শুক্রবার, আগস্ট ১৪, ২০২৬
প্রচ্ছদঅর্থ ও বানিজ্য সময়২ শতাংশ অর্থ জমা দিলেই নিয়মিত হবে খেলাপি ঋণ

২ শতাংশ অর্থ জমা দিলেই নিয়মিত হবে খেলাপি ঋণ

দুই শতাংশ অর্থ জমা দিলেই খেলাপি ঋণ নিয়মিত করার সুযোগ দিয়ে আবারও ঋণ পুনঃতফশিলের সময় বাড়িয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বাজেটের আগে এই বিশেষ নীতি সহায়তা ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের জন্য দেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তাদের প্রত্যাশা, এতে বন্ধ হয়ে যাওয়া শিল্পকারখানা চালু হবে এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।

ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকার ও অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ব্যবসা করতে গিয়ে সমস্যায় পড়েছে বা মার্কিন ডলারের মূল্যবৃদ্ধির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, এমন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান চালু করতে এই উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর শেষে নির্বাচনের আগে খেলাপি ঋণ ছিল ৬ লাখ ৪৪ হাজার ৫১৫ কোটি টাকা। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিশেষ নীতি সহায়তার কারণে ডিসেম্বর শেষে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ কমে দাঁড়ায় ৫ লাখ ৫৭ হাজার কোটি টাকায়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে, তিন মাসে খেলাপি ঋণের হার ৩৫ দশমিক ৭৩ শতাংশ থেকে কমে ৩০ দশমিক ৬০ শতাংশে নেমে এসেছে। এবার বাজেটে বন্ধ কারখানা চালু করতে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকার বরাদ্দের পরিকল্পনা থাকায়, সেই উদ্যোগের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আবারও খেলাপি ঋণ পুনঃতফশিলের সুযোগ দেয়া হচ্ছে।

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী জুন পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোক ২ শতাংশ অর্থ জমা দিয়ে খেলাপি ঋণ নিয়মিত করার সুযোগ দিয়েছে। এ ঋণের নতুন মেয়াদ হবে সর্বোচ্চ ১০ বছর। ঋণ নিয়মিত হলে শুরুতে দুই বছর ঋণ পরিশোধে বিরতি সুবিধা পাওয়া যাবে। তবে যারা আগে নীতিসহায়তার আওতায় ঋণ নিয়মিত করেছে, তারা নতুন সুযোগটি পাবে না। শুধু ৩১ মার্চ পর্যন্ত যারা খেলাপি হয়েছেন, তারাই এই সুযোগ পাবেন বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, কল-কারখানা চালু করতে হলে গ্রাহককে আবার কিছু ঋণ সুবিধা দিতে হবে। কলের পানি বের করতে হলে আবার কিছু পানি দিতে হয়। অতএব যারা খেলাপি অবস্থায় আছেন, তাদের পুনঃতফসিল করার সুবিধা আমরা আবার দিতে চাই। তবে অর্থনীতিবিদরা বলছেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং শিল্প সচল করার উদ্দেশ্য ইতিবাচক হলেও আগের দেয়া নীতি সহায়তার বাস্তব ফলাফল মূল্যায়ন করা জরুরি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আল-আমিন বলেন, সরকারকে আগে কমিট করতে হবে যে এই নীতি সহায়তা দিলে অর্থনীতিতে কতটা অবদান রাখবে। সেটার স্পষ্ট হিসাব থাকতে হবে। যদি ফ্যাক্ট-ভিত্তিকভাবে দেখানো যায় যে এই সুবিধায় কতটা অর্থনৈতিক সুফল আসবে, তাহলে চেক অ্যান্ড ব্যালেন্স তৈরি হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, পুনঃতফশিলের আবেদন গ্রহণের পর তিন মাসের মধ্যে তা নিষ্পত্তি করতে হবে ব্যাংকগুলোকে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ