সোমবার, এপ্রিল ২২, ২০২৪
প্রচ্ছদজাতীয়নির্জীব বিএনপি : ঘর গোছাতেই মেয়াদ পার

নির্জীব বিএনপি : ঘর গোছাতেই মেয়াদ পার

bnp

রাজনীতিতে অনেকটা নির্জীব হয়ে পড়েছে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি। মেয়াদের শেষ ছয় মাসে যেখানে বিরোধী দলের আন্দোলনের তোপে সরকার থাকবে দিশেহারা, সেখানে বিরাজ করছে উল্টো চিত্র। সরকারের নির্যাতনের দাপটের কাছে দেখা যাচ্ছে অসহায় এক বিএনপিকে। চার বার ক্ষমতায় আসা এ দলটিকে সাংগঠনিক দুর্বলতার কারণে এখন মনে হচ্ছে যেন ‘প্রাণহীন’। কেন্দ্র থেকে তৃণমূলে নেতাকর্মীদের মাঝে বিরাজ করছে হতাশা। আন্দোলন ও আগামী নির্বাচন নিয়েও নেই কোনো পরিকল্পনা। মামলার জালে ফেলে শীর্ষ নেতৃত্বকে বেকায়দায় ফেলে সরকার আছে আয়েশিভাবে। অনেক নেতাকে কারাবন্দি করায় সর্বত্র বিরাজ করছে আতঙ্ক।
অভিযোগ রয়েছে, সরকারি নিপীড়নের মুখে অনেক নেতা দলীয় কার্যক্রম থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছেন। আর কিছু নেতার কার্যক্রমে দল আরও বিপদের মুখোমুখি হচ্ছে। সব মিলিয়ে গত সাড়ে চার বছরেও ঘর গোছাতে পারেনি বিএনপি। সারা দেশে নেতাকর্মীরা হাইকমান্ডের দিকে তাকিয়ে থাকলেও ঢাকায় বিএনপির নাজুক অবস্থানের কারণে কর্মসূচিতে আত্মবিশ্বাস পাচ্ছেন না বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। তার ব্যাপক জনপ্রিয়তা থাকলেও সঠিক সিদ্ধান্ত, কর্মসূচি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের অভাবে তা কাজে আসছে না।
নানা ইস্যুতে সরকারি খড়গের মুখে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোটের পালেও এখন হাওয়া নেই। আন্দোলনের মাঠে দিকভ্রান্ত হয়ে ছোটাছুটি করছে জোটটি।
এ পরিস্থিতিতে জনমনে প্রশ্ন-ঘুরে দাঁড়াতে পারবে কি বিএনপি তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, জনগণের এই প্রশ্ন উদ্রেক হওয়াটাই বিএনপির ভরসা। নির্যাতনের স্টিমরোলার ভেদ করে জনমতের ওপর ভর করেই ঘুরে দাঁড়াতে হবে এ দলটিকে। ‘জাতীয়তাবাদী আদর্শ’ নামটির জন্য হলেও বিএনপি বেঁচে যাবে বলে মনে করেন তারা।
আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. তালুকদার মনিরুজ্জামান মনে করেন, নেতৃত্বে ‘নমনীয়তা’ বিএনপিকে সাংগঠনিকভাবে ব্যাপক দুর্বল করে ফেলেছে। সাম্প্রতিক কিছু সংবাদ দেখে মনে হয়েছে, শীর্ষ নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া বেশকিছু কেন্দ্রীয় নেতার ওপর আস্থা রাখতে পারছেন না। এজন্য তৃণমূল ও কেন্দ্রের মধ্যে সিদ্ধান্তগ্রহণ, কর্মসূচি প্রণয়ন ও তা বাস্তবায়নে মালা গাঁথা সম্ভব হচ্ছে না। তার মতে, এ দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে মামলা-গ্রেফতারকেই বিরোধী দল মোকাবিলার প্রধান পথ হিসেবে বেছে নিয়েছে সরকার। সম্প্রতি বিরোধী দলকে অনেকটা ঘরে অবরুদ্ধ করার কৌশল নিয়েছে সরকার। এসব মোকাবিলা করতে বিএনপি নেত্রীকে আরও কৌশলী হয়ে নেতাদের ভেতর আস্থা ফেরাতে হবে। কেন্দ্র ও তৃণমূলে সেতুবন্ধন তৈরি করে সামনে এগুতে হবে।
দিশেহারা বিএনপি : মামলা-গ্রেফতারের তোপে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন বিএনপির নেতারা। দায়িত্ব নিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলার জন্য নেতা খুঁজে পাচ্ছেন না চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কারামুক্ত হলেও অসুস্থ অবস্থায় বিদেশে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। যিনিই মুখপাত্রের দায়িত্ব পাচ্ছেন, তাকেই গ্রেফতার করছে সরকার। এই তালিকায় দলের যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ও সালাউদ্দিন আহমেদ কারাগারে আছেন। জামিন পেলেও কারাফটক থেকে বারবার তাদের গ্রেফতার করা হচ্ছে। দলের যুগ্ম মহাসচিব আমানউল্লাহ আমান, মোহাম্মদ শাহজাহান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেনসহ গুরুত্বপূর্ণ অনেক নেতা জামিন পেলেও সরকারের ‘শ্যোন অ্যারেস্ট’-এর তালিকা থেকে ছাড়া পাচ্ছেন না। অসুস্থ অবস্থায় দিনাতিপাত করছেন স্থায়ী কমিটির সদস্য তরিকুল ইসলাম ও নজরুল ইসলাম খান। কারামুক্ত হয়েও সোচ্চার হচ্ছেন না স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস ও ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান। বার্ধক্যের অসুস্থতায় রাজনীতিতে নির্জীব স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আর এ গনি, এম শামসুল ইসলাম ও ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার।
বিএনপির এই দিশেহারা অবস্থায় বিএনপির রাজনীতির মাঠ দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ ও ভাইস চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকা। আন্দোলনের মাঠে ‘সমঝোতায় প্রাধান্য দেয়া’ এই দুই নেতার ওপর আস্থা পাচ্ছেন না দলের অধিকাংশ নেতাকর্মী। সার্বিক পরিস্থিতিতে বেগম জিয়াও কঠোর কর্মসূচিতে না গিয়ে কৌশলী অবস্থান নিয়েছেন। তবে আশার খবর হলো, দীর্ঘদিন প্রবাসে চিকিৎসাধীন বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সম্প্রতি রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ।
ঘর গোছাতে পারছে না বিএনপি : এক-এগারো সরকারের প্রবল চক্রান্তের পর গত সাড়ে চার বছরেও সাংগঠনিকভাবে দলকে শক্তিশালী করতে পারেনি বিএনপি। ২০০৯ সালের ডিসেম্বরে কাউন্সিলে বিশাল বহরের জাতীয় নির্বাহী কমিটি গঠন করা হলেও দায়িত্বপ্রাপ্তদের অধিকাংশই এখন নিষ্ক্রিয়। উপদেষ্টা, সম্পাদক ও অনেক সদস্যই কেবল পদ নিয়ে রেখেছেন, নেই রাজপথ কিংবা দলের কোনো কার্যক্রমে।
সবচেয়ে আশঙ্কার বিষয় হলো, সাড়ে চার বছরে বেশকিছু সাংগঠনিক জেলার পূর্ণাঙ্গ কমিটি দিতে পারেনি দলটি। রাজনীতিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইউনিট ঢাকা মহানগরেই বিএনপির পূর্ণাঙ্গ কমিটি নেই। নামে একটি আহ্বায়ক কমিটি থাকলেও তার অধিকাংশ যুগ্ম আহ্বায়কই নিষ্ক্রিয়। ঢাকার কোনো থানায় নেই কোনো পূর্ণাঙ্গ কমিটি, যে কারণে রাজধানীতে বিএনপির অবস্থান অত্যন্ত নাজুক। এমন দুরবস্থার কারণেই বেগম জিয়া ঘোষণা দিয়েও অনেক কর্মসূচি স্থগিত করতে বাধ্য হচ্ছেন। বিশেষ করে মতিঝিলে হেফাজতে ইসলামের কর্মীদের পাশে দাঁড়াতে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী দলের নেতাকর্মীদের নির্দেশ দিলেও তা কার্যকর হয়নি। সে পরিস্থিতিতে সরকারি বাহিনী সেখানে গণহত্যা চালায় এবং পুরো রাজনীতিকে সরকার নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয়।
আল্টিমেটামে সময় পার : বিরোধী দলের আন্দোলন মোকাবিলায় যেখানে সরকার সময় পার করার কৌশল গ্রহণ করে, সেখানেও বিএনপি পুরো উল্টো। সরকারের পাঁচ বছরের মেয়াদ কাটাতে দেয়ার কৌশল নিয়েই আন্দোলনের সময় পার করার চিন্তাভাবনা নিয়ে এগুচ্ছে তারা। কয়েক দফা আল্টিমেটাম ও বিচ্ছিন্ন কর্মসূচিতেই সাড়ে চার বছর পার করেছে বিএনপি। এই সময় পার করার চিন্তা-ভাবনা পুরো তৃণমূলে ছড়িয়ে পড়ায় কর্মসূচিতে কঠোরতা দেখানো সাধারণ নেতাকর্মীরাও আগ্রহী নয়। আর সাম্প্রতিক দিশেহারা পরিস্থিতিতে সময় পার করার কৌশলকেই প্রাধান্য দিয়ে এগুচ্ছে বিএনপি।
আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার ক্ষমতায় এলে এক-এগারোতে ভঙ্গুর বিএনপি ঘুরে দাঁড়াতে ২০০৯ সালের ডিসেম্বরে কাউন্সিল করে। তখন সারা দেশের সাংগঠনিক পরিস্থিতি পর্যালোচনার পর একটি রিপোর্ট তৈরি করে তা দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে দেয়া হয়। এরপর দেড় বছরে ইস্যুভিত্তিক কিছু কর্মসূচি পালন করে দলটি। ২০১১ সালের ৩০ জুন নির্বাচনকালীন সরকার হিসেবে তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা বাতিল করে সরকার। আর তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা পুনর্বহালের দাবি নিয়ে রাজপথে সোচ্চার হন বিরোধীদলীয় নেতা ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। সারাদেশে রোডমার্চ শেষে দাবি বাস্তবায়নে গত বছরের ১২ মার্চ পর্যন্ত সরকারকে সময় বেঁধে দেন তিনি। তিন মাসের ওই আলটিমেটামের ফাঁকে ১২ মার্চের সমাবেশ সফল করার প্রস্তুতি ছাড়া দলকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করার তেমন কোনো উদ্যোগ নেয়নি বিএনপি।
সরকারের পাহাড়সম বাধার মুখেও গত বছর ১২ মার্চ খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে ঢাকায় বিশাল জনসমুদ্র নামলেও সে গণজাগরণ তেমন স্থায়ী হয়নি। ওই সমাবেশ থেকে দ্বিতীয় দফায় সরকারকে ১০ জুন পর্যন্ত আবার তিন মাসের আলটিমেটাম দেয়া হয়। একই গতিতে এগিয়ে চলে বিএনপি। সরকারবিরোধী আন্দোলন জোরদার করতে গত বছর ১৮ এপ্রিল বিএনপির নেতৃত্বে ১৮ দলীয় জোট আত্মপ্রকাশ করে। কিন্তু সাংগঠনিক দুর্বলতার সুযোগে বিএনপির জনপ্রিয় নেতা ও কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এম ইলিয়াস আলীকে গুম করা হয়। ওই ইস্যুতে গড়ে ওঠা আন্দোলনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ শীর্ষ নেতারা মাসাধিককাল কারাভোগ করেন। সাংগঠনিক শক্তি বাড়ানো ছাড়াই কেবল সারাদেশে কেন্দ্রীয় নেতাদের পাঠিয়ে কিছু প্রস্তুতি সভার মাধ্যমে ১১ জুনের সমাবেশ সফল করা হয়। ওই সমাবেশ থেকে ১৮ দলীয় জোট নেত্রী খালেদা জিয়া তৃতীয় দফায় সরকারকে আলটিমেটাম দেন।
জুন, জুলাই ও আগস্টে রোজা এবং ঈদের মধ্যে তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা পুনর্বহাল না করলে কঠোর আন্দোলনের হুশিয়ারি দেন তিনি। সর্বশেষ গত ৪ এপ্রিল মতিঝিলে সমাবেশ করে সরকারকে ৪৮ ঘণ্টার চূড়ান্ত আলটিমেটাম দেন বেগম জিয়া। তবে মতিঝিল গণহত্যার মাধ্যমে সরকার সে আলটিমেটাম সামাল দেয়। এরপর থেকে আর ঘুরে দাঁড়াতে পারছে না বিএনপি।
হ-য-ব-র-ল অঙ্গদল : বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের পরিস্থিতি মূল দলের চেয়েও খারাপ। পারস্পরিক অনাস্থা-অবিশ্বাসে বিএনপির মূল শক্তি এ সংগঠনগুলো মেরুদণ্ড সোজা করতে পারছে না। গত মাসে ছাত্রদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হলেও তেমন কোনো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না বিএনপির ‘ভ্যানগার্ড’খ্যাত এ সংগঠনের। যুবদল সভাপতি সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল কারাবন্দি আছেন। মামলার আসামি হয়ে আত্মগোপনে আছেন যুবদল সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আলম নিরব, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি হাবিব-উন নবী খান সোহেল, সাধারণ সম্পাদক মির সরাফত আলী সপু ও সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল বারী বাবুসহ অনেক নেতা।
জাসাস, মুক্তিযোদ্ধা দল ও তাঁতীদল দায়সারা কর্মসূচি পালন করছে। তাদের সাংগঠনিক শক্তি অত্যন্ত নাজুক। ওলামা, মৎস্যজীবী ও কৃষক দলের অস্তিত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলেন খোদ বিএনপির সিনিয়র নেতারাই।
তৃণমূলের সঠিক চিত্র নেই কেন্দ্রে : সারাদেশে বিএনপির সাংগঠনিক চিত্র সম্পর্কে ভালোভাবে ওয়াকিবহাল নন স্বয়ং চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। তিনি কয়েকজন নেতাকে একাধিকবার দায়িত্ব দিয়েও এ ধরনের কোনো রিপোর্ট সংগ্রহ করতে পারেননি। ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও দফতরের দায়িত্বে নিয়োজিত যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বারবার কারাবন্দি হওয়ায় সংগঠনের সাধারণ চিত্র সম্পর্কেও বেগম জিয়া এখন তেমন তথ্য পাচ্ছেন না। এ কারণে আন্দোলন কর্মসূচি প্রণয়ন ও তা বাস্তবায়নে সময়োচিত পদক্ষেপ নিতে পারছে না বিএনপি।
এ বিষয়ে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান এ প্রতিবেদককে বলেন, ২০০৯ সালের পর তৃণমূলের সঠিক চিত্রসংবলিত কোনো রিপোর্ট চেয়ারপারসনকে দেয়া হয়নি। এরপর ইস্যুভিত্তিক ছোটাছুটি করে কিছু কমিটি গঠন ও প্রস্তুতির মাধ্যমে কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। দলকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করার কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি। এতে জেলা ও উপজেলায় বিবদমান গ্রুপিং সমস্যার কোনো সমাধান হয়নি; বরং পারস্পরিক দূরত্ব আরও বাড়ছে। আবার গত কাউন্সিলে নানা প্রভাবে জাতীয় নির্বাহী কমিটি থেকে শুরু করে উপজেলা পর্যন্ত বিএনপির নেতৃত্বে কিছু অসাংগঠনিক (অরাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব) ঢুকে পড়েছে। তাদের দেশনেত্রীর সভামঞ্চ কিংবা স্থানীয় রাজনীতির অগ্রভাগে দেখে সাধারণ কর্মীরা ত্যাগের রাজনীতির স্পৃহা হারিয়ে ফেলে। তিনি বলেন, আন্দোলনে নিউক্লিয়াস থাকতে হয়, অভিজ্ঞতা থাকতে হয়। দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে চলমান আন্দোলনে মধ্য ও নিম্নভাগে এ দুয়েরই অভাব রয়েছে। আর এসব কারণেই আন্দোলনের গতি তীব্র হয়ে ওঠার পরও নিমিষে ঠাণ্ডা হয়ে যাচ্ছে। ব্যাপক জনজোয়ার সৃষ্টির পরও ভাটায় ঢেউ থেমে নিস্তব্ধ হয়ে যাচ্ছে। সরকার এ সুযোগ নিয়ে গ্রেফতার-নির্যাতনের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। আবদুল্লাহ আল নোমানের মতে, আগামী নির্বাচনেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বিএনপিতে। দলীয় প্রার্থী মনোনয়ন ও নির্বাচনী প্রস্তুতির ক্ষেত্রে তৃণমূলের পৃথক চিত্র কেন্দ্রে থাকতে হবে।
আদর্শিক ঐক্য নেই তৃণমূলে : খালেদা জিয়া ঘোষিত সব কর্মসূচিতে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা নিয়ে যোগ দিচ্ছেন তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। তবে দীর্ঘ দ্বন্দ্ব ও বিভক্তির জেরে ঐক্যবদ্ধ শক্তি পায় না অধিকাংশ জেলা ও উপজেলা বিএনপি। দুই অংশে মিছিল বা সমাবেশ আয়োজন করায় জুনিয়র কর্মীরা ‘দলীয় আদর্শ’কেন্দ্রিক ঐক্যবদ্ধ হতে পারে না। ‘বড় ভাই’য়ের রাজনীতিচর্চার ধারায় সময়ের আবর্তে ব্যক্তিগত স্বার্থই কর্মীদের রাজনৈতিক জীবনের প্রধান উপজীব্য হয়ে উঠেছে। আর এজন্যই চলমান দুর্দিনে কর্মসূচিতে রাজপথে কর্মী খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।
হামলায় আহত কিংবা মামলা ও গ্রেফতারের পর বেশিরভাগ নেতাকর্মীর খোঁজখবর না রাখাকেও কর্মীদের নিষ্ক্রিয়তার কারণ বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। দায়িত্বশীলদের প্রণোদনা না পাওয়ায় রাজপথের কর্মসূচিতে কর্মীদের মনোবল এখন শূন্যের কোটায়।
এদিকে অনেক কেন্দ্রীয় নেতা বিভিন্ন জেলা-উপজেলা পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ পদ দখল করে রেখেছে। তারা এলাকার কর্মসূচিতেও থাকেন না, কেন্দ্রের ঝুঁকিপূর্ণ কর্মসূচিতেও তাদের দেখা মেলে না। নেতাদের এমন ফাঁকিবাজিতে সাধারণ কর্মীরা আন্দোলনে উৎসাহ পান না। আবার সিনিয়র নেতাদের মধ্যে বিরাজমান পারস্পরিক দূরত্বের ছাপও পড়ছে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মধ্যে।
বিএনপির বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও দলের মুখপাত্র শামসুজ্জামান দুদু বলেন, সরকার চূড়ান্ত স্বৈরাচারী স্টাইলে বিএনপিকে ধ্বংসের পাঁয়তারা করছে। সভা-সমাবেশ করার অধিকার খর্ব করে অঘোষিত জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে। সিনিয়র নেতাদের কারাবন্দি করা হয়েছে। জামিন পেলে ফের তাদের গ্রেফতার করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী নিজেই বক্তৃতা-বিবৃতিতে দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে গ্রেফতারের হুমকি দিচ্ছেন। তিনি বলেন, বিএনপি জনগণের দল। জাতীয়তাবাদী চিন্তার কেন্দ্রস্থল এ দলকে নিশ্চিহ্ন করার ষড়যন্ত্র আগেও সফল হয়নি, এবারও হবে না।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ