সোমবার, সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬
প্রচ্ছদদেশজুড়েজাসদ কার্যালয় থেকে আটক ২৪৯ জন মুক্ত

জাসদ কার্যালয় থেকে আটক ২৪৯ জন মুক্ত

ঢাকার গুলিস্তানে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) প্রধান কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে আটক ২৭৮ জনের মধ্যে ২৪৯ জনকে ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ। বাকি ২৯ জনের পরিচয় যাচাই-বাছাই চলছে। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে এ তথ্য দিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মতিঝিল বিভাগের সহকারী কমিশনার (এসি) সাকিবুল আলম ভূঁইয়া। এর আগে, শনিবার জাসদের প্রধান কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে প্রায় ৩০০ জনকে হেফাজতে নেওয়ার কথা জানিয়েছিল পুলিশ।

তিনি বলেন, আমরা জাসদের নেতাদের কাছ থেকে কাগজপত্র (নেতা-কর্মীদের তালিকা) নিয়েছি। সেসব দেখে যাচাই-বাছাই করে পরিচয় শনাক্ত হওয়ায় ২৪৯ জনকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। পুলিশের হেফাজতে আরও ২৯ জন আছেন। তাদেরও পরিচয় যাচাই-বাছাই চলছে। পরিচয় শনাক্ত হলে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি বলে পুলিশের এই কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

উপকমিশনার হারুন অর রশিদ বলেছিলেন, আমাদের কাছে একটি তথ্য ছিল, জাসদ এবং তাদের সাথে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গ সংগঠনের সদস্যরা একত্রিত হয়ে নাশকতা করার উদ্দেশ্যে অথবা অন্য কোনো অসৎ উদ্দেশ্যে এখানে জড়ো হয়েছিলেন। তো এ সংবাদ পেয়ে আমাদের পুলিশ প্রাথমিক ব্যবস্থাগুলো নিয়েছে। স্থানীয় ছাত্র-জনতা পুলিশকে সহায়তা করেছে।

আটকদের মধ্যে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) একাংশের সাবেক সভাপতি সাংবাদিক নেতা আবু জাফর সূর্য ছিল। প্রায় ১৫ ঘণ্টা পর রোববার ভোর ৫টার দিকে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

ঘটনার বিষয়ে আবু জাফর সূর্য বলেন, তিনি একসময় জাসদের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও বর্তমানে অনেকটাই নিষ্ক্রিয়। শনিবার জাসদের কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি সভা থাকায় পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি পুরনো রাজনৈতিক সহযোদ্ধাদের সঙ্গে দেখা করতে সেখানে গিয়েছিলেন বলে ভাষ্য তার।

আবু জাফর সূর্য বলেন, সভা চলছিল। তখন হঠাৎ নিচতলার প্রধান ফটকে হট্টগোল ও স্লোগানের শব্দ শুনে নিচে নামি। পুলিশকে নিজের সাংবাদিক পরিচয় দিই। এরপরও পুলিশ আমাকে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে আটক করে। পরিচয়পত্র দেখানোর পরও বিষয়টি আমলে নেয়নি এবং দীর্ঘ সময় থানায় আটকে রাখে। পরে কয়েক দফায় জিজ্ঞাসাবাদের পর ভোর ৫টার দিকে আমাকে মুক্তি দেওয়া হয়।

পুলিশ ও বিএনপির সহযোগী সংগঠন যুবদলের স্থানীয় নেতা-কর্মীদের ভূমিকা নিয়ে অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, শুরুতে পুলিশের আচরণ ‘অনাকাঙ্ক্ষিত হলেও’ পরে তাদের ভূমিকার পরিবর্তন হয়। যুবদলের স্থানীয় নেতা রবিউল ইসলাম নয়নের নেতৃত্বে সেখানে ‘মব’ তৈরি করে হামলা চালানো হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি। তবে এ বিষয়ে যুবদলের ওই নেতার বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

জাসদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পুলিশ প্রশাসনকে অবহিত করে এবং লিখিত অনুমতি নিয়েই প্রতিনিধি সভার আয়োজন করা হয়েছিল।

পুলিশের কাছে জাসদ কার্যালয়ের সামনে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়ার তথ্য রয়েছে বলেও জানিয়েছিলেন উপকমিশনার হারুন অর রশিদ। পাশাপাশি সেখানে অন্য কোনো কর্মকাণ্ড হয়েছে কি না এবং কেন তারা একত্রিত হয়েছিলেন, তা যাচাই করে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছিলেন।

উপকমিশনার তখন বলেছিলেন, যাচাই-বাছাই করে যাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে, তাদের বিরুদ্ধে মামলা বা আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে না, তাদের ছেড়ে দেওয়া হবে।

অভিযানের সময় ডিএমপির গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগের উপকমিশনার মো. আকতার হোসেন বলেছিলেন, কার্যালয়ের সামনে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান এবং ভেতরে একটি সভা চলার তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ সেখানে গিয়ে অনেককে নিয়ে যাচ্ছে। এর আগে অভিযান শুরুর সময় পল্টন থানার এসআই নাজমুল হোসেন জানিয়েছিলেন, জাসদ কার্যালয়ের ভেতরে অন্তত ৪০০ লোক ছিলেন।

অন্যদিকে জাসদের দপ্তর সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেনের দাবি ছিল, সারাদেশ থেকে আসা প্রায় সাড়ে তিনশ নেতাকে নিয়ে প্রতিনিধি সভা চলার সময় দুপুর আড়াইটার দিকে বিএনপি ও যুবদলের নেতা-কর্মীরা সেখানে হামলা চালান।

তিনি বলেছিলেন, প্রতিনিধি সভায় বিএনপি ও যুবদলের নেতাকর্মীরা হামলা চালায়। আমরা অফিসে অবরুদ্ধ আছি। পুলিশ আসছে, হয়তো অ্যারেস্ট করবে।

জাসদের এই নেতার দাবি অনুযায়ী, পরে পুলিশ বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের কার্যালয় থেকে বের করে দিয়ে জাসদের নেতা-কর্মীদের আটক শুরু করে। তবে বিএনপি ও যুবদলের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

শনিবার দুপুর আড়াইটার দিকে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা জাসদ কার্যালয়ে প্রবেশ করেন। এ সময় ঢাকা দক্ষিণ যুবদলের সদস্য সচিব রবিউল ইসলাম নয়নকে সেখানে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা ‘গোপন বৈঠক’ করছেন বলে বলতে দেখা যায়। জাসদের পক্ষ থেকে সেই অভিযোগ অস্বীকার করে বলা হয়, সেখানে দলটির প্রতিনিধি সভা চলছিল এবং আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের সেখানে থাকার প্রশ্নই আসে না।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ