মঙ্গলবার, অক্টোবর ২৭, ২০২৬
প্রচ্ছদজাতীয়জামায়‍াত-শিবিরের তাণ্ডব ঠেকাতে আসছে যৌথ বাহিনীর চিরুনি অভিযান

জামায়‍াত-শিবিরের তাণ্ডব ঠেকাতে আসছে যৌথ বাহিনীর চিরুনি অভিযান

ষ্টাফ  রিপোর্টার  (বিডিসময়২৪ডটকম)

সারাদেশে জামায়‍াত-শিবিরের তাণ্ডব ঠেকাতে চলতি সপ্তাহে আসছে যৌথ বাহিনীর চিরুনি অভিযান। বিশেষ করে যেসব জেলায় জামায়াত-শিবির ব্যাপক নাশকতা চালিয়েছে। সূত্রে জানায়- আসন্ন এ অভিযানে মূলত নাশকতায় ইন্ধনদাতা ও জড়িতদের আটক করা হবে। বর্তমান স্পর্শকাতর এলাকাগুলোয় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালনা করা হবে। এ অভিযানের মধ্যে রয়েছে- সাতক্ষীরা, চট্টগ্রাম, ফেনী, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, রাজশাহী, লালমনিরহাট, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, কুমিল্লা, মেহেরপুর।

পুলিশের ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানিয়েছে, যেসব জেলায় পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না সেখানে কমান্ডিং অফিসার চাইলে অন্য বাহিনীগুলোর সহায়তা চাইতে পারে। এ সহায়তা চাওয়া মাত্র বিজিবি ও আনসার সে অভিযানে যোগ দেবে।

সূত্র আরও জানায়, নাশকতা কেন্দ্রীক বিভিন্ন জেলায় যে মামলাগুলো হয়েছে- সে তালিকা ধরেই অভিযান পরিচালনা করা হবে। বিশেষ করে নাশকতায় নেতৃত্বদানকারী, ইন্ধন, অর্থ যোগানদাতা ও জড়িতদের আগে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা থাকবে এ অভিযানে। গত রোববার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি এ অভিযান পরিচালনার জন্য সংশ্লিষ্ট বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছে। তবে কয়েক জেলায় যৌথ বাহিনীতে পুলিশ-র্যাবের পাশাপাশি বিজিবি সদস্যরা থাকছে।

গত ১৪ ডিসেম্বর বুদ্ধিজীবী দিবসের এক আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রী যৌথ অভিযানের ইঙ্গিত দিয়ে বলেন, অনেক সহ্য করেছি, আর নয়। জনগণের জানমালের নিরাপত্তায় প্রয়োজনে আমরা আরও কঠোর হব। এ ছাড়া সোমবার রাজারবাগে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকুও জামায়াত শিবিরের নাশকতা ঠেকাতে যৌথ বাহিনীর অভিযানের কথা জানান।

সোমবার আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ সাংবাদিকদের জানান, এখন জামায়াত শিবির যদি আরও নাশকতা চালায় তবে তাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে। এমনকি যৌথ বাহিনীর অভিযানে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা অংশ নেবে।

জানা যায়, গত ২১ দিনে সারা দেশে প্রায় ১১৫ জন প্রাণ হারিয়েছেন। যার মধ্যে সোমবার সাতক্ষীরায় যৌথ বাহিনীর অভিযানে মোট ৫ জন, গত রোববার লালমনিরহাটের পাটগ্রামে চারজন, জয়পুরহাটে তিনজন ও লক্ষ্মীপুরে ৫ জন নিহত হয়। এ ছাড়া গত শনিবার নারায়ণগঞ্জে আহত রাসেল ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার মারা যায়।

উল্লেখ্য, গত ২৫ নভেম্বর দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরদিন থেকে তিন দিনের রাজপথ-রেলপথ-নৌপথ অবরোধের কর্মসূচি দেয় বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১৮-দলীয় জোট। এরপর শুরু হয় সহিংসতা- নাশকতা। ৩০ নভেম্বর থেকে ১৩১ ঘণ্টা এবং ৭ ডিসেম্বর থেকে ১৩ ডিসেম্বর (শুক্রবার) সকাল ছয়টা পর্যন্ত অবরোধ চলে। এ সময় নিহত হন ৭৫ জন।

অন্যদিকে, মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল কাদের মোল্লার ফাঁসির রায় কার্যকর করার আগে ও পরে সংগঠিত সহিংসতায় প্রাণ হারান ৩০ জন।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ পুলিশের এআইজি (মিডিয়া) জালাল আহমেদ বলেন, সারা দেশের আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রেণে রাখতে যৌথ বাহিনীর চিরুনি অভিযানের একটি সিদ্ধান্ত আমাদের আছে। তবে পরিস্থিতি বুঝে এ অভিযান চালানো হবে। যেসব এলাকায় বেশি নাশকতা হবে সেব জেলাগুলোতে অভিযান চালানো হবে।

অপরদিকে সাতক্ষীরায় যৌথ বাহিনীর অভিযানের পর বিরোধী দলীয় জোট মঙ্গলবার থেকে টানা অবরোধ কর্মসূচিতে যাচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে যৌথ বাহিনীর অভিযান ছাড়া বিকল্প পথ দেখছে না সরকার এমনটাই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ