স্পোর্টস ডেস্ক (বিডি সময় ২৪ ডটকম)
ভারতের বিপক্ষে ২৭৯ রানের লড়াকু স্কোর করেও বিরাট কোহলির অধিনায়কোচিত ইনিংসে হার মানল বাংলাদেশ। এশিয়া কাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে স্বাগতিকরা হেরেছে ছয় উইকেটে। ছয় বল বাকি থাকতেই লক্ষ্যে পৌঁছে যায় কোহলির দল।
বাংলাদেশ: ২৭৯/৭ (৫০ ওভার)
ভারত: ২৮০/৪ (৪৯ ওভার)
ফল: ভারত জয়ী ছয় উইকেটে
শুরুতে রান না দিয়ে ভারতকে চাপে ফেলেছিল বাংলাদেশ। এরপর দুই ওপেনার শিখর ধাওয়ান ও রোহিত শর্মাকে চার রানের ব্যবধানে সাজঘরে পাঠিয়ে ভালো নিয়ন্ত্রণ নেয় স্বাগতিকরা। কিন্তু বিরাট কোহলি তার ৩১তম ফিফটিকে ১৯তম শতকে পরিণত করেন ৯৫ বলে। ১২২ বলে ১৬ চার ও দুই ছয়ে ইনিংস সেরা ১৩৬ রানে রুবেল হোসেনের কাছে বোল্ড হন এই ডানহাতি। অজিঙ্কা রাহানের সঙ্গে ২১৩ রানের অনবদ্য জুটি গড়েন কোহলি।
রাহানেও দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়তে পারেননি। ৭৩ রানে সোহাগ গাজীর শিকার হন তিনি। দিনেশ কার্তিক ২ ও অম্বতি রাইডু ৯ রানে অপরাজিত থেকে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন। এর আগে শুরুতে মাশরাফি মুর্তজা ও রুবেল হোসেন প্রথম তিন ওভারে ভারতকে এক রান দেয়। কিন্তু পরে ঘুরে দাঁড়ায় সাবেক চ্যাম্পিয়নরা। চতুর্থ ওভারের পর বোলারদের উপর চেপে বসে ভারতের উদ্বোধনী জুটি। অষ্টম ওভারে একবার রুবেল বোল্ড করেছিলেন ধাওয়ানকে, কিন্তু সেটা ফ্রি হিট ছিল বলে ফলপ্রসূ ছিল না।
অবশেষে ৫০ রানের এই জুটি ভাঙতে সফল হন আব্দুর রাজ্জাক। অভিজ্ঞ স্পিনার ধাওয়ানকে ২৮ রানে এলবিডব্লুর ফাঁদে ফেলেন। পরের ওভারে জিয়াউর রহমান রোহিতকে ২১ রানে বোল্ড করেন। এরপরই কোহলি ও রাহানের দারুণ এক ইনিংসে বাংলাদেশের হার তরান্বিত হয়।
এদিন একেবারেই সামনে থেকে ব্যাটিংয়ে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম। ক্যারিয়ার সেরা ওয়ানডে পারফরমেন্স করে ভারতের বিপক্ষে দলকে এনে দিলেন লড়াই করার মতো সংগ্রহ। সাত উইকেটে তাদের সংগ্রহ ২৭৯ রান। এশিয়া কাপে এটি বাংলাদেশের চতুর্থ দলীয় সর্বোচ্চ, আর ভারতের বিপক্ষে তৃতীয় সেরা।
১২৫টি ওয়ানডে ম্যাচ খেলে মুশফিকুর রহিমের মাত্র একটি মাত্র শতক, তাও সেটা ২০১১ সালের ১৬ আগস্ট জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। অবশেষে ওয়ানডেতে অধরা শতকটি পেলেন টেস্টে দেশের একমাত্র ডাবল সেঞ্চুরিয়ান। ১০৪ বলে পাঁচ চার ও দুই ছয়ে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি পান তিনি।
এর আগে ৪৯ রানের মধ্যে দুই উইকেট হারালেও এনামুল হক ও মুশফিকুর রহিমের হাফ সেঞ্চুরিতে পথে ফিরেছিল বাংলাদেশ। ৬৭ বলে প্রথম ফিফটি পাওয়া এনামুল থেমেছেন ৭৭ রানে। ১০৬ বলে পাঁচটি চার ও তিন ছয়ে সাজানো ইনিংসটি বোল্ড করে থামান বরুন অ্যারন।
এশিয়া কাপের দ্বিতীয় ম্যাচে পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন ভারত টস জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয়। শামসুর ও এনামুলের উদ্বোধনী জুটি ভালো সূচনার ইঙ্গিত দিলেও ১৬ রানে সেটা ভেঙে যায়। ৭ রানে মোহাম্মদ সামির শর্ট বলে অফ সাইডে ফিরতি ক্যাচ তুলে দেন শামসুর। ১৩তম ওভারের প্রথম বলে রবিচন্দ্রন অশ্বিনের বলটি এগিয়ে এসে মারতে গিয়ে স্ট্যাম্পিং হন মুমিনুল হক।
তিনটি করে চার ও ছয়ে এনামুল অর্ধশতক করেন। আর মুশফিক ৬৫ বলে তিন চারে ৫০ রানে পৌঁছান। তারা দুজনে ১৩৩ রানের জুটি গড়েন। নাঈম ইসলাম বেশিক্ষণ ক্রিজে টিকতে পারেননি। সামির বলে অশ্বিনের তালুবন্দি হন ১৭ রানে।
এক ওভার বিরতি দিয়ে ভারতীয় পেসারের তৃতীয় শিকার হন নাসির হোসেন (১)। জিয়াউর রহমান দুটি চার ও এক ছয়ে ১৮ রানে আউট হন।
এই ভারতের বিপক্ষে ২০০৮ সালে করাচিতে অলক কাপালি এশিয়া কাপের বিপক্ষে সর্বোচ্চ ১১৫ রান করেন। ছয় বছর পর সেই রেকর্ড ভেঙে দেন মুশফিক, ১১২ বলে সাত চার ও দুই ছয়ে ১১৭ রানে সামির কাছে উইকেট হারান অধিনায়ক। সোহাগ গাজী তিন ও মাশরাফি বিন মুতর্জা ১ রানে অপরাজিত খেলছিলেন।
আল-আমিন হোসেনের পরিবর্তে দলে জায়গা পেয়েছেন জিয়াউর রহমান। আরাফাত সানির স্থানে দলে ঢুকেছেন আব্দুর রাজ্জাক।




