ব্রেকিং নিউজ

পটিয়া আ’লীগের সাধারণ সম্পাদককে জিহ্বা কাটার হুমকি বহিস্কৃত নেতার

জাতীয় শোক দিবসের আলোচনা সভায় বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ না দেওয়ায় চট্টগ্রামের পটিয়ায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক হারুনুর রশিদের জিহ্বা কেটে নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন দল থেকে বহিস্কৃত নেতা এম এজাজ চৌধুরী। তিনি এর আগে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন।

সোমবার (১৫ আগস্ট) রাত ৮টার দিকে পটিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পটিয়া পৌরসভার সাবেক মেয়র অধ্যাপক হারুনুর রশিদের সঙ্গে কুসুমপুরা ইউনিয়নে নৌকার বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে বহিস্কৃত এজাজ চৌধুরীর মধ্যে এ ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, স্থানীয় সংসদ সদস্য ও হুইপ সামশুল হক চৌধুরীর নির্দেশনা অনুযায়ী জাতীয় শোক দিবসের আলোচনা সভায় কারা কারা বক্তব্য দেবেন সে সিদ্ধান্ত হয় আগে থেকেই। ওই নির্দেশনা অনুযায়ী বহিস্কৃত এজাজকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়নি।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পটিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আ ক ম শামসুজ্জামান চৌধুরী। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় সংসদের হুইপ সামশুল হক চৌধুরী। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন সাবেক মহিলা সংসদ সদস্য চেমন আরা তৈয়ব, উপজেলা চেয়ারম্যান মোতাহেরুল ইসলাম চৌধুরী, পটিয়া সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মোজাম্মেল হক, পটিয়া পৌরসভার মেয়র আয়ুব বাবুল এবং সাংবাদিক ওমর কায়সার।

গত বছরের ২৬ ডিসেম্বর পটিয়া উপজেলায় ১৭টি ইউনিয়ন পরিষদে ইউপি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এম এজাজ চৌধুরী নৌকা প্রতীক না পেয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন। ভোটে তার ভরাডুবি হয়। এর প্রেক্ষিতে দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ দল থেকে তাকে বহিস্কার করে। তবে এরপরও তিনি দলের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করে যাচ্ছেন।

সোমবার (১৫ আগস্ট) সকালে জাতীয় শোক দিবসের বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করার সময় এজাজ অংশগ্রহণ করেন। বহিস্কৃত নেতার সঙ্গে একত্রে ফুল দেওয়া নিয়ে হারুনুর রশিদ জানান, ‘সে তো বহিষ্কার হওয়া লোক। তাকে আমরা দলের কোন ধরনের সভা-সমাবেশে ডাকি না। সে নিজে নিজে এসে লাইনে দাঁড়িয়ে ছবি তোলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়।’

জানা গেছে, সোমবার বিকেলে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় তাকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ না দেওয়ার ক্ষোভে দলীয় নেতাকর্মীদের সম্মুখে হল টুডে কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত মেজবানে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদককে অশালীন ভাষায় গালাগাল করতে থাকেন এজাজ চৌধুরী।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এ সময় এজাজ সাধারণ সম্পাদককে উদ্দেশ্যে করে বলতে থাকেন— ‘জিহ্বা কেটে ফেলবো।’ এ সময় অধ্যাপক হারুনও ক্ষুব্ধ হয়ে এজাজকে চড়-থাপ্পড় ও লাথি মারেন। তাদের এমন আচরণে দলীয় নেতাকর্মীরা জড়ো হন। পরে দুই জনের অনুসারীরা এসে কমিউনিট সেন্টারে ভিড় জমায়। পটিয়া পৌরসভার কাউন্সিলর গোফরান রানার নেতৃত্বে কয়েকজন ছাত্রনেতা অধ্যাপক হারুনুর রশিদকে মারমুখী এজাজের হাত থেকে রক্ষা করেন।

জানা গেছে, এ ঘটনার পর পটিয়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি মিলনায়তনে বিষয়টি নিয়ে সমঝোতা চলে রাত সাড়ে দশটা পর্যন্ত।

এ ব্যাপারে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক হারুনুর রশিদ বলেন, ‘শোক দিবসের আলোচনায় কারা বক্তব্য দিবেন তা আগে থেকে নির্ধারণ করা হয়। এর মধ্যে দল থেকে বহিস্কৃত এজাজ বক্তব্য দিতে না পেরে আমাকে নিয়ে অশ্লালীন ভাষায় গালিগালাজ করে আমার জিহ্বা কেটে ফেলার হুমকি দেন। বিষয়টি আমি স্থানীয় সংসদ সদস্য সহ দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ নেতৃবৃৃন্দকে অবহিত করেছি।

দল থেকে বহিষ্কার হওয়া এম এজাজের কাজে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি এ ধরনের কোন ঘটনা ঘটেনি বলে অস্বীকার করেন।

দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সদস্য জানান, দল থেকে বহিস্কৃত উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এজাজ প্রায়ই দলের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করে বিশৃঙ্খলা করে আসছেন। – চট্টগ্রাম প্রতিদিন

About bdsomoy