ষ্টাফ রিপোর্টার (বিডিসময়২৪ডটকম)
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বেদখলে থাকা তিব্বত হলের দখল নিয়ে স্বতন্ত্র সাংসদ হাজি মোহাম্মদ সেলিম ও বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ পাল্টাপাল্টি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সম্পত্তির মালিকানার পক্ষে কোনো দালিলিক প্রমাণ দেখাতে পারলে সম্পত্তির দাবি ছেড়ে দেবেন বলে জানিয়েছেন হাজি সেলিম। আর ছাত্রলীগ জানিয়েছে, বৈধ কাগজপত্র দেওয়ার ব্যাপারে প্রশাসন সহায়তা না করলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে রোববার তারা হলের দখল নেবেন।
শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর গুলশান আরা সিটিতে এক সংবাদ সম্মেলনে হাজি সেলিম বলেন, যদি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ওই সম্পত্তির মালিকানার পক্ষে কোনো দালিলিক প্রমাণ যেমন—দলিল, রেকর্ড, পরচা, পানি-বিদ্যুত্-গ্যাসের বিল, হোল্ডিং ট্যাক্স ইত্যাদি উপস্থাপন করতে পারেন, তা হলে আমি এ সম্পত্তির দাবি পরিত্যাগ করব।
এ ব্যাপারে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের সভাপতি শরিফুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, তিব্বত হল জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈধ সম্পত্তি। ১৯৮৫ সালে তত্কালীন তিব্বত ছাত্রাবাসের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দাদের সংঘর্ষ হয়। তখন কিছুদিন ওই ছাত্রাবাস ফাঁকা ছিল। এই সুযোগে তত্কালীন বিএনপি-সমর্থিত ওয়ার্ড কমিশনার হাজি সেলিম সন্ত্রাসীদের নিয়ে ছাত্রাবাসটি দখল করে নেন।
শরিফুল ইসলাম আরও বলেন, বৈধ কাগজপত্রের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। প্রশাসন সহায়তা না করলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়েই রোববার আমরা ওই হলের দখল নেব।
তবে হাজি সেলিম সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলেছেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগ গুলশান আরা সিটির সম্পত্তি নিয়ে যে অভিযোগ এনেছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও কল্পনাপ্রসূত। রাজনৈতিকভাবে হেয় করার জন্যই আমার বিরুদ্ধে হল দখলের মতো অভিযোগ আনা হয়েছে। সেলিমের দাবি, সম্পত্তিটি কখনো জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মালিকানাধীন ছিল না। সম্পত্তিটি মৌলভি খাজা আবদুল্লাহ ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের। ২০০২ সালে মদিনা ডেভেলপমেন্টস লিমিটেডের সঙ্গে ওই ট্রাস্টের বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণ চুক্তি হওয়ার পর এখানে মার্কেট নির্মিত হয়েছে। এ ছাড়াও ১৯৮৫ সালের ১৭ মার্চ তত্কালীন জগন্নাথ কলেজের অধ্যক্ষ স্বাক্ষরিত একটি পত্রেও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর ৮ নম্বর কুমারটুলিতে অর্থাত্ গুলশান আরা সিটি মার্কেটের জায়গায় জগন্নাথ কলেজের (বর্তমান বিশ্ববিদ্যালয়) কোনো হল নেই বলে উল্লেখ রয়েছে।
হাজি সেলিম আরও বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যও আমাকে বলেছেন, এই সম্পত্তির বিষয়ে তাঁদের কোনো দালিলিক প্রমাণ নেই। এমনকি সরকারি নথিতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের যে নয়টি হলের নামের উল্লেখ আছে, সেখানেও তিব্বত হলের কোনো নাম নেই। আর ২ নম্বর জমিতে আমি কেন এত বড় মার্কেট নির্মাণ করতে যাব? শুধু সংসদে ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে বক্তব্য দেওয়ার কারণেই আমার বিরুদ্ধে আন্দোলন চলছে।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বেদখলে থাকা তিব্বত হল উদ্ধারের দাবিতে গতকাল বৃহস্পতিবার সড়ক ও প্রশাসনিক ভবন অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। সাধারণ শিক্ষার্থীরাও এ কর্মসূচিতে যোগ দেন। ছাত্রলীগের অভিযোগ, ওই হলের জমিটিতে ১০ তলা মার্কেট (গুলশান আরা সিটি) করে ব্যবসা করছেন হাজি সেলিম। অথচ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আবাসনের কোনো ব্যবস্থা নেই। তাই দাবি আদায়ে আন্দোলন চালিয়ে যাবেন তাঁরা।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ থাকা অবস্থায় ১৯৮৫ সালের দিকে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এলাকাবাসীর সংঘর্ষের পর তিব্বত ছাত্রাবাসটি বেদখলে চলে যায়। ওই ছাত্রাবাসে প্রায় ৪০০ শিক্ষার্থীর আবাসন-ব্যবস্থা ছিল। পরে তিব্বত ছাত্রাবাসটি হাইকোর্টের রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে নিজের নিয়ন্ত্রণে নেন হাজি সেলিম। পরে ২০০৫ সালে কলেজ থেকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর ছাত্রাবাসের নামটি ‘তিব্বত হল’ নামে পরিচিতি পায়। এর পর থেকে হলটি উদ্ধারে আন্দোলন করে যাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। ওই হলটিসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের আরও নয়টি হল (ছাত্রাবাস) বেদখলে রয়েছে।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনা প্রসঙ্গে গত সোমবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে এক অনির্ধারিত আলোচনায় হাজি সেলিম বলেছিলেন, শিবির রগ কাটে আর ছাত্রলীগ কবজি কাটে, মাথা কাটে।
হাজি সেলিমের এমন বক্তব্যের পরদিন গত মঙ্গলবার গণমাধ্যমে এক প্রতিবাদলিপি দেন ছাত্রলীগের সভাপতি এইচ এম বদিউজ্জামান ও সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকী নাজমুল আলম। প্রতিবাদলিপিতে ছাত্রলীগকে জামায়াত-শিবিরের সঙ্গে তুলনা করায় হাজি মো. সেলিমকে অশিক্ষিত টোকাই, মূর্খলোক ও খুনি এরশাদ শিকদারের বন্ধু বলে আখ্যায়িত করা হয়।




