মঙ্গলবার, অক্টোবর ২৭, ২০২৬
প্রচ্ছদজাতীয়আজও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী

আজও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী

বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১৮-দলীয় জোটের ‘গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা’র কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে আজ সোমবার দ্বিতীয় দিনের মতো সতর্ক অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও ক্ষমতাসীন দলের কর্মীরা। সকাল থেকে রাজধানীর বিভিন্ন প্রবেশমুখে যানবাহন ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। ‘সংবাদকর্মী’ স্টিকারসংবলিত পরিবহন আটকে হয়রানি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গণপরিবহন না থাকায় আজও চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন সাধারণ যাত্রীরা। তল্লাশির নামে বিভিন্ন স্থানে আজও সকাল থেকে পুলিশ ও ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মীদের হয়রানির শিকার হচ্ছেন মানুষ।

প্রতিনিধিদের পাঠানো প্রতিবেদন:
টঙ্গী: টঙ্গীর স্টেশন রোড এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে আজও প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেছে পুলিশ ও ক্ষমতাসীন দলের কর্মীরা। রিকশা, অটোরিকশাসহ কোনো ধরনের যানবাহন রাজধানীতে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। এমনকি সংবাদকর্মী লেখা স্টিকারযুক্ত মোটরবাইকও রাজধানীতে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি বলে খবর পাওয়া গেছে। তাই চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা। তবে গতকালের তুলনায় আজ যান চলাচলের হার বেশি। ব্যক্তিগত গাড়ি, মালবাহী ট্রাক, কাভার্ডভ্যান চলছে।

|সকালে টঙ্গী থেকে তাঁর ব্যক্তিগত মোটরসাইকেলে চড়ে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে কর্মস্থলের দিকে রওনা হন এটিএন বাংলার ডেসপ্যাচ রিডার মো. আবু সাঈদ। সকাল নয়টার দিকে স্টেশন রোড এলাকায় পৌঁছালে পুলিশ তাঁর গতিরোধ করে। এ সময় পরিচয়পত্র, ব্যাগে অফিসের কাগজপত্র দেখানোর পরও তাঁকে বাড়িতে ফেরত যাওয়ার নির্দেশ দেয় পুলিশ। অন্যথায় আটকের হুমকি দেওয়া হয়। এ ঘটনার প্রতিবাদ করলে স্থানীয় সংবাদকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের বাগবিতণ্ডা হয়।

এ সময় গাজীপুর জেলা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের পরিদর্শক মোহাম্মদ ইকবাল সাংবাদিকদের স্পষ্ট জানিয়ে দেন, আবু সাঈদকে ঢাকায় যেতে দেওয়া হবে না। কী কারণে তাঁকে যেতে দেওয়া হবে না—জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমার সন্দেহ, আবু সাঈদ নকল পরিচয়পত্র বহন করছেন।’ একপর্যায়ে সংবাদকর্মীরা এটিএন বাংলার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানোর উদ্যোগ নিলে ওই পুলিশ কর্মকর্তা আবু সাঈদকে আশুলিয়া বাইপাস দিয়ে ঢাকা যাওয়ার অনুমতি দেন। টঙ্গী স্টেশন রোড এলাকায় কোনো ধরনের যানবাহন প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। সব গাড়ি আশুলিয়া বাইপাস দিয়ে ঘুরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

 পুরান ঢাকা : বুড়িগঙ্গা প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় সেতুতে গতকালের মতো আজও অবস্থান নিয়েছেন পুলিশ ও ক্ষমতাসীন দলের কর্মীরা। কোনো ধরনের পরিবহন ঢাকায় প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। বুড়িগঙ্গা নদীতে খেয়া নৌকাসহ সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ রয়েছে। যান চলাচল বন্ধ রয়েছে ঢাকা-মাওয়া সড়কেও। পুরান ঢাকা এলাকায় গতকালের তুলনায় আজ পুলিশের উপস্থিতি বেশি। অন্যান্য এলাকায় বাস না চললেও পুরান ঢাকার সদরঘাট থেকে জুরাইন-যাত্রাবাড়ী পথে কিছু কিছু লেগুনা চলছে।

সদরঘাট টার্মিনাল থেকে আজও কোনো লঞ্চ ছেড়ে যায়নি। তবে হাতিয়া থেকে এমভি ফারহান-৩ ও দৌলতপুর থেকে এমভি টিপু-৫ নামের দুটি যাত্রীবাহী লঞ্চ ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে আসে। এ লঞ্চ দুটি ভোরে সদরঘাট টার্মিনালে না ভিড়ে পুরান ঢাকার ফরাশগঞ্জ ঘাটে যাত্রী নামিয়ে দেয়। সদরঘাট টার্মিনালে শত শত যাত্রী লঞ্চের অপেক্ষায় বসে আছেন। টার্মিনালে অপেক্ষমাণ যাত্রীদের মধ্যে চাঁদপুর ও শরীয়তপুর এলাকার যাত্রী তুলনামূলকভাবে বেশি।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ