সোমবার, এপ্রিল ২২, ২০২৪
প্রচ্ছদখেলার সময়প্রমাণিত হলে শাস্তি সর্বনিম্ন পাঁচ বছরের বহিষ্কারাদেশ, সর্বোচ্চ আজীবনের নিষেধাজ্ঞা

প্রমাণিত হলে শাস্তি সর্বনিম্ন পাঁচ বছরের বহিষ্কারাদেশ, সর্বোচ্চ আজীবনের নিষেধাজ্ঞা

নিজামউদ্দিন চৌধুরীর টেবিলে নথিপত্রের অভাব থাকে না কখনো। বিসিবির ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বলে কথা! তবে ইদানীং আর সব বাদ দিয়ে একটা জিনিসই বেশি ওল্টাতে হচ্ছে তাঁকে। বিসিবির দুর্নীতি দমন বিধি। প্রণীত হওয়ার মাত্র সাত মাসের মধ্যেই যে এই বিধি নিয়ে এত ঘাঁটাঘাঁটি করতে হবে, সেটা বোধ হয় নিজামউদ্দিন চৌধুরী অনুমানও করতে পারেননি।
আইসিসির নির্দেশনা অনুযায়ী, গত ১ অক্টোবর থেকে কার্যকর হয়েছে বিসিবির দুর্নীতি দমন বিধি। ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, আইসিসির দুর্নীতি দমন বিধির আলোকে তৈরি হলেও সেটার সঙ্গে বিসিবির দুর্নীতি দমন বিধির কিছু পার্থক্য আছে। তবে বিসিবির ৩৩ পৃষ্ঠার দুর্নীতি দমন বিধির যে দু-তিনটি পৃষ্ঠা নিয়ে এখন বিসিবিতে নাড়াচাড়া, সেগুলোর সঙ্গে পার্থক্য নেই আইসিসির দুর্নীতি দমন বিধিরও।
মোহাম্মদ আশরাফুল যদি সত্যি সত্যি শেষ পর্যন্ত ম্যাচ ফিক্সিংয়ের দায়ে দোষী প্রমাণিত হন, তাহলে বিধির ২.১.১ ধারা অনুযায়ীই শাস্তি হওয়ার কথা তাঁর। এ বিধি অনুযায়ী কোনো খেলোয়াড়ের বিরুদ্ধে ম্যাচ পাতানোর সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষে জড়িত থাকার অভিযোগ প্রমাণিত হলে শাস্তি সর্বনিম্ন পাঁচ বছরের বহিষ্কারাদেশ, সর্বোচ্চ আজীবনের নিষেধাজ্ঞা। এ ছাড়া ম্যাচ পাতিয়ে ওই খেলোয়াড় যদি আর্থিক বা অন্য কোনোভাবে সুবিধাপ্রাপ্ত হয়ে থাকেন, দুর্নীতি দমন ট্রাইব্যুনাল সেই পরিমাণ অর্থ জরিমানাও করতে পারে তাঁকে। তবে বিসিবির অনেকের আশা, আশরাফুলের স্বীকারোক্তি শাস্তির মাত্রা কিছুটা কমিয়েও আনতে পারে।
তবে সবকিছুই এখন নির্ভর করছে আইসিসির দুর্নীতি দমন বিভাগের তদন্ত প্রতিবেদনের ওপর। পরশু ভারত থেকে ফিরে বিসিবির সভাপতির দেওয়া বক্তব্য অনুযায়ী, প্রতিবেদনটি সপ্তাহ খানেকের মধ্যেই তাঁদের হাতে এসে যাওয়ার কথা। আইসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ডেভ রিচার্ডসন নাকি ভারতে তেমন আভাসই দিয়েছেন। তবে বোর্ডের একটি সূত্রে জানা গেছে, আইসিসির দুর্নীতি দমন বিভাগ এখনো বিপিএল নিয়ে তদন্ত শেষ করেনি। ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরস কর্তৃপক্ষ এবং তদন্তে বেরিয়ে আসা আরও কিছু খেলোয়াড়-কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে আবারও ঢাকায় আনার সম্ভাবনা আছে তাঁদের। সে ক্ষেত্রে আগামী দুই সপ্তাহের আগে অন্তত তদন্ত শেষ হওয়ার সম্ভাবনা নেই।
আইসিসির তদন্ত প্রতিবেদন দুই রকমই হতে পারে। তদন্তে কারও বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্টভাবে অভিযোগ প্রমাণিত হলে বা কেউ দোষ স্বীকার করলে শাস্তির ব্যাপারে সরাসরি দিকনির্দেশনা থাকতে পারে প্রতিবেদনে। আবার অভিযোগ প্রমাণিত না হলে সংশ্লিষ্ট বোর্ডের প্রতি থাকতে পারে আরও তদন্তের সুপারিশও। সেটা হলে পরবর্তী শুনানির জন্য ১০ সদস্যের ট্রাইব্যুনাল গঠন করবে বিসিবি। বোর্ড কর্মকর্তাদের অবশ্য ধারণা, আশরাফুলের ক্ষেত্রে প্রথমটি হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। নাম গোপন রাখার শর্তে এক কর্মকর্তার বক্তব্য, ‘মনে হয় না শেষ পর্যন্ত ট্রাইব্যুনাল গঠন করতে হবে। আইসিসির তদন্ত রিপোর্টেই হয়তো সব বলা থাকবে। সে ক্ষেত্রে শাস্তি নির্ধারণের জন্য একটা বোর্ডসভাই যথেষ্ট।’
ফিক্সিংয়ের অভিযোগ সামলানোর অভিজ্ঞতা এই প্রথম নয় বিসিবির জন্য। প্রথম বিপিএলে মাশরাফি বিন মুর্তজাকে স্পট ফিক্সিংয়ের প্রস্তাব দিয়ে আজীবন বহিষ্কৃত হয়েছেন সাবেক ক্রিকেটার শরিফুল হক। ভারতের ইন্ডিয়া টিভির ছদ্মবেশী প্রতিনিধির দেওয়া স্পট ফিক্সিংয়ের প্রস্তাবে রাজি হয়ে ১০ বছরের বহিষ্কারাদেশ শুনেছেন আম্পায়ার নাদির শাহও। দুটি ঘটনার তদন্তই করেছিল বিসিবির শৃঙ্খলা কমিটি এবং তাদের সুপারিশ অনুযায়ী বোর্ডই শাস্তি দিয়েছিল অভিযুক্ত ব্যক্তিদের। দুই ঘটনায় মিল আছে আরও একটা। শরিফুল বা নাদির কাউকেই এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক চিঠি দিয়ে শাস্তির সিদ্ধান্ত জানায়নি বিসিবি। তাঁরা সিদ্ধান্ত জেনেছেন পত্রিকা পড়ে আর টেলিভিশনের খবর শুনে। বোর্ডের কাছ থেকে কিছু জানেননি বলে শাস্তির বিরুদ্ধে তাঁরা কেউই কোনো আপিল করতে পারেননি এখনো। বিসিবির ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী নিজামউদ্দিন চৌধুরী অবশ্য বলেছেন, শিগগিরই বোর্ড থেকে চিঠি পাবেন শাস্তিপ্রাপ্তরা।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ