পদোন্নতি বা ব্যক্তিগত স্বার্থের জন্য পেশাদারিত্বের সঙ্গে আপস করলে সাময়িকভাবে লাভবান হওয়া গেলেও সার্বিকভাবে তা রাষ্ট্রের জন্য ক্ষতিকর বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, এ ধরনের ঘটনা জনপ্রশাসনকে দুর্নীতির দিকে ঠেলে দেয় এবং কর্মকর্তাদের নিরপেক্ষতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। সততা, মেধা ও দক্ষতাই হবে জনপ্রশাসনে পদায়ন ও বদলির নীতি।
রোববার (৩ মে) দুপুরে রাজধানীর ওসমানী মিলনায়তনে জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলন-২০২৬ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, জনরায়ের প্রতিফলন ঘটলে যে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব, তা ১২ ফেব্রুয়ারি প্রমাণিত হয়েছে।আর ডিসিদের স্বাধীনভাবে কাজ করতে না দিলে নির্বাচনে কী হয়, তা ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালে গোটা জাতি দেখেছে। ডিসিরাই জনগণের সঙ্গে সরকারের সম্পর্ক রক্ষা করে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকারও তাদের ওপর নির্ভরশীল। জনপ্রশাসনের যেকোনো পদে কাজ করার জন্য ডিসিদের মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকতে হবে। এই প্রস্তুতি থাকলে জনপ্রশাসনে জনসেবার মান আরও বাড়বে।
দেশের অর্থনৈতিক অবস্থার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে দুর্বল অর্থনীতির সময় বর্তমান সরকার দায়িত্ব নিয়েছে। আড়াই মাসে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও তা এখনো সন্তোষজনক নয়।
তারেক রহমান বলেন, ফ্যাসিবাদী শাসনামলে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে এবং বিগত সরকার ৩০ লাখ কোটি টাকার ঋণের বোঝা রেখে গেছে। সেই পরিস্থিতির মধ্যেই এই সরকারকে কাজ শুরু করতে হয়েছে। ওই সময় দেশকে পুরোপুরি আমদানিনির্ভর করে ফেলা হয়েছিল। বিচার বিভাগ, শিক্ষা খাত ও দুদক– সবই ছিল অকার্যকর। স্বাস্থ্য ব্যবস্থাও ছিল ভঙ্গুর।
তিনি আরও বলেন, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জনভোগান্তি হয়েছে, তবে সরকার তা মোকাবিলা করে যাচ্ছে। একটি কল্যাণ রাষ্ট্র গঠনে সরকার ইতোমধ্যে বিভিন্ন কাজ শুরু করেছে।
সম্মেলনে মাঠ পর্যায়ে কাজ করার জন্য ডিসিদের বেশকিছু সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে সন্ধ্যার মধ্যে মার্কেট বন্ধ রাখার যে সিদ্ধান্ত সরকার নিয়েছে, তা বাস্তবায়নে ডিসিদের কাজ করতে হবে। একইসঙ্গে মোবাইল কোর্টের (ভ্রাম্যমাণ আদালত) কার্যক্রম বাড়ানো এবং জনগণের ন্যায্য অভিযোগগুলো সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখার নির্দেশ দেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা করতে হবে। বাল্যবিবাহ বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি খাদ্যে ভেজালকারীদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া যাবে না। এছাড়া সব জেলায় ছাত্রছাত্রীদের সংস্কৃতি বা খেলাধুলার প্রতিযোগিতা শুধু শীতকাল নয়, সব মৌসুমে আয়োজনের ব্যবস্থা নিতে ডিসিদের উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।
দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক অবস্থা ডিসিরা জানেন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশকে বন্যা ও খরা থেকে বাঁচাতেও আপনাদের কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে। বর্তমান সরকার মেধা ও যোগ্যতার মূল্যায়ন করবে জানিয়ে তিনি বলেন, সততা, মেধা ও দক্ষতাই বর্তমান সরকারের নীতি। এসব দেখেই জনপ্রশাসনে পদোন্নতি বা বদলি করবে সরকার, এটাই বিএনপির নীতি।
দেশকে বৈষম্যমুক্ত করার বিষয়ে তারেক রহমান বলেন, সমাজ থেকে পুরোপুরি বৈষম্য শেষ করা হয়ত সম্ভব নয়। তবে ধর্ম-বর্ণের কোনো বৈষম্য না করে একটি নৈতিক রাষ্ট্র গঠন করাই বিএনপি সরকারের মূল চাওয়া।
তিনি আরও বলেন, সরকার যেমন চিরস্থায়ী নয়, তেমনি জনপ্রশাসনের কোনো পদও চিরস্থায়ী নয়। দেশে দারিদ্র্য ও বেকারত্ব বেড়েছে উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে জনগণের দুর্ভোগ না বাড়িয়ে সমস্যার সমাধানের পথ খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।
ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের অঙ্গীকারের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, নির্বাচনী ইশতেহার এবং জনগণের সামনে স্বাক্ষরিত জুলাই সনদের সব বিষয় পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে।




