বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ২৫, ২০২৪
প্রচ্ছদটপবাজেট নিয়ে অনেকে ভুল ব্যাখ্যা দিচ্ছেন - অর্থমন্ত্রী

বাজেট নিয়ে অনেকে ভুল ব্যাখ্যা দিচ্ছেন – অর্থমন্ত্রী

Finance-ministerনতুন অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটকে উচ্চাভিলাষী বাজেট ও তুষ্টির বাজেট বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত। তিনি বলেন, বাজেট নিয়ে অনেকে ভুল ব্যাখ্যা দিচ্ছেন। বাজেট উচ্চাভিলাষী হলেও বাস্তবায়ন যোগ্য। এর আগেও বাজেট উচ্চাভিলাষী ছিল। কিন্তু কোনো কিছুর দাম বাড়েনি। বাজেট ছিল জনতুষ্টিমূলক।

শুক্রবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।
 অর্থমন্ত্রী বলেন, কাগজ শিল্পে দশীয় উৎপাদন এখন অনেক। তাই বিদেশ থেকে স্বস্তা দামে কাগজ আমদানির মানে হয় না। তিনি বলেন, সিমকার্ডের ওপর কম কমানোর ফলে রাজস্ব আয়ে কোনো হানি হবে না।
মুহিত বলেন, `কেউ কেউ বলছেন ব্যয় পরিকল্পনা কি? আমি বলবো আগে যা ছিল তাই আছে। আগে যা ছিল সেভাবেই চলবে। গত বাজেট থেকে এ বাজের খুব বেশি বড় না।’ তিনি বলেন, শিক্ষকদের এমপিওভুক্তি নিয়ে জুলাইয়ে আলোচনা হবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) একে খন্দকার, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, গভর্নর ড. আতিউর রহমান, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান গোলাম হোসেন, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব আবুল কালাম আজাদ, পরিকল্পনা সচিব ও ড. শামসুল আলম প্রমুখ।
বৃহস্পতিবার ২০১৩-১৪ অর্থবছরের জন্য ২ লাখ ২২ হাজার ৪৯১ কোটি টাকার প্রস্তাবিত বাজেট পেশ করা হয়েছে। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত বৃহস্পতিবার সংসদে জাতীয় সংসদে এ বাজেট পেশ করেন।
বাজেটে মোট রাজস্ব আয় ধরা হয়েছে ১ লাখ ৬৭ হাজার ৪৫৯ কোটি টাকা, যা জিডিপি’র ১৪ দশমিক ১ শতাংশ। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড সূত্রে আয় ধরা হয়েছে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৯০ কোটি টাকা, যা জিডিপি’র ১১ দশমিক ৪ শতাংশ। এছাড়া, এনবিআর বহির্ভূত সূত্র থেকে কর রাজস্ব ধরা হয়েছে ৫ হাজার ১২৯ কোটি টাকা, যা জিডিপির ০.৪ শতাংশ। কর বহির্ভূত খাত থেকে রাজস্ব আয় ধরা হয়েছে ২৬ হাজার ২৪০ কোটি টাকা, যা জিডিপির ২.২ শতাংশ।
প্রস্তাবিত বাজেটে অনুন্নয়নসহ অন্যান্য খাতে মোট ১ লাখ ৫৬ হাজার ৬২১ কোটি টাকা এবং বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে ৬৫ হাজার ৮৭০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। প্রস্তাবিত বাজেটে সার্বিক বাজেট ঘাটতি ৫৫ হাজার ৩২ কোটি টাকা দেখানো হয়েছে, যা জিডিপির ৪.৬ শতাংশ । এ ঘাটতি অর্থায়নে বৈদেশিক সূত্র থেকে ২১ হাজার ৬৮ কোটি টাকা এবং অভ্যন্তরীণ সূত্র থেকে ৩৩ হাজার ৯৬৪ কোটি টাকা সংস্থানের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। অভ্যন্তরীণ উৎসের মধ্যে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ২৫ হাজার ৯৯৩ কোটি এবং সঞ্চয়পত্র ও ব্যাংক বহির্ভূত খাত থেকে ৭ হাজার ৯৭২ কোটি টাকা সংগ্রহের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। প্রস্তাবিত বাজেটে জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৭.২ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রা ৭ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রস্তাবিত বাজেটে মানব সম্পদ খাত- শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ সংশ্লিষ্ট খাতে মোট বরাদ্দের ১৯.৬ শতাংশ, ভৌত অবকাঠামো খতে ৩০.১৮, সার্বিক কৃষি ও পল্লী উন্নয়ন খাতে ১৪.৫০, যোগাযোগ খাতে ৮.৬৬, বিদ্যুৎ ও জ্বালানী খাতে ৫.১ শতাংশ। এছাড়া সাধারণ সেবা খাতে ২২.৪৫ শতাংশ, সরকারি বেসরকারি অংশীদারিত্ব (পিপিপি) ৩.২৯, পরিশোধ বাবদ ১২.৪৭ শতাংশ, ঋণদান ও অন্যান্য খাতে অবশিষ্ট ৮.৪৪ শতাংশ বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রস্তাবিত বাজেটে,ভৌত অবকাঠামো, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিজ্ঞান- প্রযুক্তি ও কৃষি খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে। এরপরই বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের অবস্থান।
আরও পড়ুন

সর্বশেষ