বুধবার, নভেম্বর ২৯, ২০২৩
প্রচ্ছদজাতীয়গাজীপুরের প্রথম নগরপিতা মান্নান

গাজীপুরের প্রথম নগরপিতা মান্নান

চার সিটি করপোরেশনের পর এবার গাজীপুরেও চমক। ১৮ দলীয় জোট সমর্থিত প্রার্থী অধ্যাপক এমএ মান্নান বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছেন। সর্বশেষ পাওয়া বেসরকারি ফলে দেড় লাখেরও বেশি ভোটে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রথম মেয়র হিসেবে বিজয়ী হন তিনি। রাত দুইটায় নগরীর বঙ্গতাজ মিলনায়তনে এমএ মান্নান তার পোলিং এজেন্টদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী এক লাখ ৫৬ হাজার ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন বলে দাবি করেন। তিনি জানান, টেলিভিশন প্রতীকে ভোট পেয়েছেন চার লাখ ৬৮ হাজার। আর তার প্রতিদ্বন্দ্বী দোয়াত-কলম প্রতীক ভোট পেয়েছে তিন লাখ ১২ হাজার। যদিও রিটার্নিং অফিসারের পক্ষ থেকে তখন ২১২টি কেন্দ্রের ফল ঘোষণা করা হয়। এতে অধ্যাপক মান্নান ৫৬ হাজারেরও বেশি ভোটে এগিয়ে ছিলেন।
রাত দুইটায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত সরকারিভাবে ঘোষিত ২১২টি কেন্দ্রের ফল ঘোষণা করা হয়। এতে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী এডভোকেট আজমত উল্লাহ খান পান ১,৩৮,৯০১ ভোট। ১৮ দল সমর্থিত অধ্যাপক মান্নান পান ১,৯৪,৪৭৬ ভোট। বঙ্গতাজ মিলনায়তনে উপস্থিত সাংবাদিকদের মান্নান তার প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ায় জানান, তার এ বিজয় গাজীপুরের মানুষ এবং পুরো দেশের জনগণের। তিনি তার বিজয়কে গাজীপুর বাসীর জন্য উৎসর্গ করেন। আজ বিকাল তিনটায় আনুষ্ঠানিকভাবে সংবাদ সম্মেলন করার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, এখন তার লক্ষ্য গাজীপুরকে পরিবেশবান্ধব একটি নগরী হিসেবে গড়ে তোলা। মান্নান জানান, ফলাফলে এগিয়ে থাকায় রাতেই বিরোধী নেত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। এদিকে দল সমর্থিত প্রার্থীর জয় নিশ্চিত হওয়ার পর বিএনপি নেতারা জানিয়েছেন, নির্বাচনে এ জয় প্রত্যাশিত ছিল। এটি সরকারের অপশাসনের জবাব।
গতকাল বিকালে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ফল মেনে নেয়ার জন্য প্রার্থীদের প্রতি আহ্বান জানান। আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ দলের নেতাকর্মীদের ফল মেনে নেয়ার আহ্বান জানান। এদিকে রাতে এ রিপোর্ট লেখার সময় সরকারিভাবে কোন প্রার্থীকে বিজয়ী ঘোষণা করা না হলেও কেন্দ্র থেকে পাওয়া ভোটের হিসাব পেয়ে সরকারি দল সমর্থিত প্রার্থীদের কর্মী-সমর্থকরা দলীয় কার্যালয় ও রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় ছেড়ে যান। রাতে ফল ঘোষণার সময় রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে এডভোকেট আজমত উল্লা খানের কোন প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন না। ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর নগরীতে আজমত সমর্থকরা মিছিল করলেও রাতে তারা আর রাস্তায় ছিলেন না।
গাজীপুর থেকে আমাদের বিশেষ প্রতিনিধি দীন ইসলাম, সিনিয়র রিপোর্টার লায়েকুজ্জামান, মিজানুর রহমান, কাফি কামাল, নিয়াজ মাহমুদ, স্টাফ রিপোর্টার ইকবাল সরকার ও টঙ্গী প্রতিনিধি এমএ হায়দার সরকার  জানান,
জাতীয় নির্বাচনের মতোই উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয় গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রথম নির্বাচন। নির্বাচনকে ঘিরে ছিল উত্তেজনা, সংশয়-শঙ্কা। সকাল থেকে প্রার্থীদের পক্ষ থেকে পাওয়া যায় অভিযোগ পাল্টা অভিযোগ। সবচেয়ে বড় অভিযোগটি ছিল ভোট গ্রহণে ধীরগতি। নির্বাচন কমিশনের দেয়া তথ্য অনুযায়ী ৬০ ভাগের মতো ভোট পড়েছে। জাতীয় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী বড় দুই দল ও তাদের নেতৃত্বাধীন জোট, মহাজোট ও ১৪ দল। গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনেও কার্যত তা-ই হয়েছে। স্থানীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জাতীয় নির্বাচনেরই মহড়া হয়ে গেল এই সিটি করপোরেশনে। আওয়ামী লীগের দুর্গ বলে পরিচিত গাজীপুরে আঘাত হেনেছে বিএনপি। পুরো জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আবহ উৎসাহ-উদ্দীপনা ছিল এখানে। ভোটার সংখ্যা ও আয়তনের তুলনায় ভোটকেন্দ্র ছিল কম। নির্ধারিত সময়ের পরও বহু ভোটার ভোট দিতে পারেননি। প্রথম নগরপিতা নির্বাচনে ভোটারদের বিপুল অংশগ্রহণ, উৎসাহ-উদ্দীপনা ছিল লক্ষণীয়। আওয়ামী লীগ ও বিএনপি’র নেতা-কর্মীরা এই নির্বাচনের ফলাফল ঘরে তুলতে প্রচারাভিযানের শুরু থেকে শনিবার ভোট গ্রহণের দিন পর্যন্ত ছিলেন মরিয়া। এ যেন কেবলই এই সিটি করপোরেশন নয়, আগামী জাতীয় নির্বাচনের ফলাফল নির্ধারক। উত্তেজনা থাকলেও গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই সম্পন্ন হয়েছে। কিছু অঘটন ঘটেছে। বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী এম এ মান্নান ৫০টি কেন্দ্রে অনিয়মের অভিযোগ করেছেন। রিটার্নিং অফিসার বলছেন, এগুলো বিচ্ছিন্ন ঘটনা। গাজীপুর মহিলা কলেজসহ কয়েকটি কেন্দ্রে দুই প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা, হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সামগ্রিক আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে থাকলেও বেশির ভাগ ভোটগ্রহণ কেন্দ্র ঘিরে বড় দুই দলের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা, মারমুখোভাব। বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীর পক্ষে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরে রিটার্নিং অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। কয়েকটি কেন্দ্রে এজেন্টদের আইডি কার্ড না দেয়া, এজেন্টদের বের করে দেয়া, তাদের বাধা দেয়া, ভোটারদের রিকশা করে আসতে না দেয়া, সরকারি দল সমর্থিত প্রার্থীর সমর্থকদের ভোট কেন্দ্রে জড়ো হওয়ার সুযোগ দেয়া এবং বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীর সমর্থকদের বাধা দেয়া, পোলিং এজেন্টদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে হামলা, হুমকি দেয়া, মারধর করার অভিযোগ করা হয়েছে। দায়িত্বরত ১৬ জন ওসির মধ্যে ১৪ জনই গোপালগঞ্জের। পুলিশ কর্তৃক সরকারি দল সমর্থিত প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার অভিযোগ করা হয়েছে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এম কে আনোয়ার শনিবার নির্বাচন কমিশনে গিয়ে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ করেছেন। বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোট জালিয়াতি, এম এ মান্নানের এজেন্টদের বের করে দেয়া, পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের সরকারি দল সমর্থিত প্রার্থীর পক্ষে কাজ করা, টঙ্গীতে একটি কেন্দ্রে এক মহিলাকে ৩৫টি ভোট দেয়ার সুযোগ করে দেয়া, মান্নানের কর্মীদের লাইনে দাঁড়াতে না দেয়া, তাদের হয়রানি, গ্রেপ্তারের অভিযোগ করেছেন। নির্বাচন কমিশনের সচিব বলেছেন, এম এ মান্নানের এজেন্টদের বের করে দেয়াসহ উত্থাপিত অভিযোগসমূহের সত্যতা পাওয়া যায়নি। বিএনপি ও আওয়ামী লীগের পক্ষে সংবাদ সম্মেলন করে নেতৃবৃন্দ পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করেন।
গাজীপুর সিটি করপোরেশন একটি স্থানীয় সরকার সংস্থার নির্বাচন হলেও জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দলগুলো এবং জোট, মহাজোট একে সর্বোচ্চ গুরুত্ব সঙ্গে নেয়। গার্মেন্টের শ্রমিক, জাতীয় পার্টি, হেফাজতের কর্মী-সমর্থকদের ভোট গাজীপুরে নিয়ামক হয়ে কাজ করেছে। শুরু থেকেই এ নির্বাচন ছিল নাটকীয় ঘটনায় ভরা। জাহাঙ্গীর আলমের নাটকীয় প্রার্থিতা প্রত্যাহার, জাতীয় পার্টি প্রধান এরশাদের অতি নাটকীয় সিদ্ধান্ত, হেফাজতে ইসলামের ভূমিকা, শুরু থেকেই আওয়ামী লীগ ও বিএনপির এমপিদের, শীর্ষ থেকে কেন্দ্রীয় ও বিভিন্ন জেলার নেতা-কর্মীদের নিরন্তর পরিশ্রম স্থানীয় এ নির্বাচনকে উঁচু মাত্রায় নিয়ে গেছে। বিএনপি শুরু থেকেই বিভিন্ন ঘটনার উল্লেখ করে নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করে আসছিল। সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচনের নিশ্চয়তা বিধানে সেনা মোতায়েনের দাবি ছিল তাদের মুখ্য। অপরদিকে আওয়ামী লীগ থেকে বলা হয়েছে, একই অভিযোগ তারা করেছিলেন চার সিটি করপোরেশন নির্বাচনে। সেসব নির্বাচনে সেনা মোতায়েন ছাড়াই অবাধ নিরপেক্ষ ভোটে তারা জয়লাভ করে। আওয়ামী লীগ নেতা তোফায়েল আহমদ বলেছেন, আগামী সংসদ নির্বাচনও এ সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন হবে। এদিকে স্থানীয় নির্বাচনকে জাতীয় নির্বাচনে রূপ দেয়ার ঘটনা নির্দলীয় স্থানীয় সরকার নির্বাচনকেও প্রশ্নবিদ্ধ করেছে পরবর্তী স্থানীয় সরকার সংস্থাসমূহের নির্বাচন প্রভাবিত করতে পারে।
জাতীয় নির্বাচন ঘনিয়ে আসায় এই নির্বাচন সংসদ নির্বাচনেও প্রভাব ফেলবে বলে দু’পক্ষই মরণজয়ী লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়। দুই পক্ষই রাজনৈতিক প্রতিযোগিতায় অবতীর্ণ হয়। এরশাদের জাতীয় পার্টির মাঠের নেতা-কর্মীরা আগেই বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীর পক্ষে মাঠে নেমে পড়েন। নানা কৌশলে তাদের দমিত রাখা সম্ভব না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত এরশাদকে দিয়ে সমর্থন আদায় করা হয়। কিন্তু তাতেও জাপার নেতা কর্মীদের বৃহত্তর অংশই এম এ মান্নানের পক্ষে থেকে যান। হেফাজতে ইসলামের কর্মীরা মান্নানের পক্ষে শুরু থেকেই সক্রিয় ছিলেন। আজমতউল্লাহ তাদের একটি অংশকে সঙ্গে পাওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করেন। টঙ্গী-গাজীপুরের গার্মেন্ট-এ কর্মরত নারীসহ কয়েক লাখ গার্মেন্ট শ্রমিকও নিয়ামক ভূমিকা রেখেছেন। জিএসপি সুবিধা স্থগিত রাখার জন্য বিরোধী দলকে দায়ী করে ব্যাপক প্রচারণার মাধ্যমে গার্মেন্ট শ্রমিকদের প্রভাবিত করার চেষ্টা চালানো হয়। সব প্রচার-প্রচারণা একে অপরকে দোষারোপ, টাকার খেলা, দুই দল ও জোটের নেতৃবৃন্দের দৌড়ঝাঁপ, কর্মী-সমর্থকদের প্রাণান্ত চেষ্টার ফল জানার অপেক্ষায় উদগ্রীব গোটা জাতি।
জনসংখ্যার দিক থেকে দ্বিতীয় ও আয়তনের দিক থেকে দেশের বৃহত্তম সিটি করপোরেশন নবগঠিত গাজীপুর। ৩২৯ দশমিক ৯০ বর্গকিলোমিটার এলাকা নিয়ে গঠিত গাজীপুর সিটি করপোরেশন। এই সিটি করপোরেশনের ভোটার ১০ লাখ ২৬ হাজার ৯৩৯ জন। ৭ই জানুয়ারি গঠিত এই করপোরেশনে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয় ২২শে মে। নগরপিতা নির্বাচনের জন্য সকাল থেকে বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্যে ভোটাররা ভোট দিতে বিভিন্ন কেন্দ্রে ভিড় করেন। মেয়র পদে একজন মহিলাসহ প্রার্থী ছিলেন ৭ জন। প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছে আওয়ামী লীগ ও ১৪ দল সমর্থিত এডভোকেট আজমতউল্লাহ খান (দোয়াত-কলম) এবং বিএনপি ও ১৮ দল সমর্থিত অধ্যাপক এমএ মান্নানের টেলিভিশন মধ্যে। সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৪৫৫ জন, সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর পদে ১২৮ জন প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। রিটার্নিং অফিসার, প্রিজাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার, পোলিং অফিসার নিয়ে ৮ হাজার কর্মকর্তা নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন। বিজিবি, র‌্যাব, পুলিশ, আনসারসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাড়ে ১১ হাজার সদস্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত ছিল। ৫৭টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত এই সিটি করপোরেশনে ৫০ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ৫০টি ভ্রাম্যমাণ আদালত এবং ১০ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করেন। কেন্দ্রভিত্তিক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের নিয়োজিত রাখা ছাড়াও আর্মড পুলিশের ১৯টি স্ট্রাইকিং ফোর্স, বিজিবির ১২টি স্ট্রাইকিং টিম ও পুলিশের ৫২টি টিম সার্বক্ষণিক টহল দিয়েছে।
রায় মেনে নেয়ার আহ্বান সিইসি’র
গাজীপুরের নির্বাচনের ফলাফল মেনে নেয়ার জন্য প্রার্থীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ। তিনি বলেছেন, নির্বাচনে যিনিই বিজয়ী হন, শক্তি প্রদর্শন করবেন না। জনগণের শান্তি বিনষ্ট করবেন না। গতকাল বিকালে কমিশন কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি ভয়ভীতির ঊর্ধ্বে উঠে ভোট কেন্দ্রে হাজির হওয়ায় ভোটারদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ভোটাররা অনেক কষ্ট করে, রোদে দাঁড়িয়ে থেকে তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করেছেন। ভোটের মাধ্যমেই জনগণের মতামতের প্রতিফলন হয়। প্রার্থী ও তাদের সমর্থকদের প্রতি অনুরোধ জানাই, জনরায়ের প্রতি শ্রদ্ধা দেখান। সারা দেশে সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ নির্বাচন ঐতিহ্য গড়ে তুলুন। নির্বাচন চলাকালে বিভিন্ন প্রার্থী ও রাজনৈতিক ব্যক্তিদের অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগ প্রসঙ্গে সিইসি বলেন, যেসব অভিযোগ এসেছে তা তাৎক্ষণিক তদন্তসাপেক্ষে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। গণমাধ্যমের সরব উপস্থিতির কারণে ভোটকেন্দ্র ছাড়াও এর আশপাশের এলাকার খবর দ্রুত পাওয়ায় কমিশনের কাজ সহজ হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। গণমাধ্যমের প্রত্যক্ষ দৃষ্টিপাতের কারণে এখন আর ভোটে কোন ধরনের লুকোচুরির সুযোগ নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সিইসি বলেন, ভোট পরবর্তী শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় আমরা বদ্ধপরিকর। নির্বাচন পরবর্তী শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহায়তা করার জন্য তিনি সকল মহলকে আহ্বান জানান। গাজীপুর ছাড়াও তিনটি পৌরসভায় অনুষ্ঠিত নির্বাচনও অবাধ, শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। গতকাল আড়াইহাজার, সোনাইমুড়ী ও গোপালদী পৌরসভায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ