করোনাভাইরাসের মহামারির কথা মাথায় রেখে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও ব্যবসাবান্ধব একটি বাজেট পেশের দাবি জানিয়েছেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি’র সভাপতি খলিলুর রহমান। আসন্ন ২০২১-২০২২ অর্থবছরের নতুন বাজেট ঘোষণায় সংশ্লিষ্টদের কাছে আসন্ন বাজেটে এই তিন বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব পাবে এমনটাই প্রত্যাশা করেন খলিলুর রহমান। প্রবীণ এই ব্যবসায়ী নেতার দাবি, আগামী বাজেটে জনগণের সু-স্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে হবে। করোনা মহামারি প্রতিরোধে অন্তত ৩০ কোটি ডোজ টিকা আহরণের ব্যবস্থা করতে হবে। মহামারি প্রতিরোধে পাড়া-মহল্লায় করোনা পরীক্ষার মেশিন ও টেস্টিং কিট পৌঁছাতে হবে। প্রতিটি মানুষকে মাস্ক পড়তে বাধ্য করতে ওয়ার্ড বা ইউনিয়ন পর্যায়ে ন্যূনতম ১০ জন ভোলান্টিয়ার নিয়োগ দিতে হবে এবং মাস্ক ছাড়া চলাচলকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করে আইন প্রয়োগ ও শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। খলিলুর রহমান দেশের শিক্ষা খাত প্রসঙ্গে বলেন, এক বছরের বেশি সময় ধরে দেশের সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ। তাই স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করে সপ্তাহে ৫ দিন অন লাইন শিক্ষা কার্যক্রম চালু রেখে অন্তত একদিন ৩ ঘণ্টা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা রাখার ব্যবস্থা করতে হবে এবং দূরত্ব বজায় রেখে পরীক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে। বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী রপ্তানি শিল্পের উন্নয়নে কস্ট অব ডুয়িং বিজনেস বিবেচনায় আনার দাবি জানান মেট্রোপলিটন চেম্বর সভাপতি খলিলুর রহমান। এবিষয়ে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক জরিপ অনুযায়ী কস্ট অব ডুয়িং বিজিনেস ইনডেক্স তালিকায় ব্যয় বহুল ১৯০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৬৮তম। যা দেশের রপ্তানি উন্নয়নে একটি বড় প্রতিবন্ধকতা। এ থেকে উত্তরণে তিনি বলেন, কাস্টম কার্যক্রম সহজীকরণ, বন্দরের খরচ কমানো এবং শিপিং কর্মকাণ্ডে শিপিং এজেন্টদের আইন মানায় বাধ্য করার বিকল্প নেই। এর মাধ্যমে দেশে কস্ট অব ডুয়িং বিজিনেজ কমবে। যা বিদেশী বিনিয়োগকারীদের আকর্ষণ করবে।
রপ্তানিতে বাধা সৃষ্টিকারী এইচএস কোড প্রসঙ্গে খলিলুর রহমান বলেন, রপ্তানি উন্নয়নে একটি বড় প্রতিবন্ধকতা রপ্তানির কাঁচামাল বন্ড লাইসেন্সে অন্তর্ভূক্তকরণ। রপ্তানি আদেশ আসলে দৌড়তে হয় বন্ড কর্তৃপক্ষের অফিসে, কাঁচামাল বন্ডে অন্তর্ভূক্ত করার জন্য। অন্যথায় পণ্য ছাড় দেয় না কাস্টম। অথচ বন্ড কমিশনারেটে গিয়ে কাঁচামাল অন্তর্ভূক্তি করা সময় সাপেক্ষ কাজ। এ সংকট নিরসনে তিনি বলেন, যেহেতেু আমদানিকারক সবকিছু কাস্টম পাশ বহিতে লিখে চালান ছাড় করে তাই রপ্তানিকারকের রপ্তানি আদেশ মতে এইচএস কোড গণ্য করে চালান দিলে রপ্তানি উন্নয়নে এই প্রতিবন্ধকতা দুর হবে।
তিনি আরো দাবি করেন, গত ১ যুগ সবাই বে-টার্মিনালের কাথ শুনছে। কিন্তু এর বাস্তব অগ্রগতি খুবই সামান্য। তাই আসন্ন বাজেটে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ব এই বে-টার্মিনালের জন্য বিশেষ বরাদ্ধ রাখার দাবি জানাচ্ছি। এছাড়া আয়করে কর্পোরেট ট্যাক্স কমাতে হবে। ট্যাক্স রিটার্ন দাখিলে সাথে সাথে প্রাপ্তি স্বীকার পত্র এবং অনলাইনে কর প্রদান সার্টিফিকেট দেয়ার নিয়ম চালু করতে হবে। জনগণ যে পরিমাণ কর দেয় এবং সরকারি কোষাগারে যে পরিমাণ কর জমা পড়ে তার মাঝে সিস্টেম লসের বিষয়টির প্রতি বিশেষ নজরদারী বাড়াতে হবে। স্ব-প্রণোদিত কর প্রদানের সীমা ৩ লাখের পরিবর্তে ৪ লাখ এবং প্রবীণ করদাতার বেলায় ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকার পরিবর্তে ৪ লাখ ৬০ হাজার টাকা করতে হবে।
আয়করের ধারায় টার্নওভার এর উপর দশমিক শুন্য ৬ শতাংশ মিনিমাম ট্যাক্স ধার্য্য করা হয়েছে। যা কমিশনভিত্তিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের উপর ধার্য্য করা হলে তা অযৌক্তিক হবে। তাই টার্নওভার ট্যাক্স ধার্য্যরে বিষয়টির বিশদ ব্যাখ্যা প্রয়োজন। এছাড়া রপ্তানির জন্য আমদানিকৃত কাঁচামাল ব্যতীত অপ্রয়োজনীয় আমদানির উপর সকল প্রকার কর/ভ্যাট আরোপ করা অত্যাবশ্যক। পণ্যের উপর ট্রেড ভ্যাট চালু করে এনবিআর দ্বৈতনীতি অবলম্বন করেছে। এতে খুচরা এবং পাইকার ব্যবসায়ীরা হয়রানির শিকার হচ্ছে ও পণ্যের মূল্যও বৃদ্ধি পাচ্ছে। আসন্ন বাজেটে এই ট্রেড ভ্যাট বিষয়ে সহায়ক নির্দেশনা রাখার দাবি করা হয়েছে।




