বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ২৫, ২০২৪
প্রচ্ছদআরো খবর......কোটাবিরোধী শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগ ও পুলিশের হামলা

কোটাবিরোধী শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগ ও পুলিশের হামলা

ষ্টাফরিপোর্টার (বিডিসময়২৪ডটকম)

বিসিএসে কোটাবিরোধী আন্দোলনকে কেন্দ্র করে গতকাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তুলকালামকাণ্ড ঘটেছে। পুলিশ ও ছাত্রলীগ এক হয়ে  আন্দোলনকারী বিসিএস প্রার্থীদের পিটিয়েছে। প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষকালে পুলিশের রাবার বুলেট ও লাঠিচার্জে অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। আটক করা হয়েছে ৯ জনকে। এক পর্যায়ে ঘটনাটি ত্রিমুখী সংঘর্ষে রূপ নেয়। শাহবাগ ও সংশ্লিষ্ট এলাকায় যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। প্রথম রোজাতেই যানজটের কবলে পড়ে কয়েকটি সড়ক। পুলিশের গুলিতে চারজন ও ছাত্রলীগের হামলায় ১৫ জন গুরুতর আহত হন। কেবল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েই নয়, আন্দোলনরত প্রার্থীদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে  ঢাকার বাইরের বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও সরকারি চাকরিতে সব ধরনের কোটা বাতিলের দাবিতে মানববন্ধন, অবস্থান ও মহাসড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছেন। আমাদের প্রতিনিধির পাঠানো খবর অনুযায়ী জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি), চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি), রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি), সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবি), রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় এবং মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (মাভাবিপ্রবি) কোটাবিরোধী বিভিন্ন কর্মসূচি পালনের খবর পাওয়া গেছে। ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে।
অন্যদিকে হামলার প্রতিবাদে আন্দোলনকারীরা উপাচার্যের বাসভবন ও কার্যালয়, প্রক্টর অফিস, সমাজবিজ্ঞান বিভাগ, চারুকলা অনুষদ, প্রশাসনিক ভবন ও কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করেছেন। ‘ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ’ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দাবি করছে, আন্দোলনকারীরা জামায়াত-শিবির। ক্যাম্পাসকে অস্থিতিশীল করার জন্য তারা ভাঙচুর চালিয়েছে, দাবি আদায় তাদের মুখ্য উদ্দেশ্য নয়। সব ধরনের সরকারি চাকরিতে কোটা প্রথা বাতিলের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে অনড় থাকার কথা জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন বিসিএস পরীক্ষার্থীরা। পাবলিক লাইব্রেরির সামনে বিকেল সাড়ে ৩টায় সংবাদ সম্মেলনে আন্দোলনকারীদের পক্ষে খুলনা বিএল কলেজের শিক্ষার্থী সিদ্দিকুর রহমান বলেন, আমরা আন্দোলনকারীরা শাহবাগের ‘মেধা চত্বর’ ছেড়ে যাচ্ছি না। শুধু রমজানের সম্মানার্থে এবং শেষ বিকেলে যাত্রী সাধারণের যাতে দুর্ভোগ না হয় সেজন্য শাহবাগ চত্বর উন্মুক্ত করে দিয়েছি। রোজদারদের কথা চিন্তা করে গতকাল বিকেল সাড়ে ৩টায় তারা অবস্থান কর্মসূচি স্থগিত করেছেন। তারা শাহবাগ মোড়কে ‘মেধা চত্বর’ নাম দিয়েছেন। আজ শুক্রবার বিকেল ৩টায় এই চত্বর থেকে সম্মিলিতভাবে আন্দোলনের পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করবেন। সংবাদ সংম্মেলনে আন্দোলনকারীরা হামলার জন্য ছাত্রলীগ ও প্রশাসনকে দায়ী করে বলেন, শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে পুলিশ এবং মুখোশধারী সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়েছে। এ হামলার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে আটককৃত মেধাবী ছাত্রদের নিঃশর্ত মুক্তিরও দাবি জানান তারা।
অন্যদিকে আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান সংগঠনের সভাপতি সাজ্জাদ হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক রাশেদুজ্জামান শাহীন এক বিবৃতিতে বলেন, যারা মুক্তিযোদ্ধা ও নারী কোটা বাতিল চায় তারা সাধারণ ছাত্রের নামধারী জামায়াতের দোসর। তাদের কথায় মুক্তিযোদ্ধা কোটায় হাত দিলে সারা দেশের লাখ লাখ মুক্তিযোদ্ধার সন্তান রাস্তায় নেমে আসতে বাধ্য হবে।
সিদ্ধান্ত ছাড়াই পিএসসির বৈঠক শেষ : এদিকে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশনের (পিএসসি) চেয়ারম্যানসহ সদস্য ও সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রেক্ষিতে বৈঠক করেছেন। কিন্তু কোনো সিদ্ধান্তে আসতে পারেননি বলে কমিশনের চেয়ারম্যান এটি আহমেদুল হক চৌধুরী সাংবাদিকদের জানিয়েছেন। সিদ্ধান্ত নিতে শিগগিরই আবারও বৈঠক করবেন বলে তিনি জানান। তবে কত দিনের মধ্যে বা কীভাবে এই ফল পুনর্বিবেচনা করা হবে সে বিষয়ে কমিশনের কোনো সদস্যই কিছু জানাননি।
গত সোমবার ৩৪তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। এতে পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের মধ্যে ১২ হাজার ৩৩ প্রার্থী লিখিত পরীক্ষার জন্য যোগ্য বিবেচিত হয়েছেন। এই ফল প্রকাশের পর দেখা যায়, এবার প্রিলিমিনারিতেই কোটা পদ্ধতি অনুসরণ করার কারণে অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী ৮০’র বেশি নম্বর পাওয়ার পরও লিখিত পরীক্ষার জন্য যোগ্য বিবেচিত হননি। এর প্রতিবাদে ক্ষুব্ধ কয়েক হাজার প্রার্থী ফল পুনর্মূল্যায়ন ও সব ধরনের কোটা বাতিলের দাবি জানিয়ে গত বুধবার সকাল ১০টার পর থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত  শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নেন। দিনভর প্রার্থীদের অবরোধ, বিক্ষোভ ও প্রতিবাদের তোড়ে বুধবার বিকেলে ৩৪তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষার ফল স্থগিত করে তা পুনর্বিবেচনার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশন (পিএসসি)। উল্লেখ্য, এতদিন প্রিলিমিনারি, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার পর চূড়ান্ত পর্যায়ে কোটা পদ্ধতি অনুসরণ করা হতো।
এদিকে কমিশনের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানালেও চাকরিতে সব ধরনের কোটা বাতিল না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন প্রার্থীরা। এরই ধারাবাহিকতায় পূর্বঘোষণা অনুযায়ী ‘বঞ্চিত শিক্ষার্থী’ ব্যানারে গতকাল বেলা সোয়া ১১টার দিকে শিক্ষার্থীরা মিছিল সহকারে শাহবাগের উদ্দেশে রওনা হন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মিছিলটি গণগ্রন্থাগারের সামনে পৌঁছলে পুলিশ বাধা দেয়। এ সময় উভয়পক্ষ বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে পুলিশ আন্দোলনকারীদের লাঠিপেটা করে ও কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে। আন্দোলনকারীরাও পুলিশকে লক্ষ করে ইট-পাটকেল ছুড়তে থাকে। এ সময় আন্দোলনকারীদের একটি অংশ বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে চলে আসে। আসার পথে তারা এটিএন বাংলা, চ্যানেল ৭১-এর গাড়িসহ বেশ কয়েক গাড়ি ভাঙচুর করে। এটিএন বাংলার গাড়ির ড্রাইভারকেও মারধর করা হয়। কিছু আন্দোলনকারী চারুকলা চত্বরের ভেতরে ঢুকে মঙ্গল শোভাযাত্রায় ব্যবহূত ‘মোটিফ’ টেনে রাস্তায় নিয়ে আসে এবং আগুন ধরিয়ে দেয়। এ সময় পুলিশের সঙ্গে তাদের কয়েক দফা ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া হয়। একপর্যায়ে পুলিশ সাঁজোয়া যানযোগে কাঁদানে গ্যাসের শেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। অন্যদিকে গণগ্রন্থাগারের ভেতরে অবস্থানকারী কিছু আন্দোলনকারী প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের কপি পুড়িয়ে স্লোগান দিতে থাকে। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, পত্রিকা দুটিতে তাদের আন্দোলনের সংবাদ সঠিকভাবে উপস্থাপন করা হয়নি।
এদিকে পুলিশের ধাওয়া খেয়ে আন্দোলনকারীরা স্লোগান দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে ও বিশ্বদ্যািলয়ের প্রক্টর অফিস এবং সমাজবিজ্ঞান বিভাগে ভাঙচুর চালায়। এরপর পরীক্ষার্থীরা মিছিল নিয়ে নীলক্ষেতের দিকে যেতে চাইলে পুলিশ আবার বাধা দেয়। এফ রহমান হলের সামনে পুলিশের সঙ্গে আবারও আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষ বাধে। এ সময় পুলিশের রাবার বুলেটে এনামুল, সৃজন, আনোয়ার এবং জহির আহত হন। তারা ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিত্সাধীন। পুলিশের হামলায় টিকতে না পেরে আন্দোলনকারীরা আবার লাঠিসোটা হাতে ক্যাম্পাসের দিকে চলে আসেন। এ পর্যায়ে তারা উপাচার্যের কার্যালয়, প্রশাসনিক ভবন ভাঙচুর করে আবার মিছিল নিয়ে শাহবাগের দিকে রওনা হয়। মিছিলটি পৌনে ১টার দিকে মধুর ক্যান্টিন অতিক্রম করলে ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শামসুল কবির রাহাতের নেতৃত্বে একদল ছাত্রলীগ কর্মী পেছন থেকে ধাওয়া দেয় আর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ সংলগ্ন রাস্তা থেকে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছুড়তে থাকে। এ সময় পরীক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগার ও কলাভবনের সামনে ও মলচত্বরে অবস্থান নেন এবং রোকেয়া হলের সামনের রাস্তায় পুলিশের একটি মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেন। পরে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করা আন্দোলনকারীদের ছাত্রলীগকর্মীরা বেধড়ক মারধর ও ছত্রভঙ্গ করে দেয়। দুপুর ১টার দিকে আন্দোলনকারীরা আবার উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নেন। এ সময় কিছু উচ্ছৃঙ্খল আন্দোলনকারী উপাচার্যের বাসভবনের গেট ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে বেশ কয়েকটি ফুলের টব ভাঙচুর করে চলে আসে। এ পর্যায়ে আবার পুলিশ ও ছাত্রলীগের ধাওয়ায় তারা ওই স্থান ত্যাগ করলে পরিস্থিতি শান্ত হয়। ক্ষণে ক্ষণে এমন সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে নুরনবী মণ্ডল (বাংলা তৃতীয় বর্ষ), ফয়সাল আহমেদ (রাষ্ট্রবিজ্ঞান, চতুর্থ বর্ষ), মোস্তাফিজুর রহমান (শান্তি ও সংঘর্ষ বিভাগ, তৃতীয় বর্ষ), সজীব (দর্শন, প্রথম বর্ষ), আবু সালেম (দর্শন, প্রথম বর্ষ), আফতাম (মার্কেটিং), মাহিন (এ এফ রহমান হল), শরীফ (জহুরুল হক হল), কামরুল ও আলামিন (মুহসীন হল), প্রদীপ কুমারের (জগন্নাথ হল) নাম পাওয়া গেছে। এরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মেডিক্যাল সেন্টারে চিকিত্সাধীন রয়েছেন।
আন্দোলনের ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর ড. আমজাদ আলী বলেন, এই আন্দোলন দাবি আদায়ের জন্য নয়, বিশ্ববিদ্যালয় তথা দেশকে অস্থিতিশীল করার আন্দোলন। এর একদিন আগে প্রক্টর আন্দোলনে সংহতি প্রকাশ করেছিলেন। তা স্মরণ করিয়ে দিলে তিনি বলেন, কালকের যে দাবি ছিল তাতে আমি সমর্থন দিয়েছি এবং পিএসসি তা সংশোধনও করেছে। এখন আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে জামায়াত-শিবির হামলা চালাচ্ছে। উপাচার্যের বাসভবন ও প্রক্টর অফিস ভাঙচুর তাই প্রমাণ করে। পুলিশের ভূমিকা প্রসঙ্গে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, শুরুতে পুলিশ আমাদের অনুমতি ছাড়াই টিয়ারশেল নিক্ষেপ করেছে। পরে উপাচার্যের বাসভবনে হামলা চালালে আমি তাদের (পুলিশ) ডেকে আনি।
পুলিশের হামলার বিষয়ে রমনা জোনের সহকারী কমিশনার (এসি) শিবলি নোমান জানান, ছাত্রদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে সমাবেশ করার অনুরোধ জানানো হয়েছিল। কিন্তু তারা অনুরোধ উপেক্ষা করে শাহবাগে এসে গাড়ি ভাঙচুর করেন। যানজট এড়াতে ছাত্রদের সরিয়ে দেওয়া ছাড়া আর কিছু করার ছিল না। আটকের বিষয়ে তিনি জানান, উপাচার্যের বাসভবনের সামনে থেকে আট ও শাহবাগ থেকে একজনকে আটক করা হয়েছে। তারা শাহবাগ থানায় আছেন। যাচাই-বছাইয়ের পর আটককৃতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের সংবাদ সম্মেলন : এদিকে ঘটনার পর তাত্ক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানাতে বেলা সাড়ে ৩টার দিকে মধুর ক্যান্টিনে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ ও প্রগতিশীল ছাত্র জোট। অন্যদিকে সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার জন্য পুলিশ ও ছাত্রলীগকে দায়ী করে এর তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছেন ছাত্রদল সভাপতি আবদুল কাদের ভূঁইয়া জুয়েল ও সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রশিদ হাবিব। পরিষদের ব্যানারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় সভাপতি এইচ এম বদিউজ্জামান সোহাগ বলেন, স্পর্শকাতর বিষয়কে জিম্মি করে কিছু জামায়াত-শিবির ক্যাডার আন্দোলনের নামে ক্যাম্পাসকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। তিনি সাধারণ শিক্ষার্থীদের এ ব্যাপারে সাবধান থাকার আহ্বান জানান। ছাত্রলীগের হামলার বিষয়ে তিনি বলেন, ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে কোনো হামলা করা হয়নি। মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে কটূক্তি করায় ছাত্রলীগের অনুসারী কিছু মুক্তিযোদ্ধার সন্তান প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
অন্যদিকে প্রগতিশীল ছাত্র জোটের ব্যানারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ছাত্র ইউনিয়ন সভাপতি এস এম শুভ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, পুলিশ ও ছাত্রলীগের ভূমিকার সমালোচনাসহ কোটা পদ্ধতির সংস্কার দাবি করেন। তিনি বলেন, কোটা ব্যবস্থা বাতিল না করে এর সংস্কার করতে হবে এবং আনুপাতিক হারে যৌক্তিক কোটা প্রণয়ন করতে হবে।
ঢাকার বাইরেও আন্দোলন : প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্য থেকে জানা যায়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে বেলা ১১টায় কোটা বাতিলের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে অবস্থান নেন তিন শতাধিক শিক্ষার্থী। তাদের সঙ্গে বিভিন্ন বিভাগের কয়েক শিক্ষকও একাত্মতা প্রকাশ করেন। প্রায় পৌনে এক ঘণ্টা শিক্ষার্থীদের অবরোধে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। দুপুর পৌনে ১২টার দিকে প্রতীকী অবরোধ তুলে নেন শিক্ষার্থীরা। এরপর তারা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের ভেতরে খণ্ড খণ্ড মিছিল-সমাবেশ করেন। আগামী শনিবার বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে কোটাবিরোধী বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচি দিয়েছেন তারা।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে বেলা ১১টা থেকে সাড়ে ১২ পর্যন্ত ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন শিক্ষার্থীরা। তারা আগামী শনিবারের মধ্যে দাবি আদায় না হলে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে লাগাতার আন্দোলনের ঘোষণা দেন। শিক্ষার্থীদের অবস্থানের কারণে ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়কের প্রায় আধা কিলোমিটার এলাকাজুড়ে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ থাকে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক তারিকুল হাসান বলেন, শিক্ষার্থীরা যৌক্তিক দাবিতে আন্দোলন করছে। তবে আন্দোলন শান্তিপূর্ণভাবে করার জন্য আমি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেছি। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বুদ্ধিজীবী চত্বরে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন চবির শিক্ষার্থীরা। রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী সাদিকুল ইসলাম বলেন, কোটার নামে মেধাবীদের অবমূল্যায়ন কোনো দেশ ও জাতির জন্য সুখকর কিছু বয়ে আনতে পারে না। কোটা পদ্ধতি বাতিল না হওয়া পর্যন্ত আমরা মাঠে থাকব। কর্মসূচিতে আগামীকাল থেকে কোটাবিরোধী গণস্বাক্ষর সংগ্রহ অভিযান শুরু করার কথা জানানো হয়। গতকাল দুপুর সোয়া ১২টার দিকে মিছিল নিয়ে এসে সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়ক অবরোধ করেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নগরীর পার্কের মোড়ে মানববন্ধন ও সমাবেশ করেছেন। সমাবেশে বক্তব্য দেন রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র আবদুল কাদের, আনোয়ার হোসেনসহ অন্যরা। মাভাবিপ্রবির শতাধিক শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে মানববন্ধন করেছেন।
কমিশন থেকে পাওয়া তথ্যানুযায়ী বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ সংখ্যক ২ লাখ ২১ হাজার ৫৭৫ প্রার্থীর মধ্যে ১ লাখ ৯৫ হাজার ৬০০ জন গত ২৪ মে ৩৪তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা দিয়েছেন। এ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে সরকারি চাকরির বিভিন্ন ক্যাডারে ২ হাজার ৫২টি পদে নিয়োগ দেওয়া হবে। এবার প্রিলিমিনারি থেকে লিখিত পরীক্ষায় সুযোগ পাওয়ার হার ৫ দশমিক ৪৩ শতাংশ। এর আগে ৩৩তম বিসিএসের প্রিলিমিনারিতে ১৪ দশমিক ৯৮, ৩২তম বিশেষ বিসিএসে ৪৪ এবং ৩১তম বিসিএসের প্রিলিমিনারিতে ৬ দশমিক ২৪ শতাংশ প্রার্থী উত্তীর্ণ হয়েছিলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ