রেল প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ বলেছেন, নতুন করে রেলের কোনো জমি লিজ দেওয়া হবে না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বর্তমানে যেসব লিজ রয়েছে সেগুলো পর্যবেক্ষণ করা হবে। যেখানে আইনি বাধা থাকবে না সেখানে লিজ বাতিল করে জমিগুলো পুনর্গঠন করা হবে। রেলের অনেক জায়গায় সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।
শনিবার সকালে চট্টগ্রাম–কক্সবাজার রেলপথ পরিদর্শন শেষে বিকালে চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ঢাকা–চট্টগ্রাম ও ঢাকা–কক্সবাজার রুটে যাত্রীসেবা বাড়াতে সরকার কাজ করছে। ঢাকা–চট্টগ্রাম রেলপথে যাত্রার সময় আরো কমিয়ে আনা এবং ঢাকা–কক্সবাজারগামী ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনার নিয়ে কাজ করছে সরকার। তিনি বলেন, বর্তমানে ঢাকা ও চট্টগ্রাম থেকে থেকে চার জোড়া ট্রেন কক্সবাজারে চলাচল করছে। যাত্রীর চাহিদা বিবেচনায় এই সংখ্যা পাঁচ জোড়ায় উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, ঢাকা–চট্টগ্রাম রুটের দূরত্ব কমানোর জন্য নারায়ণগঞ্জ থেকে কুমিল্লা পর্যন্ত নতুন কর্ডলাইন নির্মাণের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা চলছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ঢাকা–চট্টগ্রাম রুটের দূরত্ব প্রায় ৮০ কিলোমিটার কমবে এবং ভ্রমণ সময় প্রায় ১ ঘণ্টা ২০ মিনিট কমে আসবে। তিনি বলেন, ঢাকা–চট্টগ্রাম ও ঢাকা–কক্সবাজার রুটে যাত্রীসেবা বাড়াতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। নতুন কর্ডলাইন নির্মিত হলে দেশের অন্যতম ব্যস্ত রেলপথে যাতায়াত আরো দ্রুত ও সাশ্রয়ী হবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, রেলপথে সময়নিষ্ঠ সেবা নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে বড় লক্ষ্য। রেলের বিদ্যমান সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার করে যাত্রীসেবা উন্নত করা হবে। ট্রেন নির্ধারিত সময়ের পরিবর্তে আধা ঘণ্টা বা এক ঘণ্টা দেরিতে চলাচল কেন হচ্ছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এর সুফল যাত্রীরা দেখতে পাবেন।
চট্টগ্রামে রেলের জায়গায় অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ এবং কিছু কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সেইসব স্থাপনা ভাড়া দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এটি একটি গণতান্ত্রিক সরকার। জনগণের কাছে আমাদের জবাবদিহিতা রয়েছে। তাই যেকোনো অভিযোগ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রেলের টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান ব্যবস্থায় দলীয়করণের সুযোগ নেই। এরপরও কোথাও অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ সময় রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যস্থাপক (জিএম) প্রকৌশলী মো. সবুক্তগীণসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।




