বুধবার, অক্টোবর ২৮, ২০২৬
প্রচ্ছদচট্রগ্রাম প্রতিদিনব্যাটারি চালিত রিকশার লাইসেন্স প্রদানসহ ৭দফা দাবিতে মানবন্ধন

ব্যাটারি চালিত রিকশার লাইসেন্স প্রদানসহ ৭দফা দাবিতে মানবন্ধন

চট্টগ্রাম অফিস (বিডি সময় ২৪ ডটকম)

ব্যাটারি চালিত রিকশার লাইসেন্স প্রদানসহ ৭দফা দাবিতে মানবন্ধন করেছে চট্টগ্রাম রিকশা ও ব্যাটারি রিকশা চালক-মালিক সংগ্রাম পরিষদ।  মঙ্গলবার দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে এ কর্মসুচি পালন করে তারা। পরে সিটি মেয়র এম মনজুর আলম, পুলিশ কমিশনার শফিকুল ইসলাম ও উপ পুলিশ কমিশনার(ট্রাফিক) ফারুক আহমেদের হাতে স্মারকলিপি তুলে দেন সংগঠনটির নেতারা।

সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি আবদুল কাদের মজুমদারের সভাপতিত্বে মানবন্ধনে বক্তব্য রাখেন জাতীয় শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক সফর আলী, সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক এম এ কাদের,  সহ সভাপতি কবির হোসেন, টিটু মহাজন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক  মো. জসিম, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. ফিরোজ আলম ও মো মহসিন।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন,‘ব্যাটারি চালিত রিকশা পরিবেশ বান্ধব বাহন। গ্যাস বা জ্বালানী তৈল অপচয় করে না পক্ষান্তরে অটো রিকশা ও ‍অটো টেম্পু পরিবেশ দূষণ করে। সুতরাং ব্যাটারি চালিত রিকশার লাইসেন্স এখন সময়ের দাবি।’

বক্তারা বলেন, ‘অনেকে দূর্ঘটনার অভিযোগ তুলেন। কিন্তু প্রতিনিয়ত অন্যান্য যানবাহনেও দুর্ঘটনা ঘটছে। তাই বলে কি ওই সব যানবাহন বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। আমরা বলবো প্রয়োজনে বিআরটিএ এর মাধ্যমে মালিকানা লাইসেন্স ও ট্রেনিংয়ের মাধ্যমে ড্রাইভিং লাইসেন্স দিলে দুর্ঘটনা বন্ধ হবে এবং সরকারও রাজস্ব পাবে।’ অবিলম্বে হয়রানি বন্ধসহ সাতদফা দাবি মেনে না নিলে হরতালসহ কঠোর কর্মসুচি ঘোষণা করা হবে বলে জানান বক্তারা।

সাত দফা দাবিগুলো হলো- উচ্চ আদালতের আবেদনকৃত ব্যাটারি চালিত রিকশার মালিকানা লাইসেন্স প্রদান করতে হবে, অবৈধ বিদ্যুৎ লাইন বিচ্ছিন্ন করার অজুহাতে গ্যারেজে ঢুকে চার্জার, মোটর, ব্যাটারি ছিনতাই না করে রিকশা মালিকদের বাণিজ্যিক বিদ্যুৎ মিটার দিতে হবে, আদালতের আদেশ অমান্য করে রাস্তায় রিকশা ভাংচুরকারী হুমকিদাতা সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নিতে হবে, সিটি করপোরেশনের ঘোষণাকৃত রিকশার মালিকানা লাইসেন্স প্রদান স্থগিত কেন তা জানাতে হবে, রিকশা ও ব্যাটারি চালিত রিকশা চালকদের বিনামূল্যে ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদান করতে হবে, রিকশা চুরি বন্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে, যানজট নিরসনে রাস্তা থেকে অবৈধ সিএনজি চালিত অটো রিকশা ও অটো টেম্পু উচ্ছেদ করতে হবে।

মানববন্ধন শেষে কয়েক’শ চালক মিছিল সহকারে নগর ভবনে যান। এসময় মেয়রের হাতে স্মারকলিপি তুলে দেন সংগ্রাম পরিষদের নেতারা। মেয়র এম মনজুর আলম বলেন,‘বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন। সুতরাং এ বিষয়ে আমার কিছু করার নেই। আদালত যে রায় দেয় আমরা সেটিই বাস্তবায়ন করবো।’

প্রসঙ্গত, নগরীতে অবৈধভাবে চলাচল করছে প্রায় ৩৫ হাজার ব্যাটারি চালিত রিকশা। হাইকোর্টের স্থগিতাদেশকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে প্রতি মাসে অবৈধভাবে সড়কে যুক্ত হচ্ছে কয়েক’শ রিকশা। এসব রিকশার বেপরোয়া গতির কারণে প্রতিদিনই ঘটছে দুর্ঘটনা। বাড়ছে আহতের সংখ্যাও। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই চালক বেপরোয়া গতি সামলাতে না পারায় প্রতিনিয়ত ঘটছে এ দুর্ঘটনা।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির তত্ত্বাবধায়ক জহিরুল ইসলাম বাংলানিউজকে বলেন,‘এমন কোনো দিন নেই যে ব্যাটারি রিকশায় আহত রোগী হাসপাতালে আসছেনা। প্রতিদিনই এসব রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। দুর্ঘটনায় অধিকাংশের হাত পা ভেঙ্গে যায়।’

আরও পড়ুন

সর্বশেষ