ন্যাশনাল ডেস্কঃ (বিডি সময় ২৪ ডটকম)
অতীতের সকল রেকর্ড ভঙ্গ করে খুলনার ৫উপজেলায় ভোট ডাকাতির কলঙ্ক লেপন করল শাসকদল আওয়ামী লীগ। প্রায় সব কেন্দ্রেই তাদের এই ভোট ডাকাতির ঘটনা পুলিশ ও প্রশাসন নিরব স্বাক্ষী হয়ে থাকল। অনেককেই বলতে শোনা গেছে ৮০’র দশকের কালো অধ্যায় আবার ফিরে এসেছে। এদিকে ভোট কারচুপি, জালভোট প্রাদান, এজেন্ট বের করে দেয়া ব্যাপক অনিয়মের প্রতিবাদে খুলনা জেলা বিএনপি খুলনার ৫টি উপজেলার ভোট বর্জন ঘোষণা করেছে। বিএনপি ও ১৯দল এই ৫ উপজেলায় পুনরায় ভোট গ্রহণের দাবিতে আজ সোমবার সকাল-সন্ধ্যা হরতাল আহবান করেছে। খুলনা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এড শফিকুল আলম মনা রোববার দুপুরে এই ভোট বর্জনের ঘোষণা দিয়ে হরতাল আহবান করেন। রোববার দুপুরে খুলনার রুপসার সামন্তসেনায় ব্যালট ব্ক্স ছিনতাই করতে গেলে পুলিশের সাথে সংঘর্ষ বাধে। এ সময় পুলিশ গুলি চালালে আওয়ামলীগের কর্মীরাও পাল্টা গুলি চালায়। গুলি বর্ষনে আওয়ামী লীগ নেতা, পুলিশসহ ৫জন গুলিবিদ্ধসহ ৮জন আহত হয়েছে। রূপসা থানার ওসি জানান সামান্ত সেনা দারুস ছুন্নাত সিদ্দিকিয়া দাখিল মাদ্রাসা ভোট কেন্দ্রের ব্যালেটবাক্স ছিনতাই করে নিয়ে যাবার সময় পুলিশ প্রায় ১০ রাউনাড গুলি বর্ষণ করে। এই সময় আওয়মী লীগ নেতা স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা আ: সালামসহ ৫জন গুলিবিদ্ধ এবং ইটের আঘাতে ২জন পুলিশ আহত হয়েছে। আহত অন্যরা হলো নায়েক মাসুদ, কনষ্টেবল কুতুব, আওয়ামী লীগ নেতারা হলো আ: সালাম, পিন্টু, হারুন, মাসুদ, আলম ও হিরা। এর মধ্যে আহত ৫জনকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এদিকে প্রায় প্রত্যেক কেন্দ্রে বিএনপি’র সমর্থকদের দেখা মাত্র আওয়ামী লীগের কর্মীরা পুলিশকে জানায় এবং পুলিশ ধাওয়া করে। যা ছিল আওয়ামী লীগ ও পুলিশের যৌথ ভোটার তাড়ানোর অভিযান। এই উপজেলায় বিএনপি’র চেয়ারম্যান প্রার্থী মনিরুল হাসান বাপ্পী ৩০টি কেন্দ্রে দখল করে ভোট ডাকাতির অভযোগ করেন।
রোববার দুপুর ২-৩০ মিনিটের দিকে ফুলতলা উপজেলার দামোদর পূর্বপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গেলে দেখা যায় ভোটারদের সরকারী দলের লোকদের সমানে সিল মারতে হচ্ছে। ক্যামেরা দেখে সিল দেয়ার যুবকরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে চলে যায়। পোলিং অফিসার বলেন তাদের করার কিছু নেই। ভোটকেন্দ্রে পুলিশ আনসাররা এই সময় দূরে নিরব হয়ে দাঁড়িয়ে ছিল।
আপরদিকে বিকাল পৌনে তিনটায় ফুলতলা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২য় তলায় গিয়ে দেখা যায় কয়েকজন যুবক ব্যালেট পেপার নিয়ে একের পর এক সিল মারছে। ক্যামেরা দেখে যুবকরা চলে গেলে সিল মারা ২০/২৫টি ব্যালট পেপার পড়ে থাকতে দেখা যায়। এই সময় মহিলা পোলিং মহিলা অফিসার তার নাম না বলে জানান ‘তিনি বড় অসহায়’। তবে এই কেন্দ্রের প্রিজাইডিং কর্মকর্তা মারুফ হোসেনের দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি জানান বিষয়টি বিছিন্ন ঘটনা। তিনি বলেন, পুলিশের কাজ আইন শৃংখলা রক্ষা করা তাদের করার কিছু নাই। এই সময় সাংবাদিকদের ক্যামেরা কেড়ে ভাংচুরের হুমকী দেয়া হলেও পুলিশ নিরব থাকে। একই সময় ফুলতলার স্থানীয় লিটু মেম্বার সাংবাদিকদের হুমকী দিয়ে জানায়, তিন ভোট পেয়ে সরকার গঠন করেছি উপজেলায় আমরা যা বলব তাই হবে। তিনি সাংবাদিকদের দ্রুত কেন্দ্র ত্যাগ না করলে গাড়ি, ক্যামেরা ভাংচুরের হুমকী দেন। লিটু মেম্বার ও তার স্ত্রী মিলে কয়েক শত জাল ভোট দিয়েছে বলে ভোট কেন্দ্রের সামনে নিজেরা গর্ব করে সকলকে শুনাচ্ছেন। এই সময় অনেক জাতীয় পত্রিকার সাংবাদিকদের এলাকা ত্যাগ করে চলে যেতে দেখা যায়।
ফুলতলা এন এস সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গেলে ফুলতলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান কোন সাংবাদিক ভোট কেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারবে না। কয়েক জন নির্বাচন কমিশনের পরিচয়পত্র দেখিয়ে এটা তাহলে দিয়েছে কেন জানতে চাইলে ওসি ইলিয়াস ফকির নিরব থাকেন। এক বুথে প্রবেশ করতেই দেখা যায় এক যুবক ব্যালট পেপার নিয়ে বাইরে দৌড় দিচ্ছে। প্রিজাইডিং অফিসার মো: আসাদুজ্জামান জানান, এই কেন্দ্রের মোট ভোট ৩৫৩৭জন। সেই সময় দুপুর ২টা ২৫ মিনিটেসময় তিনি জানান, ৮০% ভোট দেয়া হয়ে গেছে। অথচ ভোট কেন্দ্রের বাইরে অনেক ভোটার অপেক্ষায় ছিল, তারা সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ জানান, ভোট কেন্দ্রে পুলিশ কোন ভোটারদের প্রবেশ করতে দিচ্ছে না।
তার আগে সকাল দশটার দিকে বটিয়াঘাটা উপজেলার ঝিানাইখালী ভোট কেন্দ্রে গেলে জাল ভোট দেবার অভিযোগ শোনা যায়। পরে এই ভোট কেন্দ্রের সামনে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া চলে। বিএনপির চেয়ারম্যান প্রার্থী আমাীর এজাজ খানের এজেন্টকে কেন্দ্র থেকে বের করে দিয়ে ব্যলট পেপারে সিল মারার বিষয় জানতে চাইলে প্রিসাইডিং অফিসার রফিকুল ইসলাম দু:খ করে বলেন, পুলিশ নিরব থাকলে তারা কি করবেন। এই সময় বিজিবি ও একজন ম্যাজিষ্টেটকে কেন্দ্রে আসতে দেখা যায়।
একই সময় ভোট কেন্দ্র পরিদর্শনরত বিএনপি নেতা আমির এজাজ খান জানান শনিবার রাতভোর পুলিশ বিএনপি নেতা কর্মীদের বাড়ী বাড়ী গিয়ে ভোট কেন্দ্রে না যাবার জন্য হুমকী দিয়েছে। ভোট চলাকালে রবিবার সকালে জামিরা ইউনিয়নের জামায়াতের আমীর মাওলানা সাইফুল ইসলামকে গ্রেফতার করে। ভোট কেন্দ্রে আশে পাশে বিএনপির কাউকেই পুলিশ থাকতে দিচ্ছে না। এমনই অবস্থা ছিল ৫ উপজেলা অধিকাংশ কেন্দ্রে।
রোববার সকালে তেরখাদা উপজেলার আনন্দ নগর ভোট কেন্দ্র আওয়ামী লীগ দখল করে নেয়। এই সময় বিএনপি সকল এজন্টদের বের করে দিয়ে পুলিশের উপস্থিততিতেই জাল ভোট দিতে শুরু করে। তেরখাদার সকল ভোট কেন্দ্রে এই চিত্র শুরু হলে সকাল দশটায় বিএনপি চেয়ারম্যান প্রার্থী মেজবাউল আলম ভোট বর্জনের প্রথম ঘোষণা দেন এবং সোমবার সকাল-সন্ধ্যা হরতালের আহবান জানান।




