রাজধানীর ওয়ারীর বনগ্রামে ৬ বছরের শিশু সামিয়া আরফিন সায়মাকে ধর্ষণের পর হত্যার দায়ে হারুন-অর-রশিদের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। ৯ মার্চ ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক কাজী আব্দুল হান্নান এ রায় ঘোষণা করেন। হারুন ছিলেন এ মামলার একমাত্র আসামি। এদিন কারাগার থেকে আসামি হারুনকে আদালতে হাজির করা হয়। রায় ঘোষণা শেষে সাজার পরোয়ানা ইস্যু করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন বিচারক। রায়ে মামলার একমাত্র আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন সায়মার মা সানজিদা আক্তার ও বাবা আব্দুস সালাম। তারা এই রায় দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানান সরকারের কাছে।
এর আগে গত ৫ মার্চ রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামি পক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষে রায় ঘোষণার জন্য আজকের তারিখ নির্ধারণ করেন একই ট্রাইবুনাল। চলতি বছরের ২ জানুয়ারি ঢাকার ১ নম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক কাজী আব্দুল হান্নান আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। অভিযোগ গঠনের ৬৬ দিনের মাথায় এই মামলার রায় ঘোষণা করা হলো। গত বছরের ৩০ অক্টোবর আসামি হারুনকে একমাত্র আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) ওয়ারি জোনাল টিমের প্রধান আরজুন।
প্রসঙ্গত, গত বছরের ৫ জুলাই সন্ধ্যা থেকে শিশু সামিয়াকে তাদের বাসভবনে খোঁজ করে পাচ্ছিল না পরিবার। পরে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে ওই ভবনের নবম তলার ফাঁকা ফ্ল্যাটের ভেতরে তাকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা। খবর পেয়ে পুলিশ এসে সামিয়ার মরদেহ উদ্ধার করে। পরের দিন ৬ জুলাই সামিয়ার বাবা আব্দুস সালাম ওয়ারি থানায় মামলা করেন। ৭ জুলাই কুমিল্লা থেকে আসামি হারুনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে পাঠায়। ময়নাতদন্ত শেষে ঢামেক হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান সোহেল মাহমুদ বলেন, প্রাথমিকভাবে সায়মার শরীরে ধর্ষণের আলামত মিলেছে। ধর্ষণের পর তাকে গলায় রশি পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়। ময়নাতদন্তে তার যৌনাঙ্গে ক্ষতচিহ্ন, মুখে রক্ত ও আঘাতের চিহ্ন এবং ঠোঁটে কামড়ের দাগ দেখা যায়।




