সোমবার, সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬
প্রচ্ছদঅর্থ ও বানিজ্য সময়সংজ্ঞা পরিবর্তন করে খেলাপি ঋণ কমাতে চায় বাংলাদেশ ব্যাংক

সংজ্ঞা পরিবর্তন করে খেলাপি ঋণ কমাতে চায় বাংলাদেশ ব্যাংক

আন্তর্জাতিক পদ্ধতি মেনে, সংজ্ঞা পরিবর্তনের মাধ্যমে আওয়ামী আমলের লুকিয়ে রাখা খেলাপি ঋণের প্রকৃত তথ্য বের করে আনে অন্তর্বর্তী সরকার। যে পদ্ধতিতে সবশেষ গেল জুনে ব্যাংকিং খাতের খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়ায় ৬ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকায়, যা বিতরণ করা ঋণের এক-তৃতীয়াংশ।

ইতিমধ্যে খেলাপি ঋণ কমাতে ঋণগ্রহীতাদের জন্য নানা সুবিধা দিলেও এখন সর্বোচ্চ ঋণখেলাপির দেশ বাংলাদেশ। খেলাপির অংকটা কম দেখাতে আগের পদ্ধতিতে ফিরতে পারে বাংলাদেশ ব্যাংক। ৯ মাস কিস্তি পরিশোধ না হলে শুধু সেই মেয়াদি ঋণকেই খেলাপি দেখানো হতে পারে। যেখানে বর্তমানে তিন মাস পরই খেলাপি ঘোষণা করা হয়।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে খাপ খায় না—এই কারণে খেলাপি গ্রাহকদের এসব ফাইন্যান্সে অ্যাক্সেস পাওয়া থেকে বিরত রাখি। তবে সেটা এই মুহূর্তে ইকোনমির জন্য খুব বেশি শুভ লক্ষণ হবে না। অতএব, আমার মনে হয়, কেন্দ্রীয় ব্যাংকসহ যারা নীতিনির্ধারক আছেন, তারা হয়তো বিষয়টা রিথিংক করতে পারেন। লোন ক্লাসিফিকেশনের যে স্ট্যান্ডার্ড, এটাকে আবার রিভিজিট করা দরকার কি না।

যদিও বিশ্লেষকরা বলছেন, পুরনো পথে হাঁটলে হয়তো কাগজে-কলমে লক্ষ্য পূরণ হবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের। তবে আদায় হবে না খেলাপি ঋণ।

তবে বিআইবিএমের সাবেক মহাপরিচালক ড. তৌফিক আহমদ চৌধুরী বলেন, খেলাপিকে আমরা খেলাপি বলতে পারব না? এইটা কেমন কথা? এখন যদি আবারও আমরা সেই জায়গায় ফেরত যাই, তাহলে তো ডেফিনেটলি আবারও বাংলাদেশ ব্যাংকের অবজেক্টিভ সাকসেসফুল হবে। আবার আপনি দেখাইতে পারবেন যে, আমি ১১ থেকে ১২ পার্সেন্টে কমিয়ে আনছি। কিন্তু আসলে তো কমল না।

অর্থনীতিবিদরা আরও বলছেন, প্রকৃত তথ্য গোপন করে খেলাপি ঋণ কম দেখানোর সংস্কৃতিতে ফিরে গেলে দেশের ব্যাংকিং খাত দেউলিয়া হওয়ার ঝুঁকিতে পড়বে।

এদিকে বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, যে ব্যাংকগুলো এই শিথিলতার সুযোগ নিয়ে বেশি ঋণ দিয়েছে এবং টাকা ফেরত আসেনি, তাদের প্রভিশনিংয়ের রিকোয়ারমেন্ট আর নেই। আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো জেনে হোক, না জেনে হোক—একটা ক্রাইসিসের দিকে, মানে ইনসলভেন্সির দিকে, দেউলিয়া হওয়ার পথে চলে যাবে।

আয় না বাড়ায় বিপুল পরিমাণ খেলাপি ঋণের বিপরীতে নিরাপত্তা সঞ্চিতি রাখতে ব্যর্থ হচ্ছে ব্যাংকগুলো। গেল জুন শেষে এ খাতে প্রভিশন ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ২২ হাজার কোটি টাকায়।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ