শনিবার, অক্টোবর ২৪, ২০২৬
প্রচ্ছদদেশজুড়েকক্সবাজারের করোনা আক্রান্তদের চিকিৎসায় ২টি আইসোলেশন ও টিট্রমেন্ট সেন্টার চালু করলো রেড...

কক্সবাজারের করোনা আক্রান্তদের চিকিৎসায় ২টি আইসোলেশন ও টিট্রমেন্ট সেন্টার চালু করলো রেড ক্রিসেন্ট

কক্সবাজার জেলার উখিয়া উপজেলার বিভিন্ন আশ্রয় ক্যাম্পে বসবাসরত মিয়ানমারের নাগরিক ও ক্যাম্প এলাকার স্থানীয় বাসিন্দাদের করোনা চিকিৎসার সুবিধার্থে ২টি আইসোলেশন ও টিট্রমেন্ট সেন্টার চালু করেছে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি। বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি পরিচালিত এই দুইটি আইসোলেশন সেন্টারে মোট ৮৪ টি বেড রয়েছে, যার মধ্যে ক্যাম্প-২ তে অবস্থিত সেন্টারে ৩০টি ও ক্যাম্প-৭ এ অবস্থিত সেন্টারে ৫৪টি বেড রয়েছে। গত ২১ জুন রবিবার থেকে ৩০ শয্যা বিশিষ্ট ক্যাম্প-২ তে অবস্থিত আইসোলেশন সেন্টারে আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলে ক্যাম্প কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন। এছাড়াও এই দুটি সেন্টারের জন্য ২৪ জন ডাক্তার, ৪০ জন নার্সসহ মোট ২০০ জনের অধিক কর্মকর্তা-কর্মচারি ইতোমধ্যে কোভিড-১৯ চিকিৎসায় বিশেষ প্রশিক্ষণ শেষ করেছেন।

বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির কক্্রবাজার জেলায় চলমান পপুলেশন মুভমেন্ট অপারেশন কর্মসূচির আওতায় ও ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব রেড ক্রস এন্ড রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিজসহ অন্যান্য পার্টনার ন্যাশনাল সোসাইটির সহায়তায় এই আইসোলেশন ও টিট্রমেন্ট সেন্টার (ক্যাম্প- ৭ এর বিপরীতে বিডিআরসিএস ফিল্ড হাসপাতালের সংলগ্ন এবং অন্যটি ক্যাম্প ২-ইস্ট এ) নির্মাণ করা হয়।

কক্সবাজার জেলা ও ক্যাম্প এলাকায় করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েই চলেছে। কক্সবাজার জেলায় বর্তমানে মোট কোভিড-১৯ রোগীর সংখ্যা প্রায় ২,০০০। এর মধ্যে ক্যাম্প কমিউনিটিতে সরকারি হিসেবে সংখ্যা ৪০ জনের মতন, যার মধ্যে এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ৩ জন। এমন পরিস্থিতিতে এই আইসোলেশন ও ট্রিটমেন্ট সেন্টারগুলো করোনা ভাইরাসের প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি করোনা আক্রান্তদের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করবে এবং অনেক মানুষের জীবন বাঁচাতে অবদান রাখবে বলে মনে করে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি।

সৈয়দ আলী নাসিম খলিলুজ্জামান, প্রধান, পপুলেশন মুভমেন্ট অপারেশন (পিএমও), কক্সবাজার, এই বিষয়ে বলেন, পর্যাপ্ত পরীক্ষা ও চিকিৎসার ব্যবস্থা না থাকায় এখানে করোনা আক্রান্তের প্রকৃত সংখ্যা নিরূপণ করাটা এখন সম্ভব হয়ে উঠছে না। তিনি বলেন, “প্রচÐ ঘনবসতিপূর্ণ বসবাসের পরিবেশ, অতীতের রোগ ও অসুস্থতা, পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতার যথেষ্ট সুযোগের অভাব এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবাকেন্দ্রের সঙ্কটের কারণে ক্যাম্প কমিউনিটির বাসিন্দারা এই ভাইরাসে আক্রান্তের সর্বোচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছেন।

এই অঞ্চলের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা করোনা মহামারির আগে থেকেই বাড়তি চাপের মধ্যে ছিলো। সম্মিলিত মানবিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট কক্সবাজারে ইতোমধ্যে ছোটো-বড় মিলিয়ে প্রায় ১২ টি স্বাস্থ্য সেবাকেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেছে। প্রতিদিন এসব কেন্দ্র থেকে স্থানীয় ও ক্যাম্প কমিউনিটির অসংখ্য মানুষ স্বাস্থ্যসেবা পেয়ে থাকেন। তবে এত বিপুল জনগোষ্ঠীর চাহিদার বিপরীতে স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের বিষয়টিতে এখনও অনেক অসুবিধা ও শূণ্যস্থান রয়ে গেছে।

সাঞ্জিব কুমার কাফলে, আইএফআরসি’র কক্সবাজারস্থ অফিসের প্রধান বলেন,“প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবার ঘাটতি পূরণের অংশ হিসেবে এই দুটি নতুন ফিল্ড হাসপাতাল কাজ করে যাবে, এটা মনে রাখা গুরুত্বপূর্ণ যে ক্যাম্পে বসবাসকারী মানুষদের জন্য করোনাই একমাত্র রোগ নয়।” তিনি বলেন, “করোনার এই মহামারি মধ্যেও ডায়রিয়া, হাম, হাঁফানিসহ শ্বাস-প্রশ্বাসের জটিলতাজনিত রোগের ঝুঁকিও বিদ্যমান রয়েছে, যা সামগ্রিকভাবে এই অঞ্চলের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উপরে ক্রমবর্ধমান চাহিদা সৃষ্টি করছে।” “এই মানুষগুলোর আগের যেকোনো সময়ের থেকে এখন বেশি সহায়তা দরকার, যা স্থানীয় জনগণ, বাংলাদেশ সরকার এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার মাধ্যমে সম্ভব।”

আরও পড়ুন

সর্বশেষ