সোমবার, অক্টোবর ২৬, ২০২৬
প্রচ্ছদজাতীয়জনগণের পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনতে যেকোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে...

জনগণের পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনতে যেকোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে : প্রধানমন্ত্রী

জনগণের পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনতে যেকোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেছেন, বিগত সরকারের মতো জোরজবরদস্তি করে নয়, বরং দেশের প্রচলিত আইন মেনেই অর্থ পাচারকারী ও তছরুপকারীদের বিচার করা হবে।

বুধবার (১ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে কুমিল্লা-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালামের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। সংসদ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম।

পাচার হওয়া অর্থ ফেরানো সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে সংসদ নেতা তারেক রহমান বলেন, এটি জনগণের অর্থ। যেহেতু আমরা জনগণ দ্বারা নির্বাচিত সরকার, জনগণের প্রতি এবং দেশের প্রতি আমাদের একটি দায়বদ্ধতা আছে। খুব স্বাভাবিকভাবেই জনগণের অর্থ ফিরিয়ে এনে জনগণের জন্য এবং দেশের কল্যাণে ব্যয় করা এই সরকারের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।

তিনি দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে বলেন, যে পদক্ষেপ গ্রহণ করলে জনগণের অর্থ ফেরত আসবে, আপনারা নিশ্চিত থাকতে পারেন এই সরকার সেই পদক্ষেপই গ্রহণ করবে, ইনশাআল্লাহ। পরবর্তীতে রাজশাহীর সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমানের অপর এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী অর্থ পাচারকারীদের তালিকা প্রণয়ন ও বিচারের আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে কথা বলেন।

পাচারকারীদের তালিকা তৈরি প্রসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এই অন্যায়ের সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের তালিকা করার দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নয়। সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ রয়েছে, তারাই এই তালিকা তৈরি করছে।

বিগত সরকারের স্বেচ্ছাচারিতার সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার একটি নির্বাচিত সরকার।আমরা অতীতে দেখেছি, সরকারের বিভিন্ন ব্যক্তিবর্গ তাদের ইচ্ছা-আগ্রহের কারণে দেশের আইনকানুন ও নীতি-নৈতিকতার তোয়াক্কা না করে যাকে যখন ইচ্ছা তুলে নিয়ে গেছে। যার কাছ থেকে যা মনে হয়েছে, জোর করে লিখিয়ে নিয়েছে।

তারেক রহমান বলেন, নারী তার অর্থ দিয়ে পণ্য কিনবে, এর ফলে দোকানের বিক্রি বাড়বে। দোকানের বিক্রি বাড়লে ঐ দোকানে কর্মসংস্থান তৈরি হবে। সেই কর্মচারীরা গিয়ে তাদের প্রয়োজনী দ্রব্য (লুঙ্গি, গামছা) কিনবে। এভাবে, ‍মূল্যস্ফীতি নয় বরং লোকাল অর্থনীতি সচল হবে।

ফ্যামিলি কার্ড নারীর ক্ষমতায় করবে কি না এমন প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, চলমান সামাজিক নিরাপত্তাজাতীয় কর্মসূচিতেও পরিবারের সকল সদস্যরা উপভোগ করতে পারেন না। তাই ফ্যামিলি কার্ড পরিবারের নারী প্রধানের নামে দেওয়া হয়েছে। এই ফ্যামিলি কার্ড নারীর নামে হওয়ায় পরিবারের তাদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাও বাড়বে বলেও জানিয়েছেন তারেক রহমান।

বর্তমান সরকারের আইনি কাঠামোর প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার বিষয়টি তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আমরা দেশের প্রচলিত আইন মেনে কাজ করতে চাই এবং আইনের ভিত্তিতেই বিচার করতে চাই, যাতে কোনো মানুষ ন্যায্য বিচার থেকে বঞ্চিত না হয়।

আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আইনগতভাবেই আমরা সব প্রক্রিয়া গ্রহণ করব। আইন তার নিজস্ব গতিতে এগিয়ে যাবে এবং দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ীই এ দেশের জনগণের অর্থ তছরুপকারী বা অর্থ পাচারকারীদের শাস্তি নির্ধারিত হবে।

এছাড়া তিনি আরও বলেন, কারিগারি শিক্ষার উন্নয়নের লক্ষ্যে ১৮০ দিনের মধ্যে কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৯ হাজার শিক্ষককে ট্যাব প্রদান করা হবে এবং ৩৮৩২টি মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপন করা হবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ