মায়ের সহযোগী হয়ে পরিবারের হাল ধরার আগেই ঘাতক কাভার্ড ভ্যান কেড়ে নিল সোমার প্রাণ। মুহূর্তেই মাটি হলো একটি পরিবারের স্বপ্ন। আজ ১৬ জানুয়ারি সকাল ১০টার দিকে নগরীর কোতোয়ালী মোড়ে কাভার্ড ভ্যান চাপায় নিহত হন সোমা বড়ুয়া (১৮)।
নগরীর সরকারি সিটি কলেজের উচ্চ মাধ্যমিক বাণিজ্য বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী সোমা বড়ুয়ার মর্মান্তিক মৃত্যু কাঁদিয়েছে আপন-পর সবাইকে।
চান্দগাঁও থানার বাহির সিগন্যাল এলাকার বড়ুয়া পাড়ার রূপায়ন বড়ুয়ার মেয়ে সোমা বড়ুয়া। তিন বোনের মধ্যে সোমা সবার ছোট। ২০১৮ সালে নুরুল ইসলাম পৌর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাশ করে সিটি কলেজে ভর্তি হয়।
স্থানীয়রা জানান, সোমা বড়ুয়ার মা কুমকুম বড়ুয়া বোয়ালখালীর একটি স্বাস্থ্য কেন্দ্রে এমএলএস হিসাবে কাজ করে সংসার চালায়। পিতা রুপায়ন বড়ুয়া মানসিক রোগী হওয়ায় সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম মা কুমকুম বড়ুয়া। চাকরি করে বড় দুই মেয়েকে এইচএসসি পর্যন্ত লেখাপড়া করিয়ে বিয়ে দিয়েছেন। ছোট মেয়ে সোমাকে নিয়ে অনেক আশা ছিল পরিবারের সদস্যদের।
ছোট বেলা থেকে সোমা ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলত। সবসময় সবার সাথে হাসি খুশিতে মেতে থাকতো। পরিবারের অস্বচ্ছলতার কারণে সে অনেকবার চেয়েছে সেও চাকরি করে মায়ের সাথে সহযোগী হবে। কিন্তু মায়ের একটাই কথা- ‘আগে লেখাপড়া শেষ করো, তারপর অন্য চিন্তা।’
মায়ের এ কথা স্বত্ত্বেও কলেজে ভর্তির পর থেকে মা এবং পরিবারকে সহযোগিতা করতে চাকরির সন্ধান করে আসছিল সে। কিন্তু তার সে আশা পূরণ হওয়ার আগেই চলে গেলেন না ফেরার দেশে। ঘাতক কাভার্ড ভ্যান কেড়ে নিলো সোমার জীবন, চুরমার করে দিলো পরিবারের স্বপ্ন।
সোমার প্রতিবেশী চাচা উৎপল বড়ুয়া বলেন, সোমা ছোট বেলা থেকে ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলতেন। বাড়ির সবার প্রিয় ছিল মেয়েটি। কখনো কারো সাথে খারাপ আচরণ করেনি। সবার সাথে মধুর ব্যবহার করে মন জয় করে চলতো। সংসারের অবস্থা তেমন ভালো না হলেও সে লেখাপড়ায় অনেক ভালো ছিল। এইচএসসি শেষ করে পরিবারের হাল ধরার ইচ্ছাও ছিল তার। কারণ ছোট বেলা থেকে বাবা মানসিক প্রতিবন্ধি, আর মা বোয়ালখালী গিয়ে চাকরি করে তাদের মানুষ করছে। তাই সেও মায়ের সহযোগী হয়ে পরিবারের হাল ধরার স্বপ্ন ছিল। কিন্তু তা আর হলো না।




