রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের অনিশ্চয়তার মধ্যেও বাংলাদেশের অর্থনীতি ভালোভাবে চলছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। বৃহস্পতিবার (৩১ আগস্ট) দুপুরে সচিবালয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের কনফারেন্স রুমে যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের সঙ্গে সৌজন্য সভা শেষে এ কথা বলেন অর্থমন্ত্রী৷ মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে কোন ব্যবসাটা ব্যর্থ হয়েছে, আপনারা বলেন? এ দেশে বিদেশি বিনিয়োগ যে কোনো খাতেই আসুক না কেন, কোনটা ব্যর্থ হয়েছে যে টাকা নিয়ে খালি পকেটে তারা চলে গেছেন?
বাংলাদেশকে নজিরবিহীন সুযোগের দেশ হিসেবে উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘এখানে বিনিয়োগ করে কখনও লোকসান করবেন না। লোকসানের কোনো সুযোগ নেই। এখন যদি বিনিয়োগ বা ব্যবসা না করে টাকা পকেটে নিয়ে ঘোরেন, সেটি ভিন্ন জিনিস। কিন্তু বাংলাদেশ ব্যবসায়ের জায়গা।
মার্কিন ব্যবসায়িক প্রতিনিধিরা কোন কোন খাতে বিনিয়োগ আগ্রহী, এ বিষয়ে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, তারা সবক্ষেত্রে বিনিয়োগ করতে চান—কৃষি, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও মোটরগাড়ি। মার্কিন ব্যবসায়ীদের ১২ বছর ট্যাক্স হলিডে চাওয়ার প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘যা যা প্রয়োজন, চাহিদা আগে তুলে ধরেছি। মেড ইন বাংলাদেশ—এই ধারণাটি তারা যদি সম্প্রসারিত করেন, তাহলে বাংলাদেশের উন্নতি হবে, যারা বিনিয়োগ করবেন, তাদেরও ভালো হবে। এখন এই ধারণাটার মধ্য দিয়ে আমরা দেশে দ্রুততার সঙ্গে কর্মসংস্থান খাতে উন্নয়ন করতে চাই।
মূল্যস্ফীতির হার নিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘যখন আমরা দায়িত্বভার নিয়েছিলাম, তখন মূল্যস্ফীতির হার কত ছিল? সে সময়ে এ হার ছিল ১২ দশমিক ৩ শতাংশ। সেখান থেকে একবার আমাদের ৯ শতাংশ হয়েছে। সেখান থেকে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ হয়েছে। এই দুরবস্থার মাঝেও মূল্যস্ফীতি ১২ দশমিক ৩ শতাংশ থেকে ৭ দশমিক ৫ শতাংশের মধ্যে রয়েছে।
সাংবাদিকদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, জিনিস পত্রের দাম বাড়ে। দামতো বাড়ছে? কারণ যুদ্ধ যে শুরু হয়েছে, সেটি কবে শেষ হবে কেউ জানে না। এই অনিশ্চয়তার মধ্যে কত দিন আপনি অর্থনীতি হিসেব মতো সময় মতো চালাবেন। তারপরও অনেক ভালো চলছে। সবাই বলে বাংলাদেশ সবার থেকে ভালো চলছে। আর আপনারা খারাপটা কামনা করেন কেন। ভালো কামনা করেন।
অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, যারা এখানে দেখা করতে এসেছেন, তারা বিভিন্ন শিল্প ও বিনিয়োগ খাত থেকে এসেছেন। তাদের কেউ ইলেকট্রনিক্স, কেউ বিদ্যুৎ খাত এবং কেউ বীমা খাতে কাজ করেন। তারা সবাই চাচ্ছেন, বাংলাদেশে কী করে তাদের ব্যবসা আরও সম্প্রসারিত করবেন। তাদেরকে আমরা সেই সুযোগের কথা বলেছি। এখানে অনেক সুযোগ আছে।




