বিশেষ প্রতিনিধিঃ (বিডি সময় ২৪ ডটকম)
রাজনৈতিক জীবনে বিভিন্ন সময়ে রুচিহীন বক্তব্য এবং বেফাঁস মন্তব্য করায় প্রায়ই সমালোচিত হয়েছেন সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী। প্রায় দুই বছর ৮ মাস ধরে চলা মামলার বিভিন্ন ধাপে প্রসিকিউশন এমন কি ট্রাইব্যুনালের বিচারপতিদের উদ্দেশ্যেও নানা কটূক্তি করা ছাড়াও জড়িয়েছেন বাক-বিত-ায়। ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ আর কথাবার্তায় ট্রাইব্যুনালের এজলাসকক্ষেও আলোচিত-সমালোচিত হয়েছেন তিনি। সব মিলিয়ে সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর বিরুদ্ধে কি রায় হয় এ নিয়ে তরুণদের আগ্রহই বেশি বলে মনে করেন বিশ্লেষকদের কেউ কেউ।
ডোন্ট শো ইউর রেড আইজ : মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে তাঁর বিচার কার্যক্রমের শুরু থেকেই ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ ও বেফাঁস মন্তব্য করে আসছিলেন বিএনপির এই শীর্ষ নেতা। এছাড়াও বিভিন্ন সময় এজলাসের কাঠগড়ায় বসে বিকট শব্দে চিৎকার ও বিদ্রুপ করতে ছাড়েননি। ২০১২ সালের ১৫ মে সাকার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষে সাক্ষ্য দেন শিক্ষাবিদ অধ্যাপক আনিসুজ্জামান। সাক্ষ্য শেষে তাকে জেরার সময় দফায় দফায় ট্রাইব্যুনাল উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এক পর্যায়ে ট্রাইব্যুনালের প্রথম চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হক নাছিমকে লক্ষ্য করে সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী বলেন, ডোন্ট শো ইউর রেড আইজ যার বাংলা অর্থ দাঁড়ায়, ‘চোখ রাঙাবেন না’। সেদিন ট্রাইব্যুনাল সংক্ষিপ্ত একটি আদেশে তাকে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, আমরা শেষবারের মতো আপনাকে সতর্ক করলাম। ভবিষ্যতে যদি এ রকম করতেই থাকেন, তাহলে তাকে ছাড়াই বিচারকাজ চলবে।
ফাঁসিতো দেবেনই, পরোয়া করিনা : চলতি বছরের ১৭ জুন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ কে উদ্দেশ্য করে সাকা বলেন, আমাকে ফাঁসি তো আপনারা দেবেনই, আমি পরোয়া করি না। আমার বিচার হচ্ছে উত্তরাধিকার সূত্রে। তাই আমার চাচার (বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান) সঙ্গে আমার বাবা ফজলুল কাদের চৌধুরীর সম্পর্কও আমি আমার সাক্ষ্যে আনতে চাই। কে বঙ্গবন্ধু আর কে ফজলুল কাদের চৌধুরী- সেটাও আনতে চাই। সাক্ষ্য শুরুর আগে নিয়ম অনুসারে আদালতে শপথ নেয়ার বিধান থাকলেও তিনি শপথ নিতে অস্বীকৃতি জানান। এ সময় তিনি চিৎকার করে বলতে থাকেন, আমি একজন সংসদ সদস্য। আমি কেন এখানে শপথ নেবো?। পরে এক পর্যায়ে শপথ ছাড়াই সাক্ষ্য দিতে শুরু করেন সাকা চৌধুরী।
এক পর্যায়ে বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সাকা চৌধুরীকে বলেন, আমরা আপনাকে সুযোগ দেয়ার অনেক চেষ্টা করেছি। অনেক বেশি কথা বলার অভ্যাস আপনার রয়েছে। কারণ, আপনি অনেক বেশি জানেন। দয়া করে উত্তেজিত হবেন না। এ সময় উত্তেজনার জন্য ট্রাইব্যুনালের কাছে ক্ষমাও চান সাকা চৌধুরী।
উত্তেজিত ও অশ্লীল কথাবার্তা : বিএনপির সর্বোচ্চ ফোরামের এই নেতা প্রায় উত্তেজিত হয়ে অশ্লিল কথাবার্তা উচ্চারণ করেন। চলতি বছরের ১৯ জুন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ তার নিজের পক্ষে তৃতীয় দিনের মতো সাফাই সাক্ষ্য দিচ্ছিলেন। সাফাই সাক্ষ্যে অভিযোগের সঙ্গে সম্পর্কহীন ও অপ্রাসঙ্গিক বক্তব্য দেয়ার বিরোধীতা করে প্রসিকিউশন। এতে উত্তেজিত হয়ে ওঠে সাকা। তার ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণের জবাবে প্রসিকিউশনের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় ট্রাইব্যুনালের পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এসময় সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায় ট্রাইব্যুনালে বিচার কার্যক্রম।
সেদিন সাকা চৌধুরী এমন কিছু অশ্লীল শব্দ ব্যবহার করেছেন যা প্রকাশের অনুপযোগী। এছাড়া তিনি প্রসিকিউশনকে ধমক দিয়ে বলেন, দেড় বছরে আমার বিরুদ্ধে ৪১ জন সাক্ষী আনা হয়েছে। আর আমাকে একা সহ্য করতে পারছেন না। এতো কিছুর পরও প্রসিকিউশনকে কটূক্তি করতে ছাড়েননি সাকা। তিনি প্রসিকিউটরদের উদ্দেশ্যে বলতে থাকেন, চার সিটি নির্বাচনে হেরেছেন। এখনও শিক্ষা হয়নি ?। এ সময় তার একজন আইনজীবীকেও বলতে শোনা যায়, স্যার, এটাকে বলে হোয়াইট ওয়াশ।




