ব্রেকিং নিউজ

চাঁদপুরে নিজ বাড়ি থেকে একই পরিবারের চার সদস্যের মরদেহ উদ্ধার

চাঁদপুর সদর উপজেলায় নিজ বাড়ি থেকে একই পরিবারের চার সদস্যের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতের মধ্যে রয়েছে ওই পরিবারের স্বামী-স্ত্রী ও দুই শিশু কন্যা। ১৭ ডিসেম্বর সকালে দেবপুর গ্রামের বড়হুজুরের বাড়ি থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়। প্রতিবেশীরা বড়হুজুরের ঘরে ঝুলন্ত মরদেহ দেখে থানায় খবর দিলে পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।

চাঁদপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাসিমউদ্দীন  ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, একই পরিবারের চারটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে ঘটনার কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পরে ময়নাতদন্তের জন্য চাঁদপুর সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হবে বলে জানান ওসি। নিহতরা হলেন- মাইনুদ্দীন (৩৫), তার স্ত্রী ফাতেমা বেগম (২৪), দুই শিশু কন্যা মিথিলা (৫) ও সিয়াম (১)।

চাঁদপুর সদর পুলিশ সুপার সার্কেল মো. জাহেদ পারভেজ জানান, ঘটনাটি হত্যা না আত্মহত্যা, তা এখনো বোঝা যাচ্ছে না। পুলিশ এসে ঘরের আঁড়ার সঙ্গে মাইনুদ্দীনের ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পায়। বাড়ির পাশের পুকুরে ফাতেমা বেগমের মরদেহ ভাসছিল। ঘরে দুই শিশুর মরদেহ পাওয়া যায়। মৃতদেহ উদ্ধার করে থানায় নেয়া হয়েছে।

নিহত মাইনুদ্দীনের মা ফিরোজা বেগম জানান, কয়েকদিন আগে তার পুত্রবধূ ফাতেমার কানের দুল হারিয়ে যায়। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কলহ দেখা দেয়। এরপর মাইনুদ্দীন চট্টগ্রামে তার কর্মস্থলে চলে যান। তখন ফাতেমার বাবা এসে তাকে নিজের বাড়ি মতলব দক্ষিণ উপজেলার করবন্দ গ্রামে নিয়ে যান। স্ত্রী কেন শ্বশুর বাড়িতে চলে গেছে, এ নিয়েও দু’জনের সঙ্গে ফোনে কথা কাটাকাটি হয়। মাইনুদ্দিনের বড় ভাই কালাম সরদার জানান, পারিবারিক কলহের জেরে ১৫ ডিসেম্বর সকালে চট্টগ্রাম থেকে বাড়িতে চলে আসেন মাইনুদ্দিন। এরপর শ্বশুর বাড়িতে গিয়ে স্ত্রীকে নিয়ে আসেন। সেখানেও দুইজনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়।

১৭ ডিসেম্বর ভোর ৪টার দিকে মাইনুদ্দীনের আরেক বড় ভাই মালয়েশিয়া প্রবাসী জসিম উদ্দিন মোবাইল ফোনে মা ফিরোজা বেগমকে ফোন দেন। তিনি মাকে জানান, মাঈনুদ্দীন তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে মারা যাবেন জানিয়ে নিজের, স্ত্রী ও সন্তানদের ভিডিও করে পোস্ট করেছেন রাতে। সেজন্য মাইনুদ্দীনের ঘরে গিয়ে তাদের দেখে আসার জন্যও মাকে বলেন জসিম। তখন ফিরোজা বেগম ও কালাম সরদার ওই ঘরে গিয়ে দরজা খুলে প্রথমে দুই শিশুকে লেপের নিচে মৃত পড়ে থাকতে দেখেন। মাইনুদ্দীনকে দেখেন ঘরের আড়ার সঙ্গে ফাঁস দেওয়া ঝুলন্ত অবস্থায়। তখন তারা চিৎকার করতে থাকলে বাড়ির লোকজন ছুটে আসে। খোঁজাখুঁজি করে বাড়ির পুকুরে ফাতেমার মরদেহ পাওয়া যায়। পারিবারিক কলহের জের ধরে দুই সন্তান ও স্ত্রীকে হত্যার পর স্বামী নিজেই আত্মহত্যা করেছেন বলে ধারণা করছে প্রতিবেশীরাও।

About bdsomoy