২৩ কোটি টাকা মানিলন্ডারিং ও বিদেশে পাচারের অভিযোগে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী ও তার স্ত্রী রূকমীলা জামানসহ ৩৫ জনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার চার্জশিট দাখিল করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সোমবার (২ মার্চ) দুদকের প্রধান কার্যালয়ের জনসংযোগ বিভাগের সহকারী পরিচালক মো. তানজির আহমেদ চার্জশিট দাখিলের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
চার্জশিটে সাইফুজ্জামান চৌধুরীর বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি, ১৮৬০ এর৪০৬/৪০৯/৪২০/৪৬৭/৪৬৮/৪৭১/১০৯ ধারা, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭ এর ৫(২) ধারা এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
একই মামলায় অভিযুক্ত অন্যদের মধ্যে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক পিএলসির (ইউসিবি) সাবেক চেয়ারম্যান ও সাইফুজ্জামান চৌধুরীর স্ত্রী রূকমীলা জামান ছাড়াও ব্যাংকটির সাবেক ও বর্তমান ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাসহ আরামিট পিএলসির একাধিক কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী এবং হুন্ডি কার্যক্রমে জড়িত কয়েকজন ব্যক্তি রয়েছেন।
অনুমোদিত চার্জশিটে আসামিরা হলেন— সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী, তার স্ত্রী ও ইউসিবি ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান রুকমীলা জামান, ইউসিবি ব্যাংকের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান বজল আহমেদ বাবুল, সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবুল এহতেশাম আবদুল মোহাইমিন, সাবেক পরিচালক ইউনুছ আহমদ, এম এ সবুর, আসিফুজ্জামান চৌধুরী, হাজী আবু কালাম, নুরুল ইসলাম চৌধুরী, রোকসানা জামান চৌধুরী, বশির আহমেদ, সৈয়দ কামরুজ্জামান, মো. শাহ আলম ও ড. সেলিম মাহমুদ।
অন্যান্য আসামিরা হলেন— ব্যাংকটির সাবেক সিনিয়র এক্সিকিউটিভ অফিসার শ্রাবন্তী মজুমদার, সাবেক এক্সিকিউটিভ অফিসার মুঝায়োনা সিদ্দিকা, সাবেক এভিপি ও ক্রেডিট অফিসার মোহাম্মদ গোলাম রাকিব, সাবেক এফএভিপি ও ম্যানেজার অপারেশন মোসাদ্দেক মো. ইউসুফ এবং সাবেক এফভিপি ও কারওয়ান বাজার শাখার প্রধান আলমগীর কবির।
নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানের মালিকদের মধ্যে রয়েছেন— প্রোগ্রেসিভ ট্রেডিংয়ের মালিক ও আরামিট সিমেন্ট লিমিটেডের সহকারী ব্যবস্থাপক (হিসাব) মোহাম্মদ হোছাইন চৌধুরী, ইম্পেরিয়াল ট্রেডিংয়ের মালিক ও আরামিটের এজিএম মো. আব্দুল আজিজ এবং আরামিট সিমেন্টের পিয়ন মো. ইয়াছিনুর রহমান। এছাড়া ইউসিবি ব্যাংকের সাবেক পরিচালক শরীফ জহির মামলার আসামি করা হলেও চার্জশিটে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
তদন্ত প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, প্রোগ্রেসিভ ট্রেডিং নামীয় নামসর্বস্ব কাগুজে প্রতিষ্ঠানের নামে ইউসিবির কারওয়ান বাজার শাখায় কোনো প্রকার যাচাই-বাছাই ছাড়াই একটি হিসাব খোলা হয়। পরবর্তীতে ওই প্রতিষ্ঠানের মালিক মোহাম্মদ হোছাইন চৌধুরী ঋণের আবেদন করলে শাখার কর্মকর্তারা মিথ্যা তথ্য সম্বলিত পরিদর্শন প্রতিবেদন তৈরি করেন এবং শাখার ক্রেডিট কমিটি যাচাই ছাড়াই সেই ভুয়া প্রতিবেদনসহ ২৩ কোটি টাকা ঋণের সুপারিশ প্রধান কার্যালয়ে পাঠান। ইউসিবির প্রধান কার্যালয়ের ক্রেডিট কমিটি ঋণ প্রস্তাবে নেতিবাচক পর্যবেক্ষণ থাকা সত্ত্বেও ৪২৪তম পরিচালনা পর্ষদ সভায় ঋণটি অনুমোদন পায়।
২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল-জাজিরা সাইফুজ্জামান চৌধুরীর বৈশ্বিক সম্পত্তি নিয়ে ‘দ্য মিনিস্টার্স মিলিয়নস’ শিরোনামের একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সেই প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বে তার আনুমানিক ৫০ কোটি মার্কিন ডলার মূল্যের সম্পত্তি রয়েছে, যার মধ্যে শুধুমাত্র যুক্তরাজ্যেই তার ৩৬০টি বাড়ি। এর পরপরই দুদক অনুসন্ধানে নামে।




