য চলচ্চিত্রের প্রতি মানুষের আগ্রহ বাড়বে। শিশুদের জন্য উপযোগী চলচ্চিত্র বেশি বেশি নির্মাণের পরামর্শ দেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, চলচ্চিত্র এমন একটি মাধ্যম সেখানে মানুষ একাত্ম হয়ে যেতে পারে কারণ তার দৈনন্দিন জীবনের ঘটনা প্রবাহ নিয়েই চলচ্চিত্র তৈরি হয়। তরুণ সমাজকে বিপথে ঠেলে দিতে পারে এমন চলচ্চিত্র নির্মাণ না করার জন্য নির্মাতাদের প্রতি আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এটি ডিজিটাল যুগ, এই যুগের উপযোগী করে ডিজিটাল চলচ্চিত্র নির্মাণের দক্ষতা ও যোগ্যতা অর্জন করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী এসময় চলচ্চিত্রের গোড়ার দিনগুলোর কথা স্মরণ করে বলেন, সর্বকালের সেরা বাঙালি, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বিশেষ উৎসাহেই বাংলাদেশে চলচ্চিত্রের যাত্রা শুরু হয়। ১৯৫৬ সালে তৎকালীণ আওয়ামী লীগ সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় বাংলা চলচ্চিত্রের যাত্রার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।
দেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে চলচ্চিত্রের মাধ্যমে তুলে ধরার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যা কিছু মঙ্গলময় তা চলচ্চিত্রে ফুটিয়ে তুলতে হবে, আর যা কিছু ক্ষতিকর ও খারাপ তার প্রতি মানুষের অনীহা সৃষ্টি করতে এর ভয়াবহ পরিণতির দিকগুলো তুলে ধরতে হবে। অশ্লীলতা, ধুম ধারাক্কা থেকে চলচ্চিত্রকে মুক্ত করতে ১৯৯৬ সালে গঠিত তার সরকারের ভূমিকার কথাও স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রী।
জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রাপ্ত শিল্পী কলাকুশলীদের অভিনন্দন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, এই পুরস্কার একটি সুস্থ্য ধারার চলচ্চিত্র নির্মাণে অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে। তরুণ প্রজন্মের হাতে নতুন নতুন চলচ্চিত্র নির্মিত হচ্ছে, দর্শক হলে গিয়ে সিনেমা দেখছে, এর প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, তাদের হাতে ডিজিটাল যুগের উপযোগী আরও সুন্দর সুন্দর চলচ্চিত্র নির্মিত হবে এটাই প্রত্যাশা। প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রবীণরা পথ দেখাবে নবীনরা এগিয়ে যাবে এই হোক সকলের চেতনা।




