দুর্নীতি, দুঃশাসন ও সন্ত্রাস দমনে বর্তমান সরকার কোনো ধরনের আপস করবে না বলে স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। অপরাধীর ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনায় না নিয়ে তাকে কেবল ‘অপরাধী’ হিসেবে গণ্য করে আইনি ব্যবস্থা নিতে পুলিশ বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
সোমবার (১১ মে) চার দিনব্যাপী পুলিশ সপ্তাহের দ্বিতীয় দিনে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উদ্দেশে দেওয়া দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের ভূমিকার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, পুলিশের সফলতার ওপর সরকারের সফলতা নির্ভর করছে। দেশের শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশকে জনবান্ধব হতে হবে এবং সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করতে হবে।
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় পুলিশকে কঠোর হওয়ার নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি ‘মব ভায়োলেন্স’ মতো ঘটনা ঠেকাতে বিশেষ জোর দেওয়ার আহবান জানান সরকারপ্রধান।
বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী দেশের স্থিতিশীলতা ও সংস্কারের লক্ষ্যে ‘জুলাই সনদ’-এর প্রতিটি দফা পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করার দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি উল্লেখ করেন, একটি আধুনিক ও জনকল্যাণমুখী বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে পুলিশের সব যৌক্তিক দাবি সরকারের সক্ষমতা অনুযায়ী পূরণ করা হবে।
এর আগে রোববার পুলিশ সপ্তাহের প্রথম দিনেও তিনি পুলিশ বাহিনীকে আধুনিকায়নের আশ্বাস দিয়েছিলেন।সোমবার সকাল ১০টায় প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের শাপলা হলে পৌঁছালে তাকে স্বাগত জানান পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মোহাম্মদ আলী হোসেন ফকির। অনুষ্ঠানের শুরুতে পুলিশের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের ওপর একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শিত হয়।
স্বাগত বক্তব্যে আইজিপি পুলিশের বর্তমান অবস্থা ও চ্যালেঞ্জগুলো তুলে ধরেন। এরপর পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাদের পেশাগত বিভিন্ন দাবি-দাওয়া ও সমস্যার কথা প্রধানমন্ত্রীর সামনে উপস্থাপন করেন।
অনুষ্ঠানে সরকারের মন্ত্রিসভার সদস্য, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাগণ এবং পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।




