শনিবার, আগস্ট ১৫, ২০২৬
প্রচ্ছদআরো খবর......সাবেক মেয়র মহিউদ্দিন চৌধুরীর স্ত্রীর বিরুদ্ধে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বসতভিটা থেকে উচ্ছেদের অভিযোগ

সাবেক মেয়র মহিউদ্দিন চৌধুরীর স্ত্রীর বিরুদ্ধে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বসতভিটা থেকে উচ্ছেদের অভিযোগ

চট্টগ্রাম অফিস (বিডি সময় ২৪ ডটকম)

সাবেক মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর স্ত্রী বেগম হাসিনা মহিউদ্দিনের বিরুদ্ধে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের এক মুক্তিযোদ্ধা ও তার পরিবারকে বসতভিটা থেকে উচ্ছেদের অভিযোগ উঠেছে। বুধবার চট্টগ্রাম প্রেসকাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন নগরীর কে সি দে রোড এলাকার বাসিন্দা ঝিনু রাণী বড়ুয়া। তিনি অসুস্থ মুক্তিযোদ্ধা অমল বড়ুয়া লাতুর স্ত্রী। সংবাদ সম্মেলনে তিনি তাদের হয়রানির জন্য মহিউদ্দিনের সাবেক পিএস ও নগর আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক হাসান মাহমুদ শমসের, উপ-দপ্তর সম্পাদক ও স্থানীয় কাউন্সিলর জহরলাল হাজারী এবং মহিউদ্দনের ভাগ্নে মেজবাহ উদ্দিন চৌধুরী নোবেলকেও অভিযুক্ত করেন। এ ব্যাপারে পরিবারটি প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

স্বামী ও তিন সন্তানকে পাশে নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে কান্নাজড়িত কণ্ঠে ঝিনু রাণী বলেন, আমি ২০০১ সালের ১৭ জুন তাপস চৌধুরীর কাছ থেকে জায়গার রেজিস্ট্রি নিই। তখন মেয়র ছিলেন এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী। তার স্ত্রী হাসিনা মহিউদ্দিনের ইঙ্গিতে এক মাসের মধ্যে আমার স্বামীকে পুলিশ গ্রেফতার করে মাদক আইনে মামলা দেয়। তিনি বলেন, আমার কেনা জায়গায় পূর্বদিকে হাসিনা মহিউদ্দিনের জায়গা। ২০০১ সালে হাসিনা মহিউদ্দিন আমার জায়গায় তার স্বত্ত্ব দাবি করে আদালতে মামলা দায়ের করেন। ২০০৫ সালে মামলাটি খারিজ হয়। ২০০৬ সালে তিনি আবারও আরেকটি মামলা করেন। মামলাটি জজকোর্টে বিচারাধীন আছে। ক্ষমতার জোরে তিনি এ কাজে সিটি কর্পোরেশনকেও যুক্ত করেছেন।

ঝিনু রাণী বড়ুয়া বলেন, আমি তার বিরুদ্ধে কখনও মামলা করিনি। তিনি কয়েক বছর ধরে আমাদের বিরুদ্ধে মামলা করছেন, হুমকি দিচ্ছেন। এ ব্যাপারে ২০১২ সালে থানায় জিডিও করেছিলাম। তিনি জানান, ২০১২ সালের ১৭ নভেম্বর সন্ত্রাসীদের দিয়ে তাদের বাড়ি ও দোকানে ভাঙচুর চালানো হয়। এসময় তৎকালীন শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়ার হস্তক্ষেপ দখল থেকে রক্ষা পান তারা। এরপর ক্ষমতার জোরে আইনের ফাঁকফোকর বের করে সিটি কর্পোরেশনের মাধ্যমে সেই ঘরকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়। গত ২০ ও ২১ জানুয়ারি বসতঘর সিটি কর্পোরেশন ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেয়।
ঝিনু রাণী বলেন, যেদিন সিটি কর্পোরেশন ঘর ভেঙ্গে দেন অদ্ভুতভাবে সেদিন বিকেলে হাসিনা মহিউদ্দিন আদালতের মাধ্যমে ওই জায়গায় কোন স্থাপনা গড়তে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।
তিনি অভিযোগ করেন, এপিএস শমসের বারবার এসে আমাদের হুমকি দিচ্ছে আমরা যেন বাড়ি ছেড়ে চলে যাই। রাত-বিরাতে এসে মহিউদ্দিন চৌধুরীর ভাগ্নে নোবেল হুমকি দিচ্ছে আমাদের। কাউন্সিলর জহরলাল হাজারীর কাছে গেলে তিনি বলেন, উনি (হাসিনা মহিউদ্দিন) যখন বলছেন আপনি চলে যান। কাউন্সিলর কথায় কথায় ধমক দেন।
এ বিষয়ে মহিউদ্দিন চৌধুরীর কাছে কোন অভিযোগ করেছেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমি উনাকে টেলিফোন করেছিলাম। কে ধরেছে আমি জানিনা। তাকে এ বিষয়ে বললে তিনি বলেছেন, মহিউদ্দিন চৌধুরী এসব বিষয়ে মাথা ঘামান না। আপনার আইনে যা হয় তা-ই করুন”।
সিটি কর্পোরেশনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে তিনি বলেন, সিটি কর্পোরেশন হঠাৎ আমাদের বসতঘরকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করে নোটিশ দেয়। সেখানে উচ্ছেদের কোন তারিখ ছিলনা। কিন্তু হঠাৎ এসে আমার ঘর ভেঙ্গে আমাকে পথে বসিয়ে দিয়েছে। আমি এখন খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছি। নিজের অসুস্থ স্বামী ও সন্তানদের রার জন্য, মাথা গোঁজার ঠাঁই বসতভিটা রার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানান এই মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী।
উল্লেখ্য সাবেক মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর স্ত্রী বেগম হাসিনা মহিউদ্দিন চট্টগ্রাম মহানগর মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি। এবার সংরতি আসনে সংসদ সদস্য প্রার্থী হিসেবে তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়নের চেষ্টা করছেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ