বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের ক্রীড়াঙ্গনে নতুন প্রাণের সঞ্চার হয়েছে। এরই মধ্যে ক্যাটাগরি-৩ থেকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পরিচালক নির্বাচিত হয়েছেন অভিজ্ঞ ক্রীড়া সংগঠক সিরাজউদ্দিন মোহাম্মদ আলমগীর। বিসিবির বর্তমান অ্যাডহক কমিটির প্রধান তামিম ইকবাল খানের সাথে পারিবারিক আত্মীয়তার সূত্র ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিছু নেতিবাচক আলোচনা চললেও, মাঠের ক্রিকেট ও তিন দশকের বর্ণাঢ্য সাংগঠনিক ক্যারিয়ার প্রমাণ করে তিনি নিজের যোগ্যতার জোরেই বোর্ডে ফিরছেন।
ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ১৯৯৬ সালে সিরাজউদ্দিন আলমগীর যখন প্রথম বিসিবির কাউন্সিলর হন, তখন তামিম ইকবালের বয়স ছিল মাত্র ৮ বছর। ২০০৫ সালে তিনি যখন প্রথম পরিচালক হন, তখনও তামিমের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয়নি। ফলে আত্মীয়তার সুবাদে তার বোর্ডে আসার দাবি সম্পূর্ণ অবান্তর।
সিরাজউদ্দিন আলমগীর কেবল এসি রুমে বসা সংগঠক নন, তিনি ছিলেন মাঠ কাঁপানো ক্রিকেটার। ১৯৮৭-৮৮ মৌসুমে ‘স্টার যুব ক্রিকেট’-এ অপরাজিত ১৩৩ রানের রেকর্ড গড়া ইনিংস রয়েছে তার। এছাড়া চট্টগ্রাম ক্রিকেট লিগ, ঢাকা মিলনার্স ফার্স্ট ডিভিশন এবং জাতীয় ক্রিকেট চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশ রেলওয়ের হয়ে নিয়মিত খেলেছেন তিনি।
ক্রিকেট ছাড়ার পর দূরদর্শী সংগঠক হিসেবে ২০০৪ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত দুই মেয়াদে বিসিবির পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ২০১১ সালের আইসিসি বিশ্বকাপ এবং ২০০৫ সালে অস্ট্রেলিয়ার বাংলাদেশ সফরের সফল ভেন্যু চেয়ারম্যান ছিলেন। এছাড়া তিনি বিপিএলের (BPL T20) প্রতিষ্ঠাতা সদস্য সচিব এবং বিসিবির শৃঙ্খলা কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
ক্রিকেটীয় দক্ষতার পাশাপাশি তিনি একজন ‘ডক্টর অব স্পোর্টস’। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর শেষ করে ক্রীড়া বিজ্ঞানের প্রতি অনুরাগের কারণে ‘বিপিএড’ ডিগ্রি নেন এবং ভারত থেকে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি লাভ করেন। ক্রীড়াক্ষেত্রে অবদানের জন্য তিনি চসিক ‘একুশে পদক’ও পেয়েছেন। ৩০ বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এমন প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাসম্পন্ন ব্যক্তিত্বের বিসিবিতে প্রত্যাবর্তন দেশের ক্রিকেট কাঠামোকে আরও শক্তিশালী ও গতিশীল করবে।




