চট্টগ্রাম অফিস (বিডি সময় ২৪ ডটকম)
চাঞ্চল্যকর ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল আবছার হত্যা মামলায় সাতকানিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল মোনাফকে বাদ দিয়ে দাখিল করা অভিযোগপত্রের বিরুদ্ধে জজ আদালতে গেছেন বাদিপক্ষ। মোনাফসহ ৬ জনকে মামলা থেকে অব্যাহতি দিয়ে দাখিল করা অভিযোগপত্র বাদির নারাজি আবেদন প্রত্যাখান করে গত ২৭ জানুয়ারি গ্রহণ করেন চট্টগ্রামের বিচারিক হাকিম ইশরাত জাহান।
মঙ্গলবার এর বিরুদ্ধে বাদিপক্ষ চট্টগ্রাম জেলা ও দায়রা জজ এ এফ এম মোস্তফা’র আদালতে রিভিশন দায়ের করেন। বাদির দাখিল করা রিভিশনে সিআইডির এএসপি হ্লা চিং প্রু’র বিরুদ্ধে পক্ষপাতদুষ্ট তদন্তের অভিযোগ আনা হয়।
বাদিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট জাফর ইকবাল বলেন, নারাজি আবেদন নামঞ্জুরের আদেশে সংক্ষুব্ধ হয়ে আমাদের দাখিল করা রিভিশন আদালত গ্রহণ করেছেন। জেলা ও দায়রা জজ নিম্ন আদালতের কাছে এ মামলার নথি তলব করেছেন। আর এ বিষয়ে আগামী ২০ মার্চ আদেশ দেবেন বলে জানিয়েছেন আদালত।
অভিযোগপত্রে বাদ পড়া এজাহারের ছয় আসামী হলেন, সাতকানিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল মোনাফ, চেয়ারম্যান আবছারের ফুফাত ভাই ওসমান গণি চৌধুরী, আবু তাহের, শওকত আলী, সরোয়ার সালাম এবং এনামুল হক।
২০১১ সালের ২৫ ডিসেম্বর রাত দেড়টার দিকে নলুয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান অধ্যাপক নুরুল আবছারকে ঘরের বারান্দায় পায়চারি করার সময় গুলি করে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা। শুরু থেকেই এ ঘটনার সঙ্গে উপজেলা চেয়ারম্যানের সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠে। এ ঘটনার পর ২৭ ডিসেম্বর নিহতের বাবা আহম্মদ হোসেন বাদি হয়ে সাতকানিয়া থানায় অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
২০১৩ সালের ৩০ জুলাই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও সিআইডির চট্টগ্রাম অঞ্চলের সহকারী পুলিশ সুপার হ্লা চিং প্রু উপজেলা চেয়ারম্যানসহ ছয়জনকে বাদ দিয়ে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
অভিযোগপত্রভুক্ত আসামিরা হলেন শাহ আলম, মাহমুদুল হক ওরফে কালা মাদু, দিল মোহাম্মদ, মোহাম্মদ ইলিয়াছ, মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন, আবদুল জলিল, জাগির ওরফে জাকির হোসেন, লেদু ওরফে জয়নাল আবেদিন, নেজাম উদ্দিন এবং লতিফ।
মামলার বাদি অভিযোগপত্রের ওপর নারাজি ও পুন:তদন্তের আবেদন জানান। এতে তিনি অভিযোগ করেন, সিআইডি রাজনৈতিক পক্ষপাতদুষ্ট হয়ে মামলাটি তদন্ত করেছেন এবং অভিযোগপত্র থেকে দুই আওয়ামী লীগ নেতাসহ মোট ছয় জনকে অব্যাহতি দেয়ার সুপারিশ করেছেন।




