বুধবার, অক্টোবর ২৮, ২০২৬
প্রচ্ছদখেলার সময়নাজমুল যা বলবেন জার্গেনসেনকে

নাজমুল যা বলবেন জার্গেনসেনকে

দুজন একই দিনে ঢাকায় ফিরেছেন। একজন চিকিৎসা করিয়ে সিঙ্গাপুর থেকে, আরেকজন ছুটি কাটিয়ে অস্ট্রেলিয়া থেকে। সেই থেকে দুজন দুজনের বক্তব্য টেলিভিশনে দেখে থাকবেন। কিংবা পত্রিকায় পড়ে থাকবেন। পদত্যাগের ঘোষণা দেওয়ার পর বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসানের সঙ্গে এখনো দেখা হয়নি কোচ শেন জার্গেনসেনের। কথাও হয়নি। তবে ১ মে ঢাকায় ফেরার পর তাঁদের মধ্যে প্রথম যোগাযোগটা হয়েছে কাল। কোচ একটা মুঠোফোন বার্তা পাঠিয়েছেন বিসিবি সভাপতিকে। তাতে জানতে চেয়েছেন, আজ বোর্ড সভাপতির সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎকালে আর কে কে থাকবেন। বোর্ড সভাপতি উত্তর দিয়েছেন, ‘আমি একাই থাকব।’

নাজমুল হাসানের একা থাকার সিদ্ধান্ত হয়তো একটা আশার প্রদীপ জ্বালবে। ‘হয়তো’ শব্দটা লিখতে হচ্ছে জার্গেনসেনের মতামত জানতে না পারায়। কাল মুঠোফোনে চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি তাঁকে। জবাব দেননি খুদে বার্তারও। নইলে জানা যেত, বিসিবি সভাপতির প্রস্তাবে তিনি রাজি হবেন কি না। এ প্রস্তাবে কোচের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাওয়ার আশা একটা কারণেই। বোর্ড সভাপতির সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎটা যেহেতু হবে একান্তই দুজনের, প্রাণ খুলে কথা বলার সুযোগ থাকবে সেখানে। এখন পর্যন্ত জার্গেনসেনের পদত্যাগের প্রকাশ্য কারণ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ব্যর্থতার পর সংবাদমাধ্যমে কিছু বোর্ড পরিচালক কর্তৃক তাঁকে নিয়ে নেতিবাচক আলোচনা, ‘জার্গেনসেনকে বিদায় করে দিতে হবে’জাতীয় চরমপন্থী মন্তব্য। পদত্যাগপত্রে কোচ সে রকমই ইঙ্গিত দিয়েছেন। কিন্তু নাজমুল হাসানের মুখোমুখি বসে যখন তিনি জানবেন, এসব বক্তব্য একান্তই ওই সব বোর্ড পরিচালকদের নিজস্ব, তাঁকে নিয়ে সভাপতির চিন্তাভাবনা বরং সেগুলোর বিপরীতই, মত তো বদলাতেও পারেন জার্গেনসেন!

অস্ট্রেলিয়ান এই কোচ পদত্যাগপত্রেই বলেছেন, বিসিবি চাইলে আগামী মাসের ভারত সিরিজ পর্যন্ত দায়িত্ব পালনে রাজি আছেন। বোর্ড সভাপতি নাজমুল হাসানও কাল টেলিফোনে এই প্রতিবেদককে নিশ্চিত করলেন, ‘জার্গেনসেন ভারত সিরিজ পর্যন্ত থাকতে চাইলে অবশ্যই আমরা তাঁকে রাখব। এত অল্প সময়ে নতুন কোচ পাওয়া কঠিন।’ চুক্তি অনুযায়ী ২০১৫ বিশ্বকাপ পর্যন্ত বাংলাদেশ দলের কোচ থাকার কথা জার্গেনসেনের। কিন্তু নতুন পরিস্থিতিতে তিনি ভারত সিরিজ শেষেই চলে গেলে আগস্টের ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফর, নভেম্বরে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে হোম সিরিজ এবং বিশ্বকাপের জন্যও খুঁজতে হবে নতুন কোচ। কোচদের চড়া বাজারে কাজটা যে খুব একটা সহজ নয়, সে অভিজ্ঞতা আগেও হয়েছে বিসিবির। বিসিবি সভাপতিও কাল বলছিলেন, ‘একে তো বাংলাদেশে এসে বড় কোচরা থাকতে চান না, তার ওপর যে পরিমাণ টাকা তাঁরা চান, যেসব শর্ত দেন সেগুলো মানাও অনেক কঠিন। চাইলেই তো আমাদের পক্ষে কোচদের বেতন অনেক বাড়িয়ে দেওয়া সম্ভব নয়।’ এ অবস্থায় ২০১৫ বিশ্বকাপ পর্যন্ত জার্গেনসেনের থেকে যাওয়াটাকেই বিসিবির জন্য সবচেয়ে স্বস্তিকর মনে করছেন নাজমুল হাসান।

কিন্তু বিসিবি সভাপতি যে এর আগে বলেছেন, কোচ চলে যেতে চাইলে তাঁকে আটকানোর চেষ্টা করবেন না! হ্যাঁ, কথাটা তিনি কালও বললেন, ‘বাংলাদেশ দলের সঙ্গে কাজ করতে তাঁর (জার্গেনসেন) কোনো কারণে ভালো না লাগলে বা তিনি অন্যত্র ভালো চাকরির সন্ধান পেয়ে থাকলে আমরা তাঁকে আটকাব না।’ এরপরই একটা ‘কিন্তু’ জুড়ে দিয়ে যোগ করলেন, ‘…যদি তাঁর যাওয়ার কারণটা হয় নিরাপত্তাবোধের অভাব, তিনি যদি ভেবে থাকেন এখানে তাঁর চাকরি টিকবে না, তাহলে আমি তাঁকে বলব থেকে যেতে। ব্যাটিং, বোলিং, ফিল্ডিংয়ের জন্য আমাদের বিশেষজ্ঞ কোচ আনার চিন্তাভাবনা আছে। তবে জার্গেনসেনকে বাদ দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা কখনোই আমাদের ছিল না।’

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর থেকে শুধুই সমালোচনার তিরবিদ্ধ জার্গেনসেনকে কাল প্রশংসাবৃষ্টিতেও ভিজিয়েছেন বোর্ড সভাপতি, ‘শুধু সমালোচনা করলে হবে না। সাম্প্রতিক ব্যর্থতার জন্য আমি কোচকে দায়ী করছি না। আর এই খেলাগুলো বাদ দিলে শুরুর দিকে তো তাঁর অধীনে আমাদের দল ভালোই খেলছিল।’ নাজমুল হাসানের সঙ্গে আজকের দ্বিপক্ষীয় ও একান্ত আলোচনায় জার্গেনসেন হয়তো বুঝবেন, বিসিবির সবচেয়ে বড় ছাতাটাই তাঁর মাথার ওপর মেলে ধরা আছে। তাহলে আর রামশ্যাম-যদুমধুর হাওয়াই কথা না শুনে বিশ্বকাপ পর্যন্ত থেকে গেলে ক্ষতি কী! অবশ্য বাংলাদেশ থেকে মনটা একেবারেই উঠে গিয়ে থাকলে কিংবা সামনে নতুন কোনো দরজা খোলা থাকলে ভিন্ন কথা।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ