করোনা মহামারির কারণে বৈশ্বিক উন্নয়ন কাজে আকস্মিক বাধা এলেও সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে গতি সঞ্চার হয়েছে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, উন্নয়ন একটি ধারাবাহিক এবং চলমান প্রক্রিয়া। গত দুই/তিন মাসে কিছু প্রকল্পের সীমিত আকারে কাজ হয়েছে। তবে এখন সকল কাজ চলছে পুরোদমে। আজ ৫ জুলাই জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায় সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন থেকে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় তিনি এসব কথা বলেন।
ওবায়দুল কাদের বলেন, প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার প্রকল্প পদ্মাসেতুর নির্মাণ কাজ শত প্রতিকূলতার মাঝেও থেমে থাকেনি। ইতোমধ্যে ৩১টি স্প্যান স্থাপন করা হয়েছে, দৃশ্যমান হয়েছে চার হাজার ৬৫০ মিটার। এছাড়া ইতোমধ্যেই স্থাপিত স্প্যান বা ট্রাসের উপর যানবাহন চলাচলের স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, ৩০ জুন পর্যন্ত মূল সেতুর শতকরা ৮৯ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। কাজ শেষ হয়েছে শতকরা ৭৩ ভাগ। প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি ৮০ দশমিক ৫০ শতাংশ। সড়ক পরিবহন মন্ত্রী বলেন, জাইকার অর্থায়নে নতুন প্রজন্মের স্বপ্নের প্রকল্প মেট্রোরেল রুট-৬ এর কাজ এগিয়ে চলেছে। প্রকল্পে কর্মরত জনবলের কোভিড-১৯ পরীক্ষা শেষে তাদের কর্মে নিয়োগ করা হচ্ছে। প্রকল্প এলাকায় অবস্থান নিশ্চিত করতে নির্মাণ করা হচ্ছে আবাসিক স্থাপনা।
তিনি আরও বলেন, ইতোমধ্যে দুটি ফিল্ড হসপিটাল নির্মাণ কাজ এগিয়ে চলেছে। স্থাপন করা হয়েছে রেললাইন। একসেট ট্রেন নির্মাণকাজ জাপানের কারখানায় সম্পন্ন হয়েছে। আরো চার সেট নির্মাণ করা হচ্ছে। করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হলে জাপান থেকে জলপথে ট্রেনগুলো নিয়ে আসা হবে।
সেতুমন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যেই স্টেশন নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। করোনার শুরুর দিকে কিছুটা থমকে গেলেও এখন পুরোদমে চলছে মেট্রোরেলের কাজ। স্বাস্থ্যবিধি মেনে নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করেই প্রকল্প এগিয়ে নেয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর তলদেশ দিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেল নির্মাণ কাজ এগিয়ে চলেছে। করোনাকালে থেমে থাকেনি নদীর খনন কাজ। ইতোমধ্যে দুই দশমিক ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি টিউবের দুই দশমিক ৩ কিলোমিটার খনন শেষ হয়েছে। সম্প্রতি টানেলের অন্যান্য কাজেও পূর্ণ গতি ফিরে এসেছে। এ প্রকল্পের এ পর্যন্ত অগ্রগতি শতকরা ৫৬ ভাগ।
ওবায়দুল কাদের বলেন, ঢাকা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হতে ঢাকা টু চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুতুবখালী পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণ কাজ গতি ফিরে পেয়েছে। করোনার আঘাতে প্রথমদিকে কাজ সীমিত পর্যায়ে চললেও এখন গতি পেয়েছে। ইতোমধ্যেই এ প্রকল্পের সংকট দূর হয়েছে। তিনি বলেন, গাজীপুর থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত বাস র্যাপিড ট্রানজিট প্রকল্পের কাজ থেমে নেই। সীমিত পরিসরে চলছে। চীনা ঠিকাদারের কিছুটা সমস্যা দেখা দেওয়ায় ইতোমধ্যে আমরা চীনা দূতাবাসের সহযোগিতা চেয়েছি। তবে এ প্রকল্পের আওতায় গাজীপুর-ঢাকা করিডোরের দ্রুত মেরামত কাজ শেষ করা হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, আপনারা জেনে আনন্দিত হবেন যে ঢাকা-সিলেট হাইওয়ের চার লেনে উন্নীতকরণের সকল বাধা পেরিয়ে আশার মুখ দেখেছে। সম্প্রতি এডিবি এ প্রকল্পে অর্থায়নে চূড়ান্ত সম্মতি জ্ঞাপন করেছে। এডিবির নিজস্ব বাজেটে অর্থায়ন অনুমোদন পেয়েছে। বর্তমানে নকশা প্রণয়নের কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে। শিগগিরই প্রকল্পটি একনেকে উপস্থাপন করা হবে।




