বিএনপির ডাকা অবরোধের তৃতীয় দিন বৃহস্পতিবার (২ নভেম্বর) আবারও রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে নারায়ণগঞ্জ। বিভিন্ন স্থানে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করে ট্রাক ও কার্ভাডভ্যানে আগুন ও তিনটি গাড়ি ভাঙচুর করেছেন অবরোধকারীরা। এ সময় সাতজনকে আটক করেছে পুলিশ। ভোর ৬টার দিকে রূপগঞ্জ উপজেলার এশিয়ান হাইওয়ে সড়কের কুশাবো এলাকা ও সিদ্ধিরগঞ্জে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের শিমরাইল, মৌচাক, সানারপাড় ও মাদানিনগর এলাকায় এ ঘটনাগুলো ঘটে।
এ দিকে সকালে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য অধ্যাপক মামুন মাহমুদের নেতৃত্বে সিদ্ধিরগঞ্জে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের শিমরাইল, মৌচাক, সানারপাড় ও মাদানিনগর এলাকায় দফায় দফায় বিক্ষোভ মিছিল করে বিএনপি ও অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মীরা। তারা মহাসড়কের কয়েকটি স্থানে রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করে। এক পর্যায়ে রাস্তার পাশে থেমে থাকা দুটি বেসরকারি র্যাকার ও একটি মাইক্রোবাসের কাচ ভাঙচুর করে। কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণও হয়। খাবর পেয়ে পুলিশ তিনজনকে আটক করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মোস্তফা জানান, রাস্তায় টায়ারে আগুন দেয়ার সময় পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। মাদানিনগর এলাকায় নাশকতা সৃষ্টির সময় চারজনকে আটক করা হয়েছে। বর্তমানে মহাসড়কে পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে এবং সব ধরণের নাশকতা ঠেকাতে পুলিশ তৎপর রয়েছে।
এ ছাড়া অবরোধের সমর্থনে ভোর সাড়ে ৬টায় ফতুল্লায় থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রিয়াদ মো. চৌধুরীর নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিল করে বিএনপি ও অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মীরা। মিছিলটি ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ পুরাতন সড়কের দাপা বালুরঘাট এলাকা থেকে শুরু হয়ে পোস্ট অফিস বাসস্ট্যান্ড ঘুরে ফতুল্লা ইউনিয়ন পরিষদের কার্যালয়ের সামনে গিয়ে শেষ হয়। এর আগে অবরোধের প্রথম দিন মঙ্গলবার (৩১ নভেম্বর) আড়াইহাজারে আওয়ামী লীগ-বিএনপি ও পুলিশের মধ্যে ত্রিমুখী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় তিন পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়। এতে রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এ সময় দুটি বাসও ভাঙচুর করা হয়।




