মঙ্গলবার, এপ্রিল ২৩, ২০২৪
প্রচ্ছদপ্রবাসী সময়অসংসদীয় আচরণের ব্যবস্থা নেয়ার ক্ষমতা রয়েছে স্পিকারের

অসংসদীয় আচরণের ব্যবস্থা নেয়ার ক্ষমতা রয়েছে স্পিকারের

সংসদের কার্যপ্রণালী বিধি অনুযায়ী যেকোনো সাংসদের অসংসদীয় আচরণের জন্য উপযুক্ত ব্যবস্থা নেয়ার ক্ষমতা দেয়া আছে স্পিকারকে। বিশৃঙ্খল আচরণের জন্য সংশ্লিষ্ট সাংসদকে অধিবেশন থেকে বেরও করে দিতে পারেন স্পিকার, যদিও এ ক্ষমতা প্রয়োগের নজির নেই। এখন পর্যন্ত মাইক বন্ধ আর সতর্ক করে দেয়ার মধ্যে দিয়েই স্পিকার তার ক্ষমতা সীমাবদ্ধ করে রেখেছেন।

সংসদের বাজেট অধিবেশন এবার আলোচিত ও সমালোচিত বিরোধী ও সরকার দলীয় সাংসদদের অশালীন ও অসংসদীয় বক্তব্যের জন্য। স্পিকারের বারবার সতর্কবাণী সত্ত্বেও এই চর্চা বন্ধ হয়নি। পরস্পরের প্রতি কাঁদা ছোঁড়াছুড়ির এই প্রতিযোগিতা চলতে থাকায় সাংসদদের অসংসদীয় ও অশালীন বক্তব্য থেকে বিরত রাখার জন্য রুলিং দেন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী।

সংসদের কার্যপ্রণালী বিধির ২৭০ ধারায় বলা আছে, কোনো সদস্য বক্তৃতা দেয়ার সময় :

১. বাংলাদেশের যেকোনো অংশে কোনো আইন আদালতের বিচারাধীন কোনো বিষয় উল্লেখ করিবেন না।

২. রহিত করার প্রস্তাব ব্যতিত সংসদে কোনো সিদ্ধান্ত সম্পর্কে কটাক্ষপাত করিবেন না।

৩. সংসদ পরিচালনা বা কার্যপ্রবাহ সম্পর্কে কোনো অপ্রীতিকর ভাষা ব্যবহার করিবেন না।

৬. কোনো আক্রমণাত্মক, কটু বা অশ্লীল ভাষা ব্যবহার করিবেন না।

৭. দেশদ্রোহিতামূলক, রাষ্ট্রবিরোধী বা মানহানিকর উক্তি করিবেন না।

৮. কোনো বিতর্ক, অসৌজন্যমূলকভাবে কোন সদস্যের উল্লেখ করিবেন না এবং সংসদ-বিগর্হিত কথা বলিবার অনুমতি তাকে দেয়া হইবে না।

সাংসদরা বিধি অনুসরণ না করলে স্পিকারের সংসদীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কিছু ক্ষমতা ও কাজ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে :

১. স্পিকারের বিবেচনামতে কোন সদস্য গুরুতর বিশৃঙ্খল আচরণ করিলে স্পিকার তাহাকে অবিলম্বে সংসদ হইতে চলিয়া যাইতে আদেশ দান করিতে পারিবেন এবং এইরূপে আদিষ্ট হইবামাত্র সংশ্লিষ্ট সদস্য সংসদ হইতে চলিয়া যাইবেন এবং সেইদিনের সময়ের জন্য অনুপস্থিত থাকিবেন।

২. কোনো সদস্য স্পিকারের কর্তৃত্বকে অমান্য করিলে এবং বারবার ও ইচ্ছাকৃতভাবে সংসদের কাজে বাধা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে বিধিসমূহের অপব্যবহার করিলে স্পিকার তাহার নাম উল্লেখ করিতে পারিবেন।

৩. সংসদে গুরুতর বিশৃঙ্খলা উদ্ভব হইলে স্পিকার প্রয়োজনবোধে তৎকর্তৃক নির্ধারিত সময়ের জন্য বৈঠক স্থগিত করিয়া দিতে পারিবেন।

তবে স্পিকারের পর্যাপ্ত ক্ষমতা থাকলেও এক্ষেত্রে সতর্কতা ও রুলিং-এর মধ্যেই তিনি তা সীমিত রেখেছেন। এখন পর্যন্ত কোনো সদস্যকে অধিবেশন থেকে চলে যাওয়ার আদেশের ক্ষমতা প্রয়োগ করেননি।

– See more at: http://www.desh.tv/news/details/id/12278#sthash.4aXZ7KNI.dpuf

আরও পড়ুন

সর্বশেষ