ব্রেকিং নিউজ

মোল্লা কাওসারসহ ৬ নেতার পরিবার ও প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব জব্দ

ক্যাসিনো কাণ্ডে বহুল আলোচিত স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি মোল্লা আবু কাওসারসহ যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের ৪ নেতার ও তাদের পরিবার সদস্য এবং গ্রেফতার হওয়া দুই কাউন্সিলর মিজান ও রাজীবের ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়েছে। ব্যাংক হিসাব জব্দের তালিকায় খোদ শেখ পরিবারের একজন সদস্যের নামও রয়েছে। তিনি হচ্ছেন- যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ মারুফ।

জব্দকৃত ব্যাংক হিসাব থেকে কোনো টাকা উত্তোলন করা যাবে না, অন্য হিসাবে স্থানান্তর চলবে না, কোনো টাকা জমাও দেওয়া যাবে না। অর্থাৎ এসব হিসাবে কোনো ধরনের লেনদেন করা যাবে না। ২১ অক্টোবর, সোমবার এনবিআর থেকে দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে এই নির্দেশ দিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। সংস্থাটির কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল (সিআইসি) থেকে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে এ সংক্রান্ত পৃথক চিঠি পাঠানো হয়েছে। একই দিনে যুবলীগের চেয়ারম্যান পদ থেকে সদ্য অব্যাহতি পাওয়া ওমর ফারুক চৌধুরী ও তার স্ত্রী-সন্তানদের সব ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ (জব্দ বা লেনদেন স্থগিত) করা হয়।

যাদের ব্যাংক হিসাব স্থগিত করা হয়েছে তারা হলেন, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মোল্লা আবু কাওসার, তার স্ত্রী পারভীন লুনা, মেয়ে নুজহাত নাদিয়া নিলা এবং তাদের প্রতিষ্ঠান ফাইন পাওয়ার সল্যুয়েশন লিমিটেডের; স্বেচ্ছাসেবক লীগের অর্থ সম্পাদক কে এম মাসুদুর রহমান, তার স্ত্রী লুতফুর নাহার লুনা, বাবা আবুল খায়ের খান, মা রাজিয়া খান এবং তাদের প্রতিষ্ঠান সেবা গ্রীন লাইন লিমিটেডের; যুবলীগের দফতর সম্পাদক কাজী আনিসুর রহমান, তার স্ত্রী সুমি রহমান, তার প্রতিষ্ঠান মা ফিলিং স্টেশন, আরেফিন এন্টারপ্রাইজের।

এছাড়াও ব্যাংক হিসাব স্থগিত করাদের মধ্যে রয়েছেন, যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুর রহমান মারুফ। তিনি যুবলীগের সাবেক চেয়ারম্যান শেখ সেলিমের ছোট ভাই। চিঠিতে মারুফ, তার স্ত্রী সানজিদা রহমান, তাদের দুইটি প্রতিষ্ঠান টি-টোয়েন্টিফোর গেমিং কোম্পানি লিমিটেড ও টি-টোয়েন্টিফোর ল ফার্ম লিমিটেড।

এছাড়াও ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) ৩২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও মোহাম্মদপুর থানা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিজান ওরফে পাগলা মিজান এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৩৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের বহিষ্কৃত যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তারেকুজ্জামান রাজীবের ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়েছে।

গত মাসের ১৮ তারিখে রাজধানীর ফকিরাপুল ও গুলিস্তানে অবস্থিত কিছু ক্লাবে অভিযান চালিয়ে ক্যাসিনো পরিচালনার সরঞ্জাম ও নগদ টাকা উদ্ধার করে সেগুলো সিলগালা করে দেয়। এ অভিযানে যুবলীগ নেতা আরমানসহ যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের বেশ কয়েকজন নেতা গ্রেফতার হয়। এরই ধারাবাহিকতায় একই ধরনের অভিযোগে গত শনিবার (১৯ অক্টোবর) রাতে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৩৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের বহিষ্কৃত যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তারেকুজ্জামান রাজীবকে।

এর আগে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল থেকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) ৩২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও মোহাম্মদপুর থানা আওয়ামী লীগের আলোচিত নেতা হাবিবুর রহমান মিজান ওরফে পাগলা মিজানকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। একই ঘটনায় ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাটকে গ্রেপ্তার করা হয়। ক্যাসিনো কেলেঙ্কারির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে সম্রাট, নুরন্নবী চৌধুরী শাওন এমপি, সেলিম প্রধান, জি কে শামীম, খালেদসহ বেশ কয়েকজন ও তাদের পরিবারের ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়। ক্যাসিনোর ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে যুবলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি ওমর ফারুক চৌধুরীর সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাকে প্রথমে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। সোমবার ওমর ফারুক ও তার স্ত্রী-সন্তানদের হিসাব জব্দ করা হয়।

Please follow and like us:

About bdsomoy