আওয়ামীলীগের নির্বাচনী ট্রেন চলতে শুরু করেছে। উত্তরবঙ্গ সফর শেষে এটি এখন বন্দর নগরী চট্টগ্রামের পথে। আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে ক্ষমতাসীন দল হিসাবে আওয়ামীলীগ সব ধরনের নির্বাচনী প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে। নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, তাদের নির্বাচনী কর্মকান্ড বেড়ে চলেছে। ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগ নিয়েছে এটিকে চ্যালেঞ্জ হিসাবে। সম্ভাব্য প্রার্থীরা শুরু করেছেন গণসংযোগ। প্রার্থীরা কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে ধর্ণা দিতে শুরু করেছেন। বিরোধী দলকে রাজনীতির মাঠে কোনঠাসা করে নিজেদের সাংগঠনিকভাবে গুছিয়ে নিতে আওয়ামী লীগ কাজ করে চলেছে। তারই ধারাবাহিকতায় আওয়ামীলীগের নির্বাচনী ট্রেন এবার আসছে চট্টগ্রামে। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ২২ সেপ্টেম্বর শনিবার আওয়ামীলীগের এই টিম চট্টগ্রামের উদ্যোশে রওনা দিবে। আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের নেতৃত্বে এই টিমে থাকছেন প্রায় ডজনখানেক কেন্দ্রীয় নেতা। এদের মধ্যে রয়েছেন যুগ্ম সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক এনামুল হক শামীম, ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাসান মাহমুদ, উপ প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আমিনুল ইসলাম, উপ দফতর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া। তবে শেষ মুহুর্তে আরো কয়েকজন নেতা দলে অন্তর্ভূক্ত হতে পারেন বলেও জানা গেছে।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডকে আরও গতিশীল করছে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নির্বাচনী বহরটি ২২ সেপ্টেম্বর সকালে ঢাকা থেকে সড়কপথে চট্টগ্রামে আসবেন। পথিমধ্যে কুমিল্লা ও ফেনীতে পথসভা করবেন। একইদিন বিকেলে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড স্কুল মাঠে পথসভা শেষে নগরের সার্কিট হাউজে রাত্রিযাপন করবেন। পরদিন ২৩ সেপ্টেম্বর সকালে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী ও লোহাগাড়ায় পৃথক পথসভা শেষে কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেবেন দলের শীর্ষ নেতারা। কক্সবাজার জেলায় চকরিয়া ও রামুও পৃথক দু’টি পথসভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দুই মেয়াদে আওয়ামী লীগ সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড জনসাধারণকে জানানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারের এসব উন্নয়নকাজ জনসাধারণকে প্রচারের জন্য আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের একটি বহর সড়ক পথে কুমিল্লা, ফেনী ও চট্টগ্রাম হয়ে কক্সবাজারে যাবেন। পথিমধ্যে কুমিল্লা ও ফেনীতে পথসভা হবে। চট্টগ্রামের উত্তরে একটি (সীতাকুণ্ডে) এবং দক্ষিণে ২টি (কর্ণফুলী-লোহাগাড়া) পথসভা হবে। এছাড়া লোহাগাড়ায় প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল জয়নাল আবেদিনের একটি অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার পর আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় বহরটি কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হবেন।
এ সফরের উদ্দেশ্য জানতে চাইলে আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এনামুল হক শামীম বলেন, এ সফরের মধ্য দিয়ে আমরা দল ও জনগণকে বার্তা দিতে চাই আওয়ামীলীগ নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত। আওয়ামীলীগ সরকারের বিগত দিনের উন্নয়ন কর্মকান্ড তুলে ধরা। পাশাপাশি দলের নেতাকর্মীদের মাঝে ঐক্য সুদৃঢ় করা।
ইতোপূর্বে উত্তরবঙ্গ সফর করেছিল আওয়ামীলীগের নির্বাচনী ট্রেন। সারাদেশে পর্যায়ক্রমে আওয়ামীলীগের নির্বাচিনী ট্রেন সফর করবে। রাজনৈতিক কর্মসূচি হিসাবে এটিকে নির্বাচনী ট্রেন নামে আখ্যা দিয়েছে দলটি। তারই ধারাবাহিকতায় আওযামীলীগের নির্বাচনী ট্রেন চট্টগ্রাম সফর করছে।
আওয়ামীলীগ দলীয় সুত্রে জানা গেছে, নির্বাচনী টিম ২২ সেপ্টেম্বর সকালে ঢাকা থেকে সড়ক পথে যাত্রা শুরু করবে। প্রথমে কুমিল্লার দাউদকান্দি, পদুয়া, চৌদ্দগ্রাম, ফেনী, সীতাকুন্ডে পথসভা করে চট্টগ্রাম পৌঁছাবে। চট্টগ্রামে রাত্রি যাপন করে পরদিন কক্সবাজারের উদ্যোশে রওনা দেবে টিম। এসময় কর্ণফুলী উপজেলা, লোহাগাড়া চুনতি, চকরিয়া বাস স্ট্যান্ড, ঈদগাঁ কক্সবাজারে সমাবেশ করবে। পরদিন বিমানে টিম ঢাকায় ফিরবে।
তিন দিনের সফরে আওয়ামীলীগের এই টিম প্রায় ডজনখানেক পথসভা ও সমাবেশ করবে। তবে নির্ধারিত এই সূচির বাইরেও আরো কিছু অনির্ধারিত পথসভা হয়ে যেতে পারে বলে আওয়ামীলীগের সূত্র জানিয়েছে। চট্টগ্রামের আওয়ামীলীগ নেতারা মনে করছেন শেষ পর্যন্ত এটি বেড়ে যেতে পারে। প্রতিটি উপজেলা সদরে সভা করতে হতে পারে। আওয়ামীলীগের এই টিমকে প্রতিটি উপজেলায় অর্ভ্যথনা জানাতে ইতোমধ্যে স্থানীয় আওয়ামীলীগের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।
আওয়ামীলীগের উপ প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আমিনুল ইসলাম বলেন, তৃণমূলের কাছে এ বার্তা দেয়া যে, তাদের মধ্যে কোন বিভেদ থাকলে তা নিরসন করে নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে। আওয়ামীলীগ এখন নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত। চট্টগ্রামে কয়েকটি উপজেলায় নির্বাচনী টিম পথসভা করলেও এবার নগরীতে কোন কর্মসূচি রাখা হয়নি।




