মঙ্গলবার, অক্টোবর ২৭, ২০২৬
প্রচ্ছদজাতীয়কাদের মোল্লার ফাঁসি কার্যকর

কাদের মোল্লার ফাঁসি কার্যকর

 মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল কাদের মোল্লাকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাত ১0টা ১ মিনিটে এ ফাঁসি কার্যকর করার মধ্য দিয়ে দেশের জন্য এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো।

স্বাধীনতার ৪২ বছর পর এটিই হচ্ছে মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার প্রথম রায় কার্যকর, যার মাধ্যমে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিত করা হলো একাত্তরে ‘মিরপুরের কসাই’ বলে পরিচিত দেশের এই শীর্ষ যুদ্ধাপরাধীর।

মুক্তিযুদ্ধের সক্রিয় ও সশস্ত্র বিরোধিতাকারী জামায়াতের এই সহকারী সেক্রেটারি জেনারেলের ফাঁসির লিভারে টান দিয়ে ঐতিহাসিক এ দায়িত্ব পালন করেছেন প্রধান জল্লাদ মো. শাহজাহান ভুইয়া। অন্য চারজন জল্লাদ ছিলেন শাহজাহানের সহযোগী।

কাদের মোল্লার ফাঁসি কার্যকর করার সময় ফাঁসির মঞ্চে ছিলেন ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মো. ফরমান আলীসহ অন্য কারা কর্মকর্তারা, সিভিল সার্জন ও একজন ম্যাজিস্ট্রেট।

এর আগে গত মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১২টা ১ মিনিটে কাদের মোল্লার ফাঁসি কার্যকর করার জন্য ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়। কিন্তু তার আইনজীবীদের আবেদনে রাত ১০টা ২০ মিনিটে চেম্বার বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন বুধবার সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত রায় কার্যকর করা স্থগিত করেন।

বুধ ও বৃহস্পতিবার রিভিউ আবেদন গ্রহণযোগ্যতার প্রশ্নে এবং রিভিউয়ের মূল আবেদনের (অন মেরিট) ওপর দু’দিনের শুনানি শেষে আসামিপক্ষের দু’টি রিভিউ আবেদনই খারিজ করে আদেশ দেন প্র্রধান বিচারপতি মো. মোজাম্মেল হোসেনের নেতৃত্বে আপিল বিভাগের ৫ বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ। এর ফলে কাদের মোল্লার ফাঁসি কার্যকর করার পথে আর কোনো আইনগত বাধা না থাকায় ফের ফাঁসির প্রস্তুতি নেয় কারা কর্তৃপক্ষ। এভাবেই আইনগত সব ধরনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেই বৃহস্পতিবার রাত ১২টা ১ মিনিটে কার্যকর হলো তার মৃত্যুদণ্ডাদেশ।

যেভাবে ফাঁসি কার্যকর করা হয়

বৃহস্পতিবার ফাঁসি দেওয়ার আগে কাদের মোল্লাকে গোসল করিয়ে একজন মাওলানার মাধ্যমে তওবা পড়িয়ে নেন কারা কর্তৃপক্ষ। এ সময় তার কাছ থেকে তার শেষ কোনো কথা থাকলে তাও শুনে নেন কারা কর্তৃপক্ষ। ফাঁসির মঞ্চে নেওয়ার পর আসামির মাথায় পরানো হয় একটি কালো রংয়ের টুপি। এই টুপিটিকে বলা হয় ‘যমটুপি’।

ফাঁসির মঞ্চে তোলার পর কাদের মোল্লার দুই হাত পিছন দিকে বাধা হয়। এ সময় ফাঁসির মঞ্চের সামনে উপস্থিত ছিলেন কারা কর্তৃপক্ষ, সিভিল সার্জন ও একজন ম্যাজিস্ট্রেট। ফাঁসির মঞ্চে প্রস্তুত ছিলেন জল্লাদও। মঞ্চে তোলার পর কাদের মোল্লার দুই পাও বাধা হয়। পরানো হয় ফাঁসির দড়ি।

কারা কর্তৃপক্ষের হাতে ছিল একটি রুমাল। রুমালটি হাত থেকে নিচে ফেলে দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই  জল্লাদ ফাঁসির মঞ্চের লিভারে টান দেন। লিভারটি টান দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ফাঁসির মঞ্চের নিচে চলে যান কাদের। এ সময় তিনি মাটি থেকে ৪-৫ ফুট শূন্যে ঝুলে থাকেন। এতে মুহূর্তের মধ্যেই তার ঘাড়ের হাড় ভেঙ্গে মৃত্যু নিশ্চিত হয়ে যায়। বৃহস্পতিবার রাতেই কাদের মোল্লার মৃতদেহ তার পরিবার পরিজনের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ