বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ২৯, ২০২৬
প্রচ্ছদঅর্থ ও বানিজ্য সময়কৃষকের মধ্যে ব্যাংকিং সেবা গ্রহণের প্রবণতা বাড়ছে

কৃষকের মধ্যে ব্যাংকিং সেবা গ্রহণের প্রবণতা বাড়ছে

কৃষকদের মধ্যে ব্যাংকিং সেবা গ্রহণে প্রবণতা দিনদিন বাড়ছে। সরকারের উদ্যোগে দশ টাকা দিয়ে খোলা হিসাবে দুস্থ ও নিম্ন আয়ের মানুষের টাকা জমছে ব্যাংকে। রাষ্ট্রায়ত্ত আটটিসহ বিভিন্ন ব্যাংকে এমন ১ কোটি ৯০ লাখ ২৩ হাজার ৭৪৮টি হিসাব খোলা হয়েছে, যার মধ্যে কৃষকের হিসাব ৯৮ লাখ ৮৬ হাজার ৮৪৭টি। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, এ পর্যন্ত এই একাউন্টে জমা হয়েছে ৩০৩ কোটি টাকা।

বিভিন্ন ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, সহজে হিসাব খোলা এবং পরিচালনায় কোন ধরনের চার্জ না থাকায় ব্যাংকিং সেবা পেতে আগ্রহ বাড়ছে নিম্ন আয়ের মানুষের। ফলে ব্যাংক সুবিধার আওতায় এসেছে অগণিত নিম্ন আয়ের মানুষ। আগে ব্যাংক খাতের বড় ভোক্তা ছিল দেশের সচ্ছল বা মধ্যবিত্ত লোকেরা। দুস্থ বা নিম্ন আয়ের বড় অংশই ছিল আর্থিক সেবা খাতের বাইরে। তাদের ব্যাংকিং সেবার আওতায় আনতে সরকার নানা সার্কুলার জারি করে। নেয়া হয় বিশেষ ব্যবস্থায় হিসাব খোলার কার্যক্রম। ন্যূনতম ১০ টাকা, ৫০ টাকা এবং ১০০ টাকা জমা দিয়ে এসব হিসাব খোলার সুযোগ রাখা হয়। সর্বনিম্ন জমার বাধ্যবাধকতাও তুলে দেয়া হয়। এসব হিসাবে জমা অর্থের ওপর মুনাফার হার অন্য হিসাবের চেয়ে বেশি দিতে বলা হয়। ফলে এসব হিসাব খোলার প্রবণতাও বেড়েছে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য মতে, দেশের মোট জনসংখ্যার ১২ দশমিক ৯০ শতাংশ অতিদরিদ্র। গ্রামাঞ্চলে অতিদরিদ্র মানুষের জীবনযাপনে সহায়তা ও আপদকালীন কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে দৈনিক মজুরি ভিত্তিতে কর্মসংস্থান কর্মসূচি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এসব হিসাবের সুবিধাভোগীদের মধ্যে কৃষক, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির ভাতাভোগী, মুক্তিযোদ্ধা, ক্ষুদ্র জীবনবীমা পলিসি গ্রহীতা, অতিদরিদ্র উপকারভোগী, অতি-দরিদ্র মহিলা উপকারভোগী, ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচির সুবিধাভোগী, ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দুস্থ পুনর্বাসনের অনুদানপ্রাপ্ত ব্যক্তিবর্গ, ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মী, তৈরি পোশাকশিল্পে কর্মরত শ্রমিক, চামড়া ও পাদুকাশিল্প-কারখানায় কর্মরত শ্রমিক, ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দুস্থ পুনর্বাসনের অনুদানপ্রাপ্ত ব্যক্তিবর্গ, স্কুলের শিক্ষার্থী, কর্মজীবী পথশিশু-কিশোর, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট থেকে অনুদানপ্রাপ্ত দুস্থ ব্যক্তি, আইলাদুর্গত ব্যক্তি, সব ধরনের প্রতিবন্ধীরা রয়েছে। উল্লিখিত মানুষের ব্যাংকিং সেবার আওতায় আনতে কাজ করছে সরকারি ৮ ব্যাংক। এগুলো হচ্ছে সোনালী, অগ্রণী, জনতা, রূপালী, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, কৃষি ব্যাংক ও রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত কৃষকের হিসাব খোলা হয়েছে ৯৮ লাখ ৮৬ হাজার ৮৪৭টি। এছাড়া সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি খাতে ৫০ লাখ ৯২ হাজার ৪৫৩টি, অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচি খাতে ২৬ লাখ ৮ হাজার ৪৮৪টি, মুক্তিযোদ্ধা খাতে ২ লাখ ৮ হাজার ৭৩১টি, সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীর ১০ হাজার ৫২টি, তৈরি পোশাকশিল্পে কর্মরত শ্রমিকের হিসাব ২ লাখ ৮৩ হাজার ৪৭৪টি, ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচির সুবিধাভোগীর ৪৭ হাজার ৫৫০টি, এলএসবিপিসি প্রকল্পভুক্ত কারিগরের ৪ হাজার ২৯৩টি, ক্ষুদ্র জীবনবীমা পলিসি গ্রহীতার ১ লাখ ১৬ হাজার ৮১৭টি, দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের ১ লাখ ৯৩ হাজার ৮৬৩টি, দুস্থ পুনর্বাসনের অনুদানভোগীদের ১ হাজার ৪২৩টি, ফুড ও লাইভলিহুড সিকিউরিটি প্রকল্পের ৬২ হাজার ৯৩৭টি এবং অন্যান্য খাতে ৫ লাখ ৬ হাজার ৮২২টি হিসাব খোলা হয়েছে। এসব হিসাবের মধ্যে বেশিরভাগ হিসাবই খোলা হয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত ৮ ব্যাংকে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ