শনিবার, আগস্ট ১৫, ২০২৬
প্রচ্ছদচট্রগ্রাম প্রতিদিনবেসরকারি হাসপাতালে কোন রোগীকে চিকিৎসা না দেন পরিনাম ভালো হবে না :...

বেসরকারি হাসপাতালে কোন রোগীকে চিকিৎসা না দেন পরিনাম ভালো হবে না : মেয়র

চট্টগ্রামের বেসরকারি হাসপাতালগুলোর চিকিৎসা সেবা নিয়ে স্বেচ্ছাচারিতা নিয়ে বারবার বলার পরও রোগী ভর্তি নিয়ে টালবাহানা করায় এবার ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন চট্টগ্রামের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন। শুধু ক্ষোভ প্রকাশই নয়, এসব ক্লিনিকের বিরুদ্ধে আর সময়ক্ষেপণ না করে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি। এই অভিযানে মেয়র সামনে থেকেই নেতৃত্ব দিতে চান বলে জানান করোনা মোকাবেলায় চট্টগ্রামে সরকারি গঠিত কমিটির প্রধান আ জ ম নাছির উদ্দিন৷৯ জুন বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্যসচিব ড. আহমদ কায়কাউসের সঙ্গ এক জুমের কনফারেন্সে চট্টগ্রামের  বেসরকারি হাসপাতাল মালিকদের প্রতি এ হুশিয়ারি দেন মেয়র।

মঙ্গলবার সকালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া বায়েজিদ থানা আওয়ামী লীগের সেক্রেটারি সগিরের মৃত্যুর ঘটনায় বেসরকারি হাসপাতাল মালিকদের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেন মেয়র আ জ ম নাছির। তিনি মুখ্য সচিবকে বলেন, ‘আজকে সকালে আমাদের থানা আওয়ামী লীগের এক সেক্রেটারি স্ট্রোক করেছিলেন। তাকে তিন চারটা হাসপাতালে নেওয়া হলেও কোনও হাসপাতালেই সিট খালি নেয় এমন অজুহাতে ভর্তি করায়নি। পরে যখন পার্কভিউ হাসপাতালে নেওয়া হলো তখন চিকিৎসকরা পরীক্ষা করে দেখেন তিনি আর বেঁচে নেই।

তিনি ক্লিনিক মালিকদের প্রতি হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘আপনাদের মা-বাবা চিকিৎসা না পেলে কেমন লাগবে। বেসরকারি হাসপাতাল গুলোতে কোভিড ও নন কোভিড রোগীদের চিকিৎসা নিয়ে তালবাহানা না করতে কঠোর হুশিয়ারি দিচ্ছি। এখন আর কোনও অনুরোধ করব না। তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। এই ব্যবস্থা নেওয়ার সময় আমি চট্টগ্রামবাসীর পক্ষ থেকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিব। আর সহ্য হচ্ছে না, তাদের স্বেচ্ছারিতা মেনে নেওয়া যায় না।’

এসময় প্রধানমন্ত্রীর মূখ্য সচিব সংক্রমক ব্যাধি আইন অনুযায়ী হাসপাতালগুলোর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন এবং সরকার গঠিত সার্ভিলেন্স টিমকে আরও তৎপর হওয়ার নির্দেশ দেন।

সিটি মেয়র বলেন, বারবার বলার পরও চট্টগ্রামে বেসরকারি হাসপাতালগুলো রোগী নিতে টালবাহানা করছে। কোন রোগী হাসপাতালে নিয়ে গেলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কোভিড বা নন কোভিডের সার্টিফিকেট খোঁজে। কিন্তু একজন মানুষ কিভাবে সাথে সাথে এই সার্টিফিকেট দিবে? তার পক্ষে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা দরকার। সার্টিফিকেট কোথেকে জোগাড় করবে? আগেতো অন্তত তাকে পরীক্ষার সুযোগ দিতে হবে। এছাড়া রোগী অন্যকোন রোগ নিয়েও তো ভর্তি হতে পারে। তাহলে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা কেন করছেন আপনারা?’

জুম কনফারেন্সে সংযুক্ত চট্টগ্রাম ক্লিনিক মালিক সমিতির সেক্রেটারি লিয়াকত আলীর উদ্দেশ্যে মেয়র নাছির আরও বলেন, আপনারাতো ফ্রিতে চিকিৎসা দিবেন না। টাকা নিয়ে চিকিৎসা দিচ্ছেন৷ বেসরকারি হাসপাতাল করার জন্য লাইসেন্স নিয়েছেন কি রোগীদেরকে মেরে ফেলতে৷ কয়েকদিন ধরে বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা না পেয়ে মারা যাওয়ার কথা শুনা যাচ্ছে। যা অত্যন্ত দুঃখজনক। আপনারা প্রনোদনা চাইবেন কিন্তু মানুষকে সেবা দিবেন না সেটা হয় না।

মেয়র বলেন, এই সভা শেষ সভা। আর কোন অনুরোধ হবে না। এবার অ্যাকশন শুরু হবে৷ যদি কোনো রোগী বেসরকারি হাসপাতালে কোন রোগী চিকিৎসা না পেয়ে মারা যায় বা আপনারা চিকিৎসা না দেন তবে এর পরিনাম ভালো হবে না। আমিই সামনে থেকে নেতৃত্ব দিব। এই জুম কনফারেন্সে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব, চট্টগ্রামের দায়িত্বপ্রাপ্ত সচিব, বিভাগীয় কমিশনার, বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক, সিভিল সার্জন, বিএমএ নেতৃবৃন্দসহ সংশ্লিষ্টরা যুক্ত ছিলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ