ন্যাশনাল ডেস্কঃ (বিডি সময় ২৪ ডটকম)
কেন্দ্র দখল, ব্যালট ছিনতাই ও সহিংসতার মধ্য দিয়ে শেষ হলো ৪৩টি জেলার ৯১টি উপজেলায় উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের চতুর্থ পর্বের ভোট গ্রহণ। চতুর্থ দফায় উপজেলা পরিষদ নির্বাচন চলাকালে মুন্সীগঞ্জ, কুমিল্লা,ঝালকাঠি এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সহিংসতায় চারজন নিহত হয়েছে। প্রতিনিধিদের পাঠানো সংবাদের উপর ভিত্তি করে নির্বাচনী সহিংসতার খবর বিস্তারিত তুলে ধরা হলো।
মুন্সীগঞ্জ
মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় আওয়ামী লীগের দু’পক্ষের সংঘর্ষে ইউপি চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা শামসুদ্দীন প্রধান নিহত হয়েছেন। রবিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। গজারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুন-অর-রশিদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সকালে বালিয়াকান্দি ইউনিয়নে নির্বাচনের কাজ করছিলেন শামসুদ্দিন প্রধান। এ সময় আওয়ামী লীগের দু’পক্ষের লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।এসময় শামসুদ্দিন গুলিবিদ্ধ হন। গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকায় নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
কুমিল্লা
কুমিল্লার বরুয়া উপজেলায় এক যুবদল কর্মী নিহত হয়েছেন। নিহত যুবদল কর্মীর নাম মো. মনির হোসেন (২৫)। তিনি উপজেলার হোসেনপুর গ্রামের রমিজউদ্দিনের ছেলে। বরুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম কাওসার জানান, বিকাল সাড়ে তিনটার দিকে বিএনপি কর্মীরা ভোটকেন্দ্র দখল করতে গেলে পুলিশ বাধা দেয়। পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে হামলা চালালে পুলিশও গুলি চালায়। এসময় একজন গুলিবিদ্ধ হয়। পরে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজে নেওয়া হলে তিনি মারা যান।
ঝালকাঠি
ঝালকাঠির রাজাপুর থানায় নির্বাচনী সহিংসতায় আওয়ামী লীগ সমর্থক রিপন মারা গেছেন এবং সকালে নির্বাচনী সংঘর্ষে তিনি আহত হলেও পরে তিনি হাসপাতালে মার যান।
বি. বাড়িয়া
ব্রাক্ষণবাড়িয়ার ভোটগ্রহণকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও আ’লীগের কর্মীদের সংঘর্ষের সময় বিজিবির গুলিতে হাদিস মিয়া (৩৫) নামে এক বিএনপি কর্মী নিহত হয়েছেন। নিহত হাদিস মিয়া আখাউড়া পৌরসভা বিএনপির সভাপতি বেলাল কমিশনারের ছোট ভাই।
প্রতক্ষ্যদর্শীরা জানান, বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলা আ’লীগ সমর্থিত প্রার্থীর সমর্থকরা আখাউড়ার তারাগঞ্জ ভোটকেন্দ্র দখল করে ভোট দেওয়ার চেষ্টা করে। এসময় বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীর সমর্থকরা বাধা দিলে উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিজিবি গুলি ছুঁড়লে ঘটনাস্থলেই বিএনপি কর্মী হাদিস মিয়া নিহত হন।
বিজিবির ১২ ব্যাটালিয়ানের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক মেজর এরশাদুল হক জানান, সংঘর্ষের সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ আনতে ফাঁকা গুলি ছুঁড়লে এক বিএনপি কর্মীর মৃত্যু হয়। প্রতক্ষ্যদর্শীরা অভিযোগ করে বলেন, বিজিবি বিএনপির কর্মীদের উপরই গুলি চালায়। আর এতে হাদিস মিয়া মারা যান।




