ষ্টাফ রিপোর্টার (বিডিসময়২৪ডটকম)
একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল কাদের মোল্লা যেন একটি নতুন জীবন পেলো। যেখানে কোথা ছিল রাত ১২টা ১মিনিটে ফাঁসি কার্যকর করা।কিন্তু হঠাৎ এক আদেশে তিনি আজকের মত প্রানে রক্ষা পান।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ও আইন প্রতিমন্ত্রী আজ রাত ১২টা ১মিনিটে ফাঁসির রায় ঘোষণা করে।এই ঘোষণা দ্রুত দেশ বিদেশে ছড়িয়ে পরে।কেন্দ্রীয় কারাগারের সামনে ব্যাপক উপস্থিতি যেন দেশবাসীকে আরও জাগিয়ে রেখেছিল।কখন কি ঘটবে তাই দেখতে মানুষ গণমাধ্যমে গুলোর উপর নজর রাখে। এদিকে কাদের মোল্লার সাথে শেষ দেখা করতে রাত ৮টার দিকে কেন্দ্রীয় কারাগারে আসেন কাদের মোল্লার স্বজনেরা।একে ফাঁসি কার্যকরের প্রস্তুতি নিয়ে থাকে কারা কর্তৃপক্ষ।
ফাঁসি কার্যকরের প্রায় যখন সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন তখনই খবর আসে সুপ্রিম কোর্টের চেম্বার বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন কাদের মোল্লার আইনজীবীদের আবেদনের ওপর শুনানি শেষে আবদুল কাদের মোল্লার ফাঁসির রায়ের কার্যকারিতা বুধবার সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত স্থগিত করার আদেশ দিয়েছেন। কাদের মোল্লার ফাঁসি রাতেই কার্যকর হবে বলে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জানিয়েছিলেন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু।
এরপর ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাকসহ কাদের মোল্লার আইনজীবীরা ছুটে যান প্রধান বিচারপতি মো. মোজাম্মেল হোসেনের বাসভবনে। পরে তারা রাত ৯টার পরে চেম্বার বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের বাসায় যান। সেখানে তারা আপিল বিভাগে রায় পুনর্বিবেচনা (রিভিউ) করার আবেদন করেন। এ সময় চেম্বার জজ রাষ্ট্রপক্ষকেও বিধি অনুযায়ী এই আবেদনের অনুলিপি সরবরাহ করা হয়েছে কি-না জানতে চান।
পরে জামায়াত নেতার আইনজীবীরা অ্যাটর্নি জেনারেলকে আবেদনের অনুলিপি সরবরাহ করে আবারও চেম্বার জজের বাসায় ফিরে আসেন।
রাত সাড়ে ১০টার দিকে চেম্বার জজের বাসভবন থেকে বের হয়ে কাদের মোল্লার প্রধান আইনজীবী ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাক সাংবাদিকদের জানান, চেম্বার জজ বুধবার সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত মৃত্যুদণ্ড কার্যকর স্থগিত করেছেন। বুধবার সকাল সাড়ে ১০টায় এ আবেদনের ব্যাপারে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।
চেম্বার জজের স্থগিতাদেশ পাওয়ার পর ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাক ও অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম রাত ১১টা ৪ মিনিটে কারা কর্তৃপক্ষের কাছে স্থগিতাদেশের কপি নিয়ে যান। এর আগে রাত ৮টায় কাদের মোল্লার সঙ্গে দেখা করার জন্য তার পরিবারের সদস্যদের চিঠি দেয় কারা কর্তৃপক্ষ।
গত রোববার কাদের মোল্লার মৃত্যু পরোয়ানা জারি করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। ওইদিনই এ মৃত্যু পরোয়ানার কপি (ডেথ ওয়ারেন্ট) লাল কাপড়ে মুড়িয়ে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়। গত ৫ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার আপিল বিভাগ থেকে জামায়াত নেতা কাদের মোল্লাকে দেয়া মৃত্যুদণ্ডের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয়। এ পূর্ণাঙ্গ রায় ৭৯০ পৃষ্ঠার। পূর্ণাঙ্গ রায়ে মৃত্যুদণ্ডকেই কাদের মোল্লার জন্য একমাত্র যথার্থ শাস্তি হিসেবে উল্লেখ করে সুপ্রিম কোর্ট।
গত ১৭ সেপ্টেম্বর প্রধান বিচারপতি মো. মোজাম্মেল হোসেনের নেতৃত্বাধীন পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চ সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতের ভিত্তিতে ওই রায় ঘোষণা করেন। মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় এটি আপিলের প্রথম রায়।
এর আগে গত ৫ ফেব্রুয়ারি মানবতাবিরোধী অপরাধে কাদের মোল্লাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। রায়ে বলা হয়, আসামি আবদুল কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে প্রসিকিউশন আনীত ৬টি অভিযোগের মধ্যে ৫টি অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। এর মধ্যে ৩টি অভিযোগে তাকে ১৫ বছর করে কারাদণ্ড ও দু টি অভিযোগে তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়।




