বুধবার, অক্টোবর ২৮, ২০২৬
প্রচ্ছদআরো খবর...... একান্ত সাক্ষাৎকারে ভূমি প্রতিমন্ত্রী ।। কর্ণফুলীতে টানেল এবং পারকী সৈকত উন্নয়ন...

একান্ত সাক্ষাৎকারে ভূমি প্রতিমন্ত্রী ।। কর্ণফুলীতে টানেল এবং পারকী সৈকত উন্নয়ন সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাবে ।। ‘ঢাকা-চট্টগ্রাম এক্সপ্রেসওয়ে ও ইন্ডাষ্টিয়াল পার্ক চাই’

চট্টগ্রাম অফিস (বিডি সময় ২৪ ডটকম)

চট্টগ্রামের অর্থনৈতিক গুরুত্বের দিক বিবেচনা করে ঢাকা–চট্টগ্রাম এক্সপ্রেসওয়ে চান ভূমি প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ। কীভাবে এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ করা যায় সেই ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর কাছে একটি প্রস্তাবনা দেয়ার কথাও বললেন তিনি। তবে তার কাজে প্রাধান্য পাবে কর্ণফুলী নদীর তলদেশে টানেল নির্মাণ এবং পারকী সমুদ্র সৈকতের উন্নয়ন। এছাড়া চট্টগ্রামে দুটি সরকারি স্কুল এবং আনোয়ারায় একটি কলেজ ও একটি স্কুল করার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর।

বিডি সময় ২৪ ডটকম র সাথে একান্ত সাক্ষাৎকারে সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ চট্টগ্রামের উন্নয়নে তাঁর বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা জানান। বর্তমান সরকার গত মেয়াদে আনোয়ারায় অর্থনৈতিক জোন গড়ে তোলার পরিকল্পনা করেছিল। এই মেয়াদে তা বাস্তবায়নে নিজের উদ্যোগের কথা জানতে চাইলে তিনি বলেন, চট্টগ্রাম অর্থনৈতিক দিক দিয়ে অনেক গুরুত্বপূর্ণ। আমি চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি থাকাকালে এখানকার উন্নয়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে কথা বলেছি। এখন সেইগুলো বাস্তবায়নের চেষ্টা করব। একটি ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক গড়ে তুলব। আনোয়ারায় অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার ব্যাপারে চীন ও জাপান আগ্রহী। এখন তাদের সাথে কথা বলব।

চট্টগ্রামের পাশাপাশি আনোয়ারা–পশ্চিম পটিয়া নিয়ে উন্নয়ন পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাইলে জাবেদ জানান, আমি সারা দেশের জন্য মন্ত্রী হয়েছি। পাশাপাশি চট্টগ্রাম–দক্ষিণ চট্টগ্রামের জন্যও কাজ করতে হবে। আমার অনেকগুলো কাজের মধ্যে কর্ণফুলীতে টানেল নির্মাণের বিষয়টি অনেক গুরুত্বপূর্ণ। এই ব্যাপারে গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ আংকেলসহ আমরা বসে পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাব। এই টানেলের মাধ্যমে দক্ষিণ চট্টগ্রামের সাথে চট্টগ্রামের যোগাযোগ স্থাপন করা আমার প্রথম কাজের মধ্যে একটি। এছাড়া যোগাযোগ ব্যবস্থা–অবকাঠামোগত উন্নয়নের পরিকল্পনা রয়েছে। চট্টগ্রামের সর্বস্তরের মানুষ যাতে এক কাতারে এসে মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের সম্মান জানাতে পারে, সেজন্য চট্টগ্রামে একটি স্মৃতিসৌধ নির্মাণ এবং বিনোদনের জন্য ইকোপার্ক গড়ে তোলারও পরিকল্পনা আছে।

চট্টগ্রামের শিল্প–কারখানার গ্যাস সংকট প্রসঙ্গে ভূমি প্রতিমন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রামে গ্যাস সংকট প্রকট। ব্যবসায়ীরা বছরের পর বছর গ্যাস সংযোগ পাচ্ছেন না। শিল্প–কারখানায় এর ব্যাপক প্রভাব পড়ছে। গ্যাস সংকট নিরসনে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘ মেয়াদি কী উদ্যোগ নেয়া যায় চিন্তা করব।

ভূমি মন্ত্রণালয় নিয়ে তাঁর পরিকল্পনার কথা জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ভূমি নিয়ে সারা দেশে মানুষের ভোগান্তি–হয়রানির কথা প্রায় শোনা যায়। তাই হয়রানি রোধে ভূমি রেজিস্ট্রেশন–মিউটিশন ডিজিটালাইজ করার কথা ভাবছি। দুর্নীতি রোধ এবং হয়রানি রোধে ওয়ানস্টপ সার্ভিস চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। যেহেতু এখানে আইন মন্ত্রণালয়ও জড়িত, তাই তাদের সাথেও কথা বলব। এটা করা গেলে সেবার মান বাড়বে। এছাড়া মাঠ পর্যায়ে জরিপের কথাও ভাবছি। লোকবলের অভাবে অনেক কাজ ইচ্ছে থাকলেও হয় না, তাই লোকবল বাড়ানো হবে।

ভূমি প্রতিমন্ত্রী জানান, আনোয়ারাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি, আনোয়ারায় একটি সরকারি স্কুল এবং একটি কলেজের। তাদের দাবি পূরণে সর্বাত্মক উদ্যোগ নেব। একই সাথে চট্টগ্রামে আরো দুটি সরকারি স্কুল করার উদ্যোগ নেব। স্বাধীনতার ৪২ বছর পরও চট্টগ্রামে নতুন কোনো সরকারি স্কুল হয়নি।

পারকী সমুদ্র সৈকত নিয়ে নিজের চিন্তা প্রসঙ্গে তিনি জানান, পারকী সমুদ্র সৈকতকে ঘিরে যাতে পর্যটকরা পূর্ণাঙ্গ পর্যটনের আনন্দ খুঁজে পান, এই ব্যাপারে আমার চিন্তা–ভাবনা রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে পর্যটনমন্ত্রীর সাথে কথা বলব। পারকীকে পূর্ণাঙ্গরূপে সাজানো গেলে শুধু আনোয়ারা নয়, দক্ষিণ চট্টগ্রামবাসীর জীবনযাত্রায় ব্যাপক উন্নয়ন ঘটবে। সেইসাথে দেশের পর্যটন শিল্পেরও প্রসার ঘটবে। চট্টগ্রাম শহরের কাছে বঙ্গোপসাগর ও কর্ণফুলীর মোহনায় এ সৈকতের অবস্থান হওয়ায় পারকী নিঃসন্দেহে পর্যটক টানতে সক্ষম হবে এবং অনেক রাজস্বও আয় হবে। তাই পারকীর উন্নয়নে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হবে।

কর্ণফুলীর উভয় তীরের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ প্রসঙ্গে জাবেদ বলেন, কর্ণফুলীর উভয় তীরের সরকারি খাস জমিসহ সারা দেশের খাস জমি নিয়ে আমি একটি ল্যান্ড ব্যাংক করব। সারা দেশের সব খাস জমি এই ব্যাংকে নিয়ে আসব।

মন্ত্রীত্বের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় নেতা হিসেবে চট্টগ্রাম তথা দক্ষিণ চট্টগ্রামের রাজনীতিতে ভূমিকা কী হবে–জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জানান, আমার মনে হয় চট্টগ্রামে আওয়ামী লীগ অনেক বেশি শক্তিশালী এবং সুসংগঠিত। আমার আব্বার পর এখন মোশাররফ চাচা আমাদের মুরুব্বি। তাঁর নেতৃত্বে দলকে কীভাবে আরো বেশি সংগঠিত করা যায়–এ বিষয়ে মহিউদ্দিন চাচা, নুরুল আলম এবং মোছলেম উদ্দিন চাচার সাথে বসে ঠিক করব।

মন্ত্রী হলে সম্পদ বাড়ে কিনা–জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি একজন ব্যবসায়ী এবং রাজনীতিকও। মন্ত্রী হিসেবে যতদিন থাকব ততদিন আমার ব্যবসা বাড়াব না এবং আমার সম্পদও বাড়বে না। দেশের স্বার্থে এটা আমাকে করতে হবে। আমি আমার সম্পদের হিসেব দিয়েছি।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ