ডেস্ক রিপোর্ট (বিডি সময় ২৪ ডটকম)
স্বস্তিতে নেই পুলিশ। কখনও জামায়াত-শিবির, আবার কখনও শ্রমিক আন্দোলন দমাতে দিশেহারা তারা। নির্দিষ্ট কোনো এলাকা নয়, বলা চলে সারা দেশে এখন পুলিশের কর্মসূচির সিংহভাগ থাকে জামায়াত আর শ্রমিক দমনে।
আজ দেশের প্রায় ২৫টি এলাকায় পুলিশকে ব্যস্ত রেখেছে জামায়াত শিবির। তাদের কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসুচী অনুযায়ী দেশব্যাপী চলছে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ। সাতক্ষীরা, চাঁদপুর, চট্রগ্রাম, সিলেট, দিনাজপুর, নাটোর, ঝিনাইদহসহ আরও কয়েকটি জায়গায় জামায়াত-শিবির ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। সিলেট এবং রাজশাহীতে পুলিশকে এক পর্যায়ে পিছু হটতে দেখা গেছে। স্বরাষ্ট্র এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এলাকা চাদঁপুরেও পুলিশের সাথে সংঘাতে লিপ্ত হয় জামায়াত শিবির।
এসব সংঘাতে আহত হচ্ছে ঊভয় পক্ষই। পুলিশ আহত হওয়ার পাশাপাশি তাদের পরিবহনগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে মারমুখি জামায়াত-শিবিরের কর্মীদের হাতে।
এদিকে সোমবার দেশব্যাপী গার্মেন্টস শ্রমিক বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। ঢাকামুখী অধিকাংশ মহাসড়ক শ্রমিক অবরোধের কবলে পড়ে। ফলে যাত্রীবাহী বাস ও পণ্য পরিবহনে ব্যবহৃত গাড়িকে রাজধানীতে আসতে বেশ বেগ পেতে হয়েছে।
সাভারের আহত এক পুলিশ সদস্য জানান, জামায়াত সামলাতেই আমরা দিশেহারা। অপরদিকে, গার্মেন্ট শ্রমিকরা মনে করে পুলিশ হলো মালিকদের দালাল। তাই শ্রমিকদের আক্রোশ পুলিশের ওপর একটু বেশিই।
সোমবার খোদ রাজধানীতেও হয়েছে শ্রমিক বিক্ষোভ। রাজধানীর বনানী ও নাবিস্কো, গাজীপুর, সাভার ও টঙ্গীতে সকাল থেকে পোশাকশ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। এ সময় বিক্ষোভ, সংঘর্ষ, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও মহাসড়ক অবরোধের ঘটনা ঘটে। এতে রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়।
এ ছাড়া গাজীপুরের ভোগড়ায় এক কারখানার আনসার সদস্যদের অস্ত্র লুট করার চেষ্টা চালায় বিক্ষুব্ধ পোশাক শ্রমিকেরা। শ্রমিকরা পুলিশ এবং আনসার কাউকেই সহ্য করতে পারছে না। আট হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরির দাবিতে টানা অসন্তোষের মধ্যেই গাজীপুরের ভোগড়া বাইপাস এলাকায় একটি আনসার ক্যাম্পের রাইফেল লুট করে ভেঙে আগুনে পুড়িয়েছে শ্রমিকরা। এসময় শ্রমিকেরা প্রায় আটটি রাইফেল পুড়িয়ে দেয়। বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের হামলায় আহত হয়েছেন ওই ক্যাম্পের অন্তত পাঁচ আনসার সদস্য।




