ভারতে অবস্থানরত দণ্ডাদেশপ্রাপ্ত শেখ হাসিনাকে বন্দী বিনিময় চুক্তির আওতায় দেশে ফিরিয়ে আনতে আইনি সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনা আইনের দৃষ্টিতে একজন অপরাধী।’ তাকে প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী ফেরত পাঠানোর জন্য ভারতের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে। এ চুক্তির আওতায় ভারত সরকার তাকে ফেরত দেবে বলে আশা করছে সরকার।
রোববার রাজধানীর একটি হোটেলে অধস্তন আদালতের বিচারকদের ‘বিচারিক কার্যক্রমে শুদ্ধাচার’ বিষয়ক কর্মশালার উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন আইনমন্ত্রী।
শেখ হাসিনার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে আসাদুজ্জামান বলেন, ‘আমার কাছে উনি অপরাধী। আমাদের ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক সাজাপ্রাপ্ত একজন অপরাধী। এটা হলো আমাদের কাছে তার পরিচয়। ভারত শেখ হাসিনাকে কীভাবে দেখছে, সেটি তাদের বিষয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সেটা তারা কী বলছেন, তাদের বললে তো হবে না। আমার রাষ্ট্রের কাছে ওপেন আদালতে বিচার হয়েছে।
বিচার বিভাগের ক্ষতি প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার আর্থিক দুর্নীতির চেয়ে বুদ্ধিবৃত্তিক দুর্নীতির মাধ্যমে বিচার বিভাগের বেশি ক্ষতি করেছে। যেসব বিচারকের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে সরকার ও প্রধান বিচারপতি।
আসাদুজ্জামান বলেন, একবার সুপ্রিম কোর্টের স্থায়ী বিচারক হয়ে গেলে তার কাজে আর সরকার হস্তক্ষেপ করবে না। বিচার বিভাগের পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠায় সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সংবিধান সংশোধন করে তা বাস্তবায়ন করা হবে বলেও জানান তিনি।
আগামী ১৯ নভেম্বর আন্তর্জাতিক আদালতে রোহিঙ্গা গণহত্যা নিয়ে রায় হবে। ওই রায়ে বাংলাদেশ ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করছে বলে মন্তব্য করেন আইনমন্ত্রী।
এদিকে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, বিচারব্যবস্থার সুফল পেতে হলে স্বাধীন ও রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত বিচার বিভাগ প্রতিষ্ঠা অপরিহার্য।




