চট্টগ্রাম অফিস (বিডি সময় ২৪ ডটকম)
বন্দরনগরীতে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলের ডাকা তৃতীয় দফা ৭২ ঘণ্টার অবরোধের পাশাপাশি যুদ্ধাপরাধে অভিযুক্ত জামায়াতের হরতাল চলছে। হরতালের সমর্থনে ও অবরোধের মধ্যে রোবরাব গভীর রাতে সাতকানিয়ায় ট্রাকে আগুন দিয়েছে পিকেটাররা। এছাড়া এপর্যন্ত নগরী কিংবা জেলায় বড় কোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
তবে অবরোধ ও হরতালর মধ্যে প্রয়োজনের তুলনায় গণপরিবহন কম চলাচল করায় কর্মমুখী মানুষকে বেশ দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে কর্মস্থলগামী নারী-পুরুষকে পরিবহনের জন্য অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। নগরীর প্রবেশপথগুলো দিয়ে মহাসড়কে সীমিত আকারে দূরপাল্লার যানবাহন ও পণ্যবোঝাই পরিবহন চলাচল করছে। নগর পুলিশের উপ-কমিশনার (উত্তর) হারুন অর রশিদ হাজারী বলেন,‘নগরীতে কোথাও কোন অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাইনি।’
সকালে নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, হরতাল ও অবরোধের কারণে রাস্তায় গণপরিবহন সংখ্যায় কম হলেও টেম্পু,সিএনজি টেক্সিসহ হিউম্যান হুইলার চলছ। তবে গণপরিবহন অপর্যাপ্ততায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন কর্মস্থলগামী বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
এদিকে বিভিন্ন প্রবেশপথ ও নগরীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টসহ পুরো নগরীতে প্রায় দু’হাজার অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন আছে। এর বাইরে বিজিবিকেও প্রস্তুত রাখা হয়েছে। নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (ডিবি) বাবুল আকতার বলেন, ‘পুরো নগরীতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন আছে। নাশকতা মোকাবেলায় আমাদের পর্যাপ্ত প্রস্তুতি আছে।’
প্রত্যক্ষদর্শী ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে,রোববার রাত দুইটার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের মিঠাদিঘীরপাড় এলাকায় একটি মালবাহী ট্রাকে আগুন ধরিয়ে দেয় অবরোধ ও হরতাল সমর্থকরা। খবর পেয়ে সাতকানিয়া ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে এতে হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
ফায়ার সার্ভিসের চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের উপ-সহকারী পরিচালক মো. জসিম উদ্দিন বলেন,‘চট্টগ্রামগামী একটি ট্রাকে (সিলেট-ড-১১-০৪৪৩) দুর্বৃত্তরা আগুন ধরিয়ে দেয়। খবর পেয়ে সাতকানিয়া স্টেশনের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।’ তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানা সাতকানিয়া থানা ও সার্কেলের কেউ কিছু শুনেননি বলে জানিয়েছেন।
চট্টগ্রাম থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের দূরপাল্লার বাস সার্ভিস বন্ধ থাকলেও চালু রয়েছে ট্রেন। নগরীর বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও অফিস খোলা রয়েছে। চালু রয়েছে তৈরি-পোশাক কারখানাসহ চট্টগ্রাম প্রক্রিয়াজাতকরণ এলাকার (সিইপিজেড) বিভিন্ন রপ্তানিমুখী কারখানাও। হরতাল-অবরোধে চট্টগ্রাম বন্দরে অভ্যন্তরীণ কার্যক্রম চললেও বাইরে পণ্য পরিবহন সীমিত আকারে চালু রয়েছে বলে জানা গেছে।জেলার মহাসড়কে তিন হাজার অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সীতাকুণ্ডে সার্বক্ষণিকভাবে বিজিবি মোতায়েন আছে। অন্যান্য উপজেলার জন্যও বিজিবি প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, নির্বাচনের তফসিল বাতিল ও আটক নেতাদের মুক্তিসহ বিভিন্ন দাবিতে গত শনিবার থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত ফের তৃতীয় দফার ৭২ ঘণ্টার অবরোধের পালন করছে বিএনপি’র নেতৃত্বে ১৮দল। একই সঙ্গে দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও যুদ্ধাপরাধী কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে মৃত্যু পরোয়ানা জারি করায় সোমবার হরতালের ডাক দেয় জোটের অন্যতম শরীক জামায়াত।




